📄 কুলক্ষণ ধারণা করা থেকে নিষেধাজ্ঞা
হযরত আবু হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কোন ছোঁয়াচে (সংক্রামক) রোগ নেই। কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই এবং হুতুমপেঁচা ও সফর মাসেও কোনো অশুভ নয়।
ছোঁয়াচে রোগ
বর্তমানে আমাদের সমাজে অনেক মানুষকে দেখা যায় তারা রোগীদের ছোঁয়াচে রোগ মনে করে দেখতে যান না। তাদের ধারণা হলো যে, তার শরীরে থাকা রোগ আমার মাঝে চলে আসবে। অথচ জাহেলিয়াতের যুগের মানুষেরা এ ধারণা করত যে, কেউ কোন অসুস্থ ব্যক্তির পাশে বসলে অথবা একত্রে খাওয়া দাওয়া করলে তার শরীরে থাকা রোগও তারমধ্যে সংক্রামিত হয়। আর তাই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এ ধারণাকে অবাস্তব বলে আখ্যায়িত করেছেন। অতএব আমাদের জন্য এমন ধারণা করা ঠিক নয়।
📄 হুতুম পেঁচা
হুতুম পেঁচাকে অশুভ নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করত। কারো ঘরের উপর বসলে তাদের নিকটাত্মীয়-স্বজনের মৃত হয়েছে বলে ধারণা করত। অথবা তার ঘর ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করত। এ দেখে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সমস্ত ধারণাকে অবাস্তব ও মনগড়া বলে অভিহিত করেছেন। তাই আমাদের জন্য এমন ধারণা করা ঠিক নয়।
📄 কুলক্ষণ
তৎকালে আরবদেশে নিয়ম ছিল যে, তারা যখন কাজ কিংবা ব্যবসা গমনের ইচ্ছা করত তখন কোন এক পাখিকে উড়িয়ে দিত। যদি পাখিটা ডানদিকে যেত তাহলে যাত্রা শুভ মনে করে সেখানে যেত। আর যদি বামে যেত তাহলে তখন অশুভ মনে করে আর যেত না। তাই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইসলামে কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই। সুতরাং উল্লেখিত মিথ্যা খেয়াল এবং ভিত্তিহীন ধারণা আর সংশোধন করা যেমন ঈমান-আমলের হেফাজতের জন্য আবশ্যক তেমনিভাবে দুনিয়ার নিয়ম নেজাম বহাল রাখার জন্যও আবশ্যক।
📄 তোমাকে শনির দশায় পেয়েছে
কারো কোন খারাপ অবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করার জন্য অনেকে বলে থাকে তোমাকে শনির দশায় পেয়েছে অথবা বলে তোমাকে শনিতে পেয়েছে। শরীয়ত গর্হিত একটি বিশ্বাস থেকে এ কথাটির উৎপত্তি। সৌরজগতের একটি গ্রহের নাম যা আল্লাহ তায়ালার হুকুমে চলে। কারো কোন ক্ষতি করার মতো শক্তি এর নেই। কিন্তু এসব জ্যোতিষ্ক পূজারীরা একক নক্ষত্রকে একক বিষয়ে শক্তিধর মনে করে। এর মধ্যে কারো ক্ষতি সাধনের জন্য শনি গ্রহণকে শক্তিধর মনে করে থাকে। সে হিসেবেই খারাপ অবস্থা কিংবা ক্ষতিকর পরিস্থিতির ক্ষেত্রে তারা বলে থাকে তোমাকে শনির দশায় পেয়েছে।
একজন মুসলমান হিসেবে এ কথাটি আমাদের মুখে উচ্চারিত হওয়া ঈমান-আকিদা বিরোধী। সুতরাং এ ভুল কথাটি পরিহার করা সকলের জন্য আবশ্যক।