📄 দুরুদে ইবরাহীমী কি শুধু নামাযে পড়ার জন্য?
জনৈক খতীব সাহেব ফোনে বললেন, আলকাউসারের এই বিভাগে আমি যেন এ বিষয়ে লিখি। তিনি বললেন, আমি কয়েকজনকে দেখেছি, তারা দরূদে ইবরাহীম, যা নামাযের শেষ বৈঠকে পড়া হয়, শুধু নামাযে পড়ার দরূদ মনে করে। নামাযের বাইরে এই দরূদ পড়া বা তাকে অযীফা বানানো মুনাসিব মনে করে না।
খতীব সাহেবের আপত্তি সঠিক। কারণ এই দরূদ শুধু নামাযের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। একথা বিভিন্ন রেওয়ায়েতে আছে যে, নামাযে পড়ার জন্য এই দরূদ শেখানো হয়েছে। কিন্তু এর অর্থ কখনো এই নয় যে, ঐ কারণে দরূদটি নামাযের সাথে খাস হয়ে যাবে। নামাযে তো তিলাওয়াত, তাসবীহ, তাকবীর ইত্যাদি কত বিষয় আমরা আদায় করে থাকি। এই সব বিষয় কি শুধু নামাযের বিষয়? নামাযের বাইরে কি এগুলো করা যায় না? নামাযে আমরা কতবার 'আল্লাহু-আকবার' বলি। কিন্তু নামাযের বাইরেও তো 'আল্লাহু-আকবার' যিকির করে থাকি।
আহলে ইলম এবং আকাবির ও মাশাইখ এই দরূদ নিজেদের রচনা ও বক্তৃতায় ব্যাপকভাবে এনে থাকেন। সুতরাং নামাযের বাইরে তা পাঠ করা বা অযীফা বানানোতে কোনো অসুবিধা নেই।
📄 দরূপদে হাজারী সঠিক দরূদ নয়
অযিফার অনির্ভরযোগ্য কোনো কোনো পুস্তিকায় বা পৃথক আকারে প্রকাশিত লিফলেটে দরূদে হাজারী নামের একটি দরূদ কোনো কোনো হলকায় প্রচার করা হয়। এই দরূদ কোনো সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়নি এবং তা কোনো আল্লাহওয়ালা বুযুর্গেরও রচিত দরূদ নয়। এতে না আছে দরূদের নূর, না আছে সাহিত্যের মাধুর্য। বরং এর ভাষায় রয়েছে অসৌজন্যতা। তাই এই দরূদ পাঠ থেকে বিরত থাকা জরুরি। আর এটিকে কুরআন-হাদীসের মাছুর দরূদ মনে করা সম্পূর্ণ নাজায়েয। (আল-কাউসার: সংখ্যা: ০১:সফর-১৪৩৩)
📄 একটি দরূদ ও ভিত্তিহীন ফযীলত : দরূপদে মাহি
اللهم صل على محمد و علی آل سیدنا و مولانا محمد، خير الخلائق وأفضل البشر، وشفيع الأمم يوم الحشر والنشر....
দরূদে মাহি অর্থাৎ মাছের দরূদ। এটি হাদীসে বর্ণিত দরূদ নয়। হাদীসের নির্ভরযোগ্য কোনো গ্রন্থে এ দরূদ পাওয়া যায় না। অনির্ভরযোগ্য কিছু অযিফার বইয়ে তা পাওয়া যায়। সেখানে নবীজীর সাথে সম্পৃক্ত করে এর যে ফযীলতের কথা বলা হয় তা সম্পূর্ণ বানোয়াট।
এ দরূদকেন্দ্রিক যে কিচ্ছা বলা হয় তা নিম্নরূপ- এক ব্যক্তি নদীর পাড়ে বসে এ দরূদটি পাঠ করত। একটি রুগ্ন মাছ তা শুনে মুখস্থ করে ফেলে এবং পড়তে থাকে। ফলে সে সুস্থ হয়ে যায়। পরবর্তীতে এক ব্যক্তির জালে ধরা পড়ে। সেটিকে কাটতে চেষ্টা করা হয়, কিন্তু কাটা যায় না। তেলে ভাজতে চেষ্টা করা হয়, তাও সম্ভব হয় না। লোকটি মাছটিকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে আসে এবং ঘটনা খুলে বলে। তখন আল্লাহ মাছের যবান খুলে দেন। সে কারণ বলে দেয়। এ শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রা.-কে দরূদটি লিখে রাখার নির্দেশ দেন ইত্যাদি ইত্যাদি। যাইহোক এ দরূদ যেমন হাদীসে নেই তেমনি এ কেন্দ্রিক কিচ্ছাটিও বানোয়াট ও জাল।
📄 বিনা অজুতে দুরুদ পড়া কি জায়েজ নয়?
কিছু কিছু মানুষ মনে করে থাকেন যে, দুরুদ শরীফ পড়তে হলে অজু করা আবশ্যক। এ ধারণা করা ঠিক নয়। দুরুদ শরীফ অযু ছাড়াও পড়া যায় । তাই এই জাতীয় ভুল ধারণার ভিত্তিতে দুরুদ শরীফ পড়া থেকে বিরত থাকা উচিত নয় । অজু থাক বা না থাক সুযোগ হলেই দুরুদ শরীফ পড়া উচিত । কোরআন মাজীদ পড়ার জন্য তো অযু আবশ্যক নয়, তবে তা স্পর্শ করার জন্য অজু করা আবশ্যক। তাই কোরআন মাজীদ মুখস্থ পড়ার ক্ষেত্রে ওযু করা অপরিহার্য নয়, তবে যেহেতু অনেক মানুষ মুখস্ত করতে পারেনা তাই দেখে পড়তে হয় এক্ষেত্রে তাদের জন্য অজু করা আবশ্যক। কেননা দেখে পড়তে হলে স্পর্শ করতে হয়। তবে গোসল ফরজ হওয়া অবস্থায় কোরআন তেলাওয়াত করা জায়েজ নেই। এজন্য কোন ওজর ছাড়া এই অবস্থায় দীর্ঘ সময় থাকাও অনুচিত। খুব তাড়াতাড়ি গোসল করে পবিত্র অর্জন করা উচিত। এছাড়া অযু থাক বা না থাক শরীর পবিত্র থাকলে মুখস্ত কোন সূরা বা আয়াত তেলাওয়াত করা যাবে। যেখানে অযু ছাড়া কুরআনে কারীমের আয়াত বা সুরা তেলাওয়াত করা যাবে তাহলে সেখানে ওযু ছাড়া দুরুদ পড়তে সমস্যা কি? এটি একটি ভুল ধারণা। তাই অজু থাক বা না থাক দুরুদ শরীফ পড়াতে কোন সমস্যা নেই। অজু নেই মনে করে দুরুদ শরীফ পড়া থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। যখনই সুযোগ হয় দুরুদ শরীফ পাঠ করা।