📄 আযানের দুআর জন্য হাত তোলা
কোনো কোনো এলাকায় আযানের দুআর সময় হাত তোলার প্রচলন রয়েছে। কেউ কেউ আবার এটিকে জরুরিও মনে করে। এটি একটি ভুল প্রচলন। এর কোনো ভিত্তি নেই।
আযানের দুআর জন্য হাত তোলার কোনো নিয়ম নেই। দুআর জন্য হাত তোলার যে আদব তা এখানে প্রযোজ্য নয়। এটি মসজিদে প্রবেশ-বের হওয়ার, ওযুর পরের, ঘুমাতে যাওয়া-জাগ্রত হওয়ার, খাবারের আগের- পরের মাসনূন দুআসমূহের মত। এইসব ক্ষেত্রে যেমন হাত তুলতে হয় না, আযানের দুআর সময়ও হাত তুলতে হয় না। এটি একটি দলীলবিহীন কাজ। এ থেকে বিরত থাকা উচিত।
📄 উদাসীনতার সাথে দুআ করা
আমরা অনেক সময় দুআর জন্য হাত তোলার পরও উদাসীন থাকি। বিশেষ করে জুমার দিন বিষয়টি বেশি চোখে পড়ে। মসজিদ থেকে বের হচ্ছে আর হাঁটতে হাঁটতে হাত তুলে দুআ করছে। অর্থাৎ নিছক হাত তুলে আছে। এমনও দেখা যায় যে, হাত তুলে আছে আবার আরেকজনের সাথে গল্পও চলছে বা হাতের আঙ্গুল ফোটাচ্ছে ইত্যাদি। এ সবই উদাসীনতার সাথে দুআ করার শামিল, যা কখনোই উচিত নয়।
হাদীস শরীফে আছে, উদাসীনতার সাথে দুআ করলে আল্লাহ সে দুআ কবুল করেন না। হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দুআ কবুল করা হবে এই বিশ্বাস নিয়ে তোমরা দুআ কর। এবং জেনে রাখ, আল্লাহ তাআলা উদাসীন হৃদয়ের দুআ কবুল করেন না। (দ্র. জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৪৭৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৬৬৫৫; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১০/২২২)
আমাকে দুআয় শরীক হতেই হবে তা তো জরুরী নয়। আমার যদি দুআয় শরীক হওয়ার সময় না থাকে তাহলে শরীক হব না। কিন্তু আল্লাহর সামনে হাত তুলে আমার মনোযোগ থাকবে অন্যদিকে তা কখোনোই সমীচীন নয়।