📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 ওযুর পর সূরা ক্বদর পাঠ করা ও তার ফযীলত

📄 ওযুর পর সূরা ক্বদর পাঠ করা ও তার ফযীলত


লোকমুখে প্রসিদ্ধ, যে ব্যক্তি ওযুর পর একবার সূরা ক্বদর পাঠ করবে তাকে আল্লাহ ছিদ্দীকগণের অন্তর্ভুক্ত করবেন। যে দুইবার পাঠ করবে তাকে শহীদগণের অন্তর্ভুক্ত করবেন। যে তিনবার পাঠ করবে তার হাশর হবে নবীগণের সাথে।

আবার এভাবেও বলতে শোনা যায়, যে একবার পাঠ করবে তাকে রাতের ইবাদত ও দিনের রোযাসহ পঞ্চাশ বছর আমলের সাওয়াব দেয়া হবে। যে দুইবার পাঠ করবে তাকে আল্লাহ ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও মূসা আলাইহিস সালাম-এর সমপরিমাণ সওয়াব দান করবেন। আর যে তিনবার পাঠ করবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে, সে বিনা হিসাবে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।

এটি একটি ভিত্তিহীন বর্ণনা। কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে তা পাওয়া যায় না। ইমাম সাখাবী রাহ. বলেন-
قراءة سورة إِنَّا أَنزَلْنَاهُ عقب الوضوء لا أصل له . -
ওযুর পর সূরা ক্বদ্‌র পাঠ করা বিষয়ক বর্ণনার কোনো ভিত্তি নেই। - আলমাকাসিদুল হাসানা, পৃ. ৪৯৬, ১১৬২ নং বর্ণনার অধীনে; আলজাদ্দুল হাছীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীস, বর্ণনা নং ৫৩০

সুতরাং উপরোক্ত আমল ও তার ফযীলত ভিত্তিহীন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তা প্রমাণিত নয়। এটিকে ওযুর পরের আমল হিসেবে প্রচার করা বৈধ হবে না। তাছাড়া ওযুর পরে পড়ার জন্য বেশ কিছু ফযীলতপূর্ণ সহীহ দুআ রয়েছে। আমরা সেগুলো অনুযায়ীই আমল করব। সহীহ দুআসমূহ থেকে কয়েকটি নিচে দেয়া হল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُبْلِغُ أَوْ فَيُسْبِخُ الْوَضُوءَ ثُمَّ يَقُولُ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَدْخُلُ مِنْ أَيْهَا شَاءَ .
কেউ যখন ভালোভাবে ওযু করে এই দুআ পড়ে-
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ.
তখন তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হয়। সে যে কোনো দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে।-সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৩৪

বিশিষ্ট তাবিঈ সালিম ইবনে আবিল জা'দ রাহ. বলেন, আলী রা. বলেছেন, কেউ যখন ওযু করে তখন (ওযুর পরে) যেন বলে-
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ.
-মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, বর্ণনা নং ৭১১; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা নং ২০

এছাড়াও ওযুর পরের আরও কিছু সহীহ দুআ হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে। ভিত্তিহীন বিষয়ের প্রতি না ছুটে আমরা সহীহ দুআগুলোর উপর আমল করতে পারি।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আযানের দুআর জন্য হাত তোলা

📄 আযানের দুআর জন্য হাত তোলা


কোনো কোনো এলাকায় আযানের দুআর সময় হাত তোলার প্রচলন রয়েছে। কেউ কেউ আবার এটিকে জরুরিও মনে করে। এটি একটি ভুল প্রচলন। এর কোনো ভিত্তি নেই।

আযানের দুআর জন্য হাত তোলার কোনো নিয়ম নেই। দুআর জন্য হাত তোলার যে আদব তা এখানে প্রযোজ্য নয়। এটি মসজিদে প্রবেশ-বের হওয়ার, ওযুর পরের, ঘুমাতে যাওয়া-জাগ্রত হওয়ার, খাবারের আগের- পরের মাসনূন দুআসমূহের মত। এইসব ক্ষেত্রে যেমন হাত তুলতে হয় না, আযানের দুআর সময়ও হাত তুলতে হয় না। এটি একটি দলীলবিহীন কাজ। এ থেকে বিরত থাকা উচিত।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 উদাসীনতার সাথে দুআ করা

📄 উদাসীনতার সাথে দুআ করা


আমরা অনেক সময় দুআর জন্য হাত তোলার পরও উদাসীন থাকি। বিশেষ করে জুমার দিন বিষয়টি বেশি চোখে পড়ে। মসজিদ থেকে বের হচ্ছে আর হাঁটতে হাঁটতে হাত তুলে দুআ করছে। অর্থাৎ নিছক হাত তুলে আছে। এমনও দেখা যায় যে, হাত তুলে আছে আবার আরেকজনের সাথে গল্পও চলছে বা হাতের আঙ্গুল ফোটাচ্ছে ইত্যাদি। এ সবই উদাসীনতার সাথে দুআ করার শামিল, যা কখনোই উচিত নয়।

হাদীস শরীফে আছে, উদাসীনতার সাথে দুআ করলে আল্লাহ সে দুআ কবুল করেন না। হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দুআ কবুল করা হবে এই বিশ্বাস নিয়ে তোমরা দুআ কর। এবং জেনে রাখ, আল্লাহ তাআলা উদাসীন হৃদয়ের দুআ কবুল করেন না। (দ্র. জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৪৭৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৬৬৫৫; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১০/২২২)

আমাকে দুআয় শরীক হতেই হবে তা তো জরুরী নয়। আমার যদি দুআয় শরীক হওয়ার সময় না থাকে তাহলে শরীক হব না। কিন্তু আল্লাহর সামনে হাত তুলে আমার মনোযোগ থাকবে অন্যদিকে তা কখোনোই সমীচীন নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00