📄 মহিলা থেকে ‘ইযন’ নেওয়ার সময় কি সাক্ষী জরুরি?
কিছু কিছু মানুষের ধারণা, বিবাহের ক্ষেত্রে মহিলা থেকে 'ইযন' নেওয়ার সময় সাক্ষী থাকা জরুরি। তাদের এ ধারণা ঠিক নয়।
মহিলা থেকে 'ইযন' নেওয়ার সময় সাক্ষী থাকা জরুরি নয়। হাঁ, সাক্ষী থাকলে কোনো অসুবিধা নেই। তবে যারা 'ইযন' আনতে বা সাক্ষী হিসেবে মেয়ের সামনে যাবে তাদেরকে অবশ্যই মেয়ের মাহরাম হতে হবে। সমাজে আজকাল এ বিষয়ে খুবই শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়। এ অপ্রয়োজনীয় সাক্ষীকে জরুরি মনে করে মেয়ের গায়রে-মাহরাম (বেগানা) পুরুষদেরকে মেয়ের সামনে হাযির করানো হয়, যা নিতান্তই গুনাহের কাজ। (রদ্দুল মুহতার ২/২১)
📄 ‘কবুল’ শব্দ উচ্চারণ না করলে কি বিবাহ সহীহ হয় না?
কিছু কিছু মানুষের ধারণা, বিবাহের ইজাব পেশ করার পর পাত্র যদি 'কবুল' শব্দ উচ্চারণ না করে তাহলে বিবাহ সহীহ হবে না। এ ধারণা ঠিক নয়। আসল বিষয় হল সম্মতি জ্ঞাপন করা। এখন কবুল শব্দ ছাড়া যদি 'আলহামদুলিল্লাহ আমি গ্রহণ করলাম' বা এজাতীয় শব্দ উচ্চারণ করে তাহলেও সেটা সম্মতি বোঝাবে এবং বিবাহ সহীহ হবে। সুতরাং 'কবুল' শব্দই উচ্চারণ করতে হবে- এ ধারণা ভুল।
📄 স্ত্রীকে বোন,স্বামীকে ভাই বলে সম্বোধন করা যাবে কি?
অনেক মানুষকে দেখা যায় মহব্বত করে স্ত্রীকে বোন, স্বামীকে ভাই বলে সম্বোধন করা ঠিক নয়। কেননা হাদীস শরীফে এ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। হাদীস শরীফে এসেছে,
عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيِّ ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِامْرَأَتِهِ: يَا أُخَيَّةٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أُخْتُكَ هِيَ؟ فَكَرِهَ ذَلِكَ وَنَهَى عَنْهُ.
এক লোক তার স্ত্রীকে বোন বলে ডাকলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতে পেয়ে তা অপছন্দ করেন এবং তাকে এভাবে ডাকতে নিষেধ করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২২০৪)
সুতরাং এমন সম্বোধন থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে এ কারণে বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হবে না। আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪১৮; ফাতহুল কাদীর ৪/৯১; আলবাহরুর রায়েক ৪/৯৮
তাছাড়া এরূপ সম্বোধন দ্বারা মানুষ ধোঁকায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।-আপ কে মাসায়েল-৮/১২০
উল্লেখ্য, আপনার প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি নাহলেও এক্ষেত্রে বিশেষত স্ত্রীকে বোন সম্বোধন করা দ্বারা একটি ক্ষতির আশঙ্কাও কিন্তু আছে তাহল, স্বামী যদি স্ত্রীকে বোন সম্বোধন করা দ্বারা এরূপ নিয়ত করে যে, আমার বোন যেমন আমার জন্য হারাম, তুমিও তেমনি আমার জন্য হারাম; তাহলে 'যিহার' হয়ে যায়। এমতাবস্থায় স্ত্রী হারাম হয়ে যায় যতক্ষণ না স্বামী 'কাফফারা' আদায় করে। আর যিহারের কাফফারা হচ্ছে-
ধারাবাহিকভাবে দু'মাস ছিয়াম পালন করা বা ৬০ জন মিসকীনকে খাওয়ানো।- সুরা আল-মুজাদালাহ-০৩
সুতরাং এজাতীয় অনাকাঙ্ক্ষিত অহেতুক ঝামেলা এড়াতে স্ত্রীকে বোন সম্বোধন করা থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ।
📄 ধর্মের বাপ/ ভাই
আমাদের দেশের প্রায় জায়গাতেই দেখা যায় ধর্মের বাপ কিংবা ধর্মের ভাই বানানোর একটা প্রচলন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় কারো বাপ না থাকলে কিংবা ভাই না থাকলে গাইরে মাহরাম কোন ব্যক্তিকে বাপ কিংবা ভাই হিসেবে গ্রহণ করে নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে যাকে ধর্মের বাবা বানানো হয়েছে তার সাথে নিজের বাপ কিংবা ভাইয়ের মতো আচরণ করা হয়। পুরুষ মহিলার ক্ষেত্রে পর্দার কোন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ এ ক্ষেত্রে পর্দা করা ফরজ। এমনিভাবে একজন গায়রে মাহরাম ব্যক্তির সাথে যে সমস্ত আচার-আচরণকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেগুলো এক্ষেত্রে মানতে হবে না বলে মনে করা হয়। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। শরীয়তের নির্দেশিত গণ্ডির বাইরে নিজের মত কাউকে বাপ কিংবা ভাই বানিয়ে নিলেই সে বাপ ভাই হয়ে যায় না। কোনো কারণবশত কাউকে মুরুব্বী হিসেবে গ্রহণ করতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু এর দ্বারা শরীয়তের বিধান লংঘন করার অধিকার কারো নেই। এ ভিত্তিতে অনেকে ধর্মের বাপ ভাইকে উত্তরাধিকারের অংশীদারও মনে করে থাকে। এর কোনো ভিত্তি নেই। এগুলো থেকে বেঁচে থাকা সকল মুমিনের জন্য আবশ্যক।