📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 নারীর জন্য ফরয গোসলে চুলের বেণী খোলার প্রয়োজন নেই

📄 নারীর জন্য ফরয গোসলে চুলের বেণী খোলার প্রয়োজন নেই


অনেক মহিলাদেরকে বলতে শোনা যায় যে, ফরজ গোসলের ক্ষেত্রে বা এমনিতেই মহিলাদের গোসলের ক্ষেত্রে চুলের বেনি খোলা আবশ্যক। অথচ এটি একটি ভুল ধারণা। চুলের বেনি খোলার প্রয়োজন নেই; বরং চুলের গোড়ায় পানি প্রবাহিত করাই যথেষ্ট। এ ব্যাপারে নিম্নোক্ত হাদীসটি তুলে ধরা হলো।

উম্মে সালামা রা. বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, 'আমি মাথার চুলে বেণী করে থাকি। ফরয গোসলের জন্য কি তা খুলতে হবে?'
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'না। তুমি শুধু মাথায় তিনবার পানি ঢালবে তারপর পুরো শরীরে পানি ঢালবে এবং ভালোভাবে পবিত্র হবে। (অর্থাৎ বেনী খোলার প্রয়োজন নেই, চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছা ও গোটা শরীরে পানি প্রবাহিত করাই যথেষ্ট।)'-সহীহ মুসলিম ১/১৪৯

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 চুল বিক্রি করা

📄 চুল বিক্রি করা


অনেক এলাকায় দেখা যায় ফেরীওয়ালারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে মহিলাদের জমানো চুল ক্রয় করে। আর মহিলারাও অজ্ঞতাবশত চুল বিক্রি করেন। এটি একটি নাজায়েয কাজ, এ থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। মানুষের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, কোনো অংশ বিক্রি করা জায়েয নয়। মানুষকে যেমন আল্লাহ তাআলা সম্মানিত বানিয়েছেন তেমনিভাবে মানুষের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনকি চুল, নখ ইত্যাদি কর্তিত অংশও সম্মানিত এবং এগুলো বিক্রয়যোগ্য কোনো বস্তু নয়। সুতরাং এগুলো বিক্রি করা যাবে না। সম্ভব হলে দাফন করে দেয়া উত্তম।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 মহিলারা নাক কান না ফোঁড়ালে কিয়ামতের দিন লোহা দিয়ে তা ছিদ্র করা হবে

📄 মহিলারা নাক কান না ফোঁড়ালে কিয়ামতের দিন লোহা দিয়ে তা ছিদ্র করা হবে


কিছু এলাকার মহিলাদের মাঝে একথা প্রচলিত রয়েছে- কোনো মেয়ে যদি নাক-কান না ফোঁড়ায় তাহলে কিয়ামতের দিন তার নাক-কানে আগুনের লোহা দিয়ে ছিদ্র করা হবে। কথাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। অলংকার ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মহিলাদের নাক-কান ফোঁড়ানো জায়েয। কিন্তু এটি শরীয়তের কোনো জরুরি হুকুম নয়। কোনো নারী নাক-কান না ফোঁড়ালে তার কোনো গোনাহ হবে না এবং এ কারণে আখেরাতে তাকে শাস্তিও পেতে হবে না।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 বিবাহের দিন-তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে পঞ্জিকা দেখে শুভ-অশুভ দিন-তারিখ নির্ণয় করা

📄 বিবাহের দিন-তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে পঞ্জিকা দেখে শুভ-অশুভ দিন-তারিখ নির্ণয় করা


এক ব্যক্তিকে পঞ্জিকা খোঁজ করতে দেখা গেল। কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, একটি বিবাহের দিন-তারিখ নির্ধারণ করতে হবে, তাই পঞ্জিকা দেখে তিনি একটি শুভ দিন-তারিখ নির্ধারণ করবেন। এটি একটি ভুল প্রথা। পঞ্জিকায় উল্লেখিত শুভ-অশুভ দিন-তারিখ হিন্দুধর্মের বিভিন্ন অলীক ও শিরকী বিশ্বাস এবং কুসংস্কারের উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা। এর সাথে মুসলিমের কী সম্পর্ক! ইসলামে অশুভ দিন-তারিখ বলে কিছু নেই。

কোনো মাস, দিন বা রাতকে অশুভ মনে করা, বিশেষ কোনো সময়কে বিশেষ কাজের জন্য অশুভ ও অলক্ষুণে মনে করা- সবই জাহেলিয়াতের কুসংস্কার। এর সাথে মুসলিমের কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন ইসলামপূর্ব যুগের কোনো কোনো লোকের এই ধারণা ছিল যে, শাওয়াল মাসে বিবাহ-শাদির অনুষ্ঠান অশুভ ও অকল্যাণকর। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা. এই ভিত্তিহীন ধারণাকে এই বলে খণ্ডন করেছেন-
تَزَوَّجَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي شَوَالٍ، وَبَنَى بِي فِي شَوَالٍ، فَأَيِّ نِسَاءِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ أَحْفَى عِنْدَهُ مِنِّي؟
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শাওয়াল মাসেই বিবাহ করেছেন এবং শাওয়াল মাসেই আমার রুখসতি হয়েছে। অথচ তাঁর অনুগ্রহ লাভে আমার চেয়ে অধিক সৌভাগ্যবতী স্ত্রী আর কে আছে? -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৪২৩

আল্লাহ তাআলা আমাদের সব ধরনের কুসংস্কার থেকে হেফাজত করুন। সহীহ আকীদার উপর রাখুন এবং দ্বীনের সহীহ সমঝ নসীব করুন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00