📄 আগের উম্মত কি নবীর মাধ্যম ছাড়া দুআ করতে পারত না?
কিছু মানুষের ধারণা আগের উম্মতগণ নবীর মাধ্যম ছাড়া সরাসরি আল্লাহর কাছে দুআ করতে পারত না। এটি একটি অমূলক ধারণা। কুরআন হাদীসে এর কোন ভিত্তি পাওয়া যায় না। বরং এর উল্টোটা পাওয়া যায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (তরজমা) আমার বান্দাগণ যখন আপনার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তখন (আপনি তাদেরকে বলুন যে,) আমি এত নিকটবর্তী যে, কেউ যখন আমাকে ডাকে আমি তার ডাক শুনি (তার ডাকে সাড়া দিই)- সূরা বাকারা ২:১৮৬
এ আয়াতে বর্তমান উম্মত ও পূর্ববর্তী উম্মতের মাঝে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। এছাড়া পূর্ববর্তী উম্মতের সরাসরি দুআ করার নযীর কুরআনেই বিদ্যমান। এখানে কয়েকটি পেশ করা হল-
১. মূসা আলাইহিস সালাম-এর উম্মত ফিরাউনের স্ত্রীর দুআ: (তরজমা) আল্লাহ মুমিনদের জন্য ফিরাউনের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন, যে দুআ করেছিল: ‘হে আমার প্রতিপালক! তোমার সন্নিধানে জান্নাতে আমার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ কর এবং আমাকে উদ্ধার কর ফিরাউন ও তার দুষ্কৃতি থেকে এবং আমাকে উদ্ধার কর জালিম সম্প্রদায় হতে।’-সূরা তাহরীম ৬৬ : ১১
২. আসহাবে কাহফ তথা তৎকালীন নবীর উম্মতের দুআ : (তরজমা) যখন যুবক দলটি (আসহাবে কাহফ) গুহায় আশ্রয় নিয়েছিল এবং (আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করে) বলেছিল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের প্রতি আপনার নিকট থেকে বিশেষ রহমত নাযিল করুন এবং এ পরিস্থিতিতে আমাদের জন্য কল্যাণকর পথের ব্যবস্থা করে দিন।’-সূরা কাহফ ১৮ : ১০
৩. ইমরানের স্ত্রীর দুআ : (তরজমা) যখন ইমরানের স্ত্রী (আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করে) বলেছিলেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার গর্ভে যা আছে তা একান্ত তোমার জন্য উৎসর্গ করলাম। সুতরাং তুমি আমার পক্ষ থেকে তা কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’-সূরা আলে ইমরান ৩ : ৩৫
📄 আলাইহিস সাল্লাম
আমাদের নবীজীর নাম উচ্চারণ করলে আমরা বলি ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’। অন্যান্য নবীগণের নাম উচ্চারণ করলে বলি, ‘আলাইহিস সালাম’। কয়েকজন নবীর নাম উচ্চারণ করলে ‘আলাইহিমুস সালাম’। কিন্তু কিছু মানুষ সাল্লাম ও সালাম-এর মাঝে পার্থক্য করতে পারেন না। ফলে দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আলাইহিস সালাম-এর স্থলে আলাইহিস সাল্লাম বলেন, যা সম্পূর্ণ ভুল।
সঠিক উচ্চারণ হল, প্রথমটির শেষ শব্দ হল ‘সাল্লাম’ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আর দ্বিতীয়টির শেষ শব্দ হল ‘সালাম’ (আলাইহিস সালাম)।
📄 ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন কি শুধু মৃত্যু সংবাদ শুনলে?
আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে ধৈর্য্যশীল মুমিনের গুণাবলী বর্ণনা করে বলেন,
الذين اذا اصابتهم مصيبة قالوا انا لله وانا اليه راجعون. (অর্থ) তারা কোনো মুসিবতে অক্রান্ত হলে বলে,
انا لله وانا اليه راجعون আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয় আল্লাহ্র কাছেই ফিরে যাব। -সূরা বাকারা : ১৫৬
এ আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, একজন মুমিন যে কোন ধরনের মুসিবত সামনে আসলেই
انا لله وانا اليه راجعون বলবে। আল্লাহর ফয়সালা সমর্পিত চিত্তে মেনে নিবে। অথচ অনেক মানুষ মনে করেন যে,
انا لله وانا اليه راجعون শুধু মৃত্যুসংবাদ শুনলে বলতে হয় । এ ধারণা ঠিক নয়। হাদীস শরীফে এসেছে হযরত উম্মে সালামা রা. বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, মুসলিম যখন কোনো মুসিবতে আক্রান্ত হয় এবং আল্লাহ তাকে যা বলতে বলেছেন তাই বলে, (অর্থাৎ) إِنَّ اللَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ اللَّهُمَّ أَجْرُنِي فِي مُصِيبَتِي وَاخْلُفُ لِي خَيْرًا مِنْهَا. তখন আল্লাহ তাকে ঐ মুসিবতের উত্তম বদলা এবং আগের চেয়ে উত্তম বিকল্প দান করেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৯১৮
📄 দুআয়ে কুনূত কি শুধু আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা
বিতর নামাযের তৃতীয় রাকাতে 'কুনূত' (কুনূতের দুআ) পড়া জরুরি। এর বিভিন্ন দুআ রয়েছে : একটি হচ্ছে 'আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা ওয়া ... ', আরেকটি হল, 'আল্লাহুম্মাহদিনী ফীমান হাদাইৎ ...' এ ধরনের আরো দুআ রয়েছে। যেকোনো দুআ পড়া যায়। বরং কুরআন-হাদীসের যেকোনো দুআ পড়ার দ্বারাও কুনূতের ওয়াজিব আদায় হয়ে যায়। কেউ কেউ প্রথম দুআটিকেই একমাত্র দুআ মনে করেন। তাদের ধারণা এটা ছাড়া 'কুনূত' আদায় হয় না। এই ধারণা ঠিক নয়। যেকোনো মা'ছুর ও মাসনূন দুআর দ্বারা ওয়াজিব কুনূত আদায় হয়। (আল-কাউসার:সংখ্যা: ০৩: রবিউল আউয়াল ১৪৩০)