📄 গোশতকে ‘মাংস’ বলা যাবে কি?
অনেক মানুষকে বলতে শুনেছি, 'মাংস' শব্দটা হিন্দুদের বিশেষ পরিভাষা বিধায় গোশতকে মাংস বলা না-জায়েয।
ইসলামে কোনো কিছু জায়েয/না-জায়েয হতে হলে প্রমাণ লাগে। আর গোশতকে 'মাংস' বলা না-জায়েয আখ্যায়িত দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো দলিল নেই। সুতরাং বিষয়টিকে না-জায়েযের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না।
তবে যারা 'মাংস' না বলে 'গোশত' বলতে চান তাদের উদ্দেশ্য ভালো বলেই মনে হয়। মূলতঃ তারা ইসলামী স্বকীয়তাকে বজায় রাখতে ও সম্ভাব্য শাব্দিক অপসংস্কৃতির ছোবল থেকে বাঁচতে চান। তাদের উদ্দেশ্য যেহেতু সৎ, সেহেতু তাদের সমালোচনা করা বা তাদেরকে কটাক্ষ করাও উচিৎ হবে না।
আসলে অভিধানগুলোতে দেখা যায়, শব্দটা 'মাংস'। 'মাংশ' নয়। শব্দটি সংস্কৃত থেকে আসলেও এটি কোনো কালেই 'মাংশ' বানানে ছিলো না। সকল বাংলা অভিধানেই শব্দটির বানান 'মাংস'ই লেখা হয়েছে। (দেখুনঃ ব্যবহারিক বাংলা অভিধান পৃ. ৯৬৮; সংসদ বাংলা অভিধান পৃ. ৬৯৩; আধুনিক বঙ্গভাষার অভিধান চলন্তিকা পৃ. ৫৮২)
'মাংস' শব্দটির উৎস হচ্ছে সংস্কৃত (মন + স) থেকে। বাংলা একাডেমি 'মাংস' শব্দের অর্থ লিখেছে, 'প্রাণীর দেহের হাড় ও চামড়ার মধ্যবর্তী শরীরের অংশবিশেষ'। (ব্যবহারিক বাংলা অভিধান পৃ. ৯৬৮) অন্যান্য অভিধানেও এ জাতীয় অর্থ ছাড়া অন্য কোনো অর্থ লেখা হয় নি।
সুতরাং 'মাংস'কে 'মাংশ' মনে করে 'মায়ের (গরুর) অংশ' ব্যাসবাক্যে সন্ধিবিচ্ছেদ (!) করা বাংলা ব্যকরণের কোনো নিয়মে পড়ে না বিধায় এ ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হবে না। তাছাড়া বাংলা ভাষার কোনো বিশেষজ্ঞ (মুসলিম কিংবা হিন্দু) 'মাংস'কে 'মাংশ' শব্দের পরিবর্তিত রূপ বলে আখ্যায়িত করে তাকে হিন্দুদের বিশ্বাসজাত কোনো শব্দ বলে উল্লেখ করেন নি, যেমনটা করেছেন কীর্তন বেদী, স্নাতক, আচার্য, উপাচার্য, বিশ্বভ্রম্মাণ্ড ইত্যাদি শব্দের ক্ষেত্রে।
অতএব 'মাংস'কে 'মাংশ' ভেবে একে হিন্দুদের বিশ্বাসজাত শব্দ মনে করা এবং মুসলিমদের জন্য শব্দটির ব্যবহার না-জায়েয বলে দেয়া কোনোক্রমেই ঠিক হবে না। তবে হ্যাঁ, 'মাংস' ও 'মাংশ' উচ্চারণে এককরম বিধায় এর ব্যবহার বড়জোর অনুচিত বলা যেতে পারে। কিন্তু যদিও মজার ব্যাপার হল, 'মাংস' শব্দ অভিধানে থাকলেও 'মাংশ' বলে কোনো শব্দই বাংলা ভাষার কোনো অভিধানেই নেই।
📄 ভাত পড়লে তুলে না খেলে কি তা কবরে বিচ্ছু হয়ে কামড়াবে?
ছোট শিশু নিজ হাতে খেতে গেলে অনেক ভাত পড়ে। তখন সে ভাতগুলো তুলে খাওয়ার জন্য অনেকেই বলে থাকেন-'পড়ে যাওয়া ভাতগুলো তুলে খাও নইলে কিন্তু এগুলো কবরে বিচ্ছু হয়ে কামড়াবে।' ছোটদেরকে এজাতীয় বিষয়ে সতর্ক করা ও উৎসাহ দেওয়া প্রসংশনীয়। কিন্তু তা করতে গিয়ে অমূলক কথা বলা কখনোই সমিচীন নয়। হাদীসে এ বিষয়ে যে নির্দেশনা এসেছে সেটাই ছোটদের সামনে পেশ করা উচিত।
হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খানা খেতেন তখন আঙ্গুল চেটে খেতেন এবং বলতেন, খাদ্য পড়ে গেলে তা থেকে ময়লা দূর করে খেয়ে নাও এবং তা শয়তানের জন্য রেখে দিও না। তিনি আমাদের পাত্র চেটে খাওয়ার আদেশ করতেন এবং বলতেন, তোমাদের তো জানা নেই খাদ্যের কোন্ অংশে বরকত রয়েছে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২০৩৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৮৪৭; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস ৫২৪৯)