📄 ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন কি শুধু মৃত্যু সংবাদ শুনলে?
আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে ধৈর্য্যশীল মুমিনের গুণাবলী বর্ণনা করে বলেন,
الذين اذا اصابتهم مصيبة قالوا انا لله وانا اليه راجعون. (অর্থ) তারা কোনো মুসিবতে অক্রান্ত হলে বলে,
انا لله وانا اليه راجعون আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয় আল্লাহ্র কাছেই ফিরে যাব। -সূরা বাকারা : ১৫৬
এ আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, একজন মুমিন যে কোন ধরনের মুসিবত সামনে আসলেই
انا لله وانا اليه راجعون বলবে। আল্লাহর ফয়সালা সমর্পিত চিত্তে মেনে নিবে। অথচ অনেক মানুষ মনে করেন যে,
انا لله وانا اليه راجعون শুধু মৃত্যুসংবাদ শুনলে বলতে হয় । এ ধারণা ঠিক নয়। হাদীস শরীফে এসেছে হযরত উম্মে সালামা রা. বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, মুসলিম যখন কোনো মুসিবতে আক্রান্ত হয় এবং আল্লাহ তাকে যা বলতে বলেছেন তাই বলে, (অর্থাৎ) إِنَّ اللَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ اللَّهُمَّ أَجْرُنِي فِي مُصِيبَتِي وَاخْلُفُ لِي خَيْرًا مِنْهَا. তখন আল্লাহ তাকে ঐ মুসিবতের উত্তম বদলা এবং আগের চেয়ে উত্তম বিকল্প দান করেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৯১৮
📄 দুআয়ে কুনূত কি শুধু আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা
বিতর নামাযের তৃতীয় রাকাতে 'কুনূত' (কুনূতের দুআ) পড়া জরুরি। এর বিভিন্ন দুআ রয়েছে : একটি হচ্ছে 'আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা ওয়া ... ', আরেকটি হল, 'আল্লাহুম্মাহদিনী ফীমান হাদাইৎ ...' এ ধরনের আরো দুআ রয়েছে। যেকোনো দুআ পড়া যায়। বরং কুরআন-হাদীসের যেকোনো দুআ পড়ার দ্বারাও কুনূতের ওয়াজিব আদায় হয়ে যায়। কেউ কেউ প্রথম দুআটিকেই একমাত্র দুআ মনে করেন। তাদের ধারণা এটা ছাড়া 'কুনূত' আদায় হয় না। এই ধারণা ঠিক নয়। যেকোনো মা'ছুর ও মাসনূন দুআর দ্বারা ওয়াজিব কুনূত আদায় হয়। (আল-কাউসার:সংখ্যা: ০৩: রবিউল আউয়াল ১৪৩০)
📄 ইন্নি কুনতুম মিনায যলিমীন
দুআ ইউনুসের সহীহ পাঠ হল, 'লা ইলা-হা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায যলিমীন।' (আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। নিশ্চয় আমি অপরাধী।) কিন্তু কিছু কিছু মানুষকে বলতে শোনা যায় বা বিভিন্ন গাড়িতে লেখা দেখা যায়, তারা এ বাক্যের 'ইন্নি কুনতু মিনায যলিমীন'-এর স্থলে 'ইন্নি কুনতুম মিনায যলিমীন' বলে বা লেখে, যা ভাষাগতভাবে ভুল। আর দুআটি যেহেতু কুরআন মাজিদের অংশ তাই এ ভুল আরো মারাত্নক। 'ইন্নি কুনতু মিনায যলিমীন' অর্থ হল, নিশ্চয় আমি অপরাধী। আর 'ইন্নি কুনতুম মিনায যলিমীন'-এর অর্থই মেলে না, এর এক রকম অর্থ দাঁড়ায়- নিশ্চয় আমি তোমরা অপরাধী। সুতরাং এ বাক্যটি সহীহভাবে বলা জরুরি।
📄 ওযুর পর সূরা ক্বদর পাঠ করা ও তার ফযীলত
লোকমুখে প্রসিদ্ধ, যে ব্যক্তি ওযুর পর একবার সূরা ক্বদর পাঠ করবে তাকে আল্লাহ ছিদ্দীকগণের অন্তর্ভুক্ত করবেন। যে দুইবার পাঠ করবে তাকে শহীদগণের অন্তর্ভুক্ত করবেন। যে তিনবার পাঠ করবে তার হাশর হবে নবীগণের সাথে।
আবার এভাবেও বলতে শোনা যায়, যে একবার পাঠ করবে তাকে রাতের ইবাদত ও দিনের রোযাসহ পঞ্চাশ বছর আমলের সাওয়াব দেয়া হবে। যে দুইবার পাঠ করবে তাকে আল্লাহ ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও মূসা আলাইহিস সালাম-এর সমপরিমাণ সওয়াব দান করবেন। আর যে তিনবার পাঠ করবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে, সে বিনা হিসাবে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।
এটি একটি ভিত্তিহীন বর্ণনা। কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে তা পাওয়া যায় না। ইমাম সাখাবী রাহ. বলেন-
قراءة سورة إِنَّا أَنزَلْنَاهُ عقب الوضوء لا أصل له . -
ওযুর পর সূরা ক্বদ্র পাঠ করা বিষয়ক বর্ণনার কোনো ভিত্তি নেই। - আলমাকাসিদুল হাসানা, পৃ. ৪৯৬, ১১৬২ নং বর্ণনার অধীনে; আলজাদ্দুল হাছীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীস, বর্ণনা নং ৫৩০
সুতরাং উপরোক্ত আমল ও তার ফযীলত ভিত্তিহীন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তা প্রমাণিত নয়। এটিকে ওযুর পরের আমল হিসেবে প্রচার করা বৈধ হবে না। তাছাড়া ওযুর পরে পড়ার জন্য বেশ কিছু ফযীলতপূর্ণ সহীহ দুআ রয়েছে। আমরা সেগুলো অনুযায়ীই আমল করব। সহীহ দুআসমূহ থেকে কয়েকটি নিচে দেয়া হল।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُبْلِغُ أَوْ فَيُسْبِخُ الْوَضُوءَ ثُمَّ يَقُولُ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَدْخُلُ مِنْ أَيْهَا شَاءَ .
কেউ যখন ভালোভাবে ওযু করে এই দুআ পড়ে-
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ.
তখন তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হয়। সে যে কোনো দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে।-সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৩৪
বিশিষ্ট তাবিঈ সালিম ইবনে আবিল জা'দ রাহ. বলেন, আলী রা. বলেছেন, কেউ যখন ওযু করে তখন (ওযুর পরে) যেন বলে-
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ.
-মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, বর্ণনা নং ৭১১; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা নং ২০
এছাড়াও ওযুর পরের আরও কিছু সহীহ দুআ হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে। ভিত্তিহীন বিষয়ের প্রতি না ছুটে আমরা সহীহ দুআগুলোর উপর আমল করতে পারি।