📄 তিনবার কবুল না বললে কি বিবাহ সহীহ হবে না?
কোনো কোনো এলাকায় এ রসম চালু আছে যে, বিবাহের ইজাব পেশ করার পর পাত্রকে তিনবার কবুল বলতে হবে। তারা মনে করে তিনবার কবুল না বললে বিবাহ সহীহ হবে না। এটি একটি মনগড়া রসম মাত্র। এটি পরিহার করা জরুরি। এজাতীয় মনগড়া বিষয়ের কারণে অনেক সময় বড় ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হয়।
শরীয়তের দৃষ্টিতে ইজাবের (প্রস্তাবের) পর সাক্ষীদের শুনিয়ে একবার কবুল করলেই বিবাহ হয়ে যাবে। ফাতাওয়া শামী ৩/৯; ফাতাওয়া আলমগিরী ১/৩৭০
📄 বিয়ের পরে মেয়েরা চুড়ি বা নাকফুল না পরলে কি স্বামীর হায়াত কমে যায়?
কোনো কোনো এলাকার মানুষকে বলতে শোনা যায়, বিয়ের পর স্ত্রী চুড়ি বা নাকফুল না পরলে স্বামীর হায়াত কমে যায়। এটি একেবারেই মনগড়া ও ভিত্তিহীন একটি ধারণা, একটি কুসংস্কার; এগুলো বিশ্বাস করা যাবে না।
📄 বিয়েতে রং মাখা-মাখি করা
অনেক এলাকায় দেখা যায়, বিশেষ করে গ্রামে বিয়ে বাড়িতে রং মাখা-মাখি করা হয়। এটা অত্যন্ত গর্হিত একটি রসম, যা হিন্দুদের থেকে আমাদের মাঝে প্রবেশ করেছে। রং মাখামাখি হিন্দুদের একটি বিশেষ উৎসব যাকে হোলি উৎসব বলে। সুতরাং কোনো মুসলিম এ কাজ করতে পারে না। শুধু বিজাতীয় সংস্কৃতি ও একটি অনর্থক কাজ হওয়াই এটি বর্জনের জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু বিজাতীয় সংস্কৃতি হওয়ার সাথে সাথে এক্ষেত্রে যে চরম অশ্লীলতা পরিলক্ষিত হয় তাতে কোনো মুসলিমের দ্বারা এমন কাজ হওয়ার কল্পনাও করা যায় না। বিবাহ একটি আল্লাহর নেআমত। আল্লাহর নাফরমানির মাধ্যমে এ নেআমতের নাশোকরি হয় এবং তা বরকত ও কল্যাণ থেকে মাহরুমীর কারণ হয়।
📄 নারীর জন্য ফরয গোসলে চুলের বেণী খোলার প্রয়োজন নেই
অনেক মহিলাদেরকে বলতে শোনা যায় যে, ফরজ গোসলের ক্ষেত্রে বা এমনিতেই মহিলাদের গোসলের ক্ষেত্রে চুলের বেনি খোলা আবশ্যক। অথচ এটি একটি ভুল ধারণা। চুলের বেনি খোলার প্রয়োজন নেই; বরং চুলের গোড়ায় পানি প্রবাহিত করাই যথেষ্ট। এ ব্যাপারে নিম্নোক্ত হাদীসটি তুলে ধরা হলো।
উম্মে সালামা রা. বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, 'আমি মাথার চুলে বেণী করে থাকি। ফরয গোসলের জন্য কি তা খুলতে হবে?'
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'না। তুমি শুধু মাথায় তিনবার পানি ঢালবে তারপর পুরো শরীরে পানি ঢালবে এবং ভালোভাবে পবিত্র হবে। (অর্থাৎ বেনী খোলার প্রয়োজন নেই, চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছা ও গোটা শরীরে পানি প্রবাহিত করাই যথেষ্ট।)'-সহীহ মুসলিম ১/১৪৯