📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আসরের পর কিছু খাওয়া কি অনুত্তম

📄 আসরের পর কিছু খাওয়া কি অনুত্তম


একজন বুদ্ধিমান শিক্ষিত মানুষের নিকট থেকে একথাটা শুনে খুবই আশ্চর্যান্বিত হয়েছি যে, তিনি আসর থেকে মাগরিবের মধ্যে কিছু খান না। পূর্ব থেকেই তার ধারণা যে, এই সময় খাওয়া-দাওয়া করা ভালো না বা নিষেধ আছে।

এই ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। শরীয়তে শুধু রোযার হালতে খাওয়া-দাওয়া নিষেধ। অন্য সময় নিষেধ নয়। তবে কেউ যদি বিশেষ কোনো সমস্যার কারণে বা চিকিৎসকের পরামর্শে বিশেষ কোনো সময় খাওয়া থেকে বিরত থাকে তবে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু মনগড়াভাবে দিনে রাতের কোনো অংশের ব্যাপারে একথা বলা যে, এ সময় খানাপিনা থেকে বিরত থাকা উত্তম বা ছওয়াবের কাজ, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ ধরনের রসম-রেওয়াজ মেনে চলা শরীয়তে নিষেধ। কারো প্রয়োজন না হলে খাবে না কিন্তু একে একটি বিধান বানিয়ে দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 এক লোকমা হারাম খাবার পেটে গেলে চল্লিশ দিন পর্যন্ত কোন আমল কবুল হয় না

📄 এক লোকমা হারাম খাবার পেটে গেলে চল্লিশ দিন পর্যন্ত কোন আমল কবুল হয় না


অনেক মানুষকে বলতে শোনা যায় যে, তারা বলে হাদীস শরীফে নাকি আছে, এক লোকমা হারাম খাবার পেটে গেলে চল্লিশ দিন পর্যন্ত কোন আমল কবুল হয় না। তাহলে প্রশ্ন হল, যদি কোন কারণে হারাম ভক্ষণ করা হয়, তাহলে চল্লিশ দিন পর্যন্ত যে নামায পড়া হবে, এসব কি কোনোটিই কবুল হবে না? চল্লিশ দিন পর তা আবার আদায় করতে হবে?

হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এ আয়াত “হে মানবসমাজ, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু-সামগ্রী ভক্ষণ কর।” [সূরা বাকারা-১৬৮] আয়াতটি তিলাওয়াত করা হল। তখন সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস রা. দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমার জন্য দুআ করুন যেন আল্লাহ আমাকে মুস্তাজাবুদ দাওয়া [দুআ করলে সাথে সাথে কবুল হয় এমন] বানিয়ে দেন। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে সাদ! তুমি তোমার খাবারকে পবিত্র রাখো, [হালাল ভক্ষণ কর] তুমি মুস্তাজাবুত দাওয়া হয়ে যাবে। যে সত্তার হাতে মুহাম্মদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর প্রাণ তাঁর কসম! নিশ্চয় কোনো বান্দার পেটে যদি হারাম এক লোকমরা খাবারও প্রবেশ করে, তাহলে চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার আমল কবুল হয় না। আর ব্যক্তির যে মাংসপিন্ড হারাম সম্পদ বা সুদের টাকায় বৃদ্ধি হয়েছে, তার জন্য জাহান্নামই উত্তম। [আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৪৯৫, আততারগীব ওয়াত তারহীব, হাদীস নং-২৬৬০]

বর্ণিত এ হাদীসটি নিতান্ত দুর্বল।
কিন্তু সতর্কতা হিসেবে উক্ত হাদীস অনুপাতে সদা সজাগ থাকা উচিত। যেন কোনোমতেই কারো পেটে হারাম খাদ্য প্রবেশ না করে।

এ আমলের দুই অবস্থা। যথা, ১. আমলের দায়িত্বমুক্ত হওয়া। ২. আল্লাহর কাছে উক্ত আমল মকবুল হওয়া।
হারাম ভক্ষণকারীর আমল চল্লিশ দিন পর্যন্ত কবুল হয় না অর্থ হল, তার আমলটি আল্লাহর দরবারে সওয়াবের অধিকারী হয় না। কিন্তু আদায় করার দ্বারা উক্ত ব্যক্তি দায়িত্বমুক্ত ঠিকই হয়ে যাবে। তাই পরবর্তীতে আর উক্ত আমলকে পুনরায় আদায় করতে হবে না।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 খাবারের সময় সালাম দেওয়া-নেওয়া প্রসঙ্গে ভুল ধারণা

📄 খাবারের সময় সালাম দেওয়া-নেওয়া প্রসঙ্গে ভুল ধারণা


খাবারের সময় সালাম দেওয়া যাবে এবং নেওয়া যাবে। প্রচলিত যে ধারণা রয়েছে যে, 'খাদ্য গ্রহণকারীকে সালাম দেয়া যাবে না' এর কোন অস্তিত্ব নেই। তবে যদি কারো মুখের ভেতরে খাবার থাকে, তাহলে তাকে সালাম না দেওয়া ভাল। এ অবস্থায় কেউ সালাম দিলে উত্তর প্রদান ওয়াজিব নয়। (সাখাবী, আল মাকাসিদ, পৃ. ৪৬০, মোল্লা আলী কারী, আল-আসরার, পৃ. ২৬৫)

এ সম্পর্কে (কাশফুল খুফা) কিতাবে বলা হয়েছে
ليس بحديث (أكل علمى سلام (لا)
অর্থাৎ খাবার চলাকালীন সময়ে সালাম দেওয়া যাবে না, এটা কোন হাদিস নয়।

ইমাম নববী রহ. তাঁর আযকার কিতাবে বলেন, খাবার চলাকালীন মুখে খাবার থাকা অবস্থায় সালাম দিলে জবাব দেওয়া জরুরি নয়। তবে যদি মুখে লোকমা না থাকা অবস্থায় সালাম দেয় তাতে কোন সমস্যা নেই এবং উত্তর প্রদান জরুরি।

শায়খ আব্দুর রহমান আস সাহিম বলেন, সমাজে প্রচলিত খাবার সময় সালাম দেওয়া যায় না বলে যে কথাটি রয়েছে তা সালামের ব্যাপারে নয়, মোসাফাহার ব্যাপারে। সুতরাং সালাম দেওয়া ও নেওয়াতে কোন সমস্যা নেই।
(সাখাবী, আল-মাকাসিদ, পৃ. ৪৬০, মোল্লা কারী, আল আসরার, পৃ. ২৬৫, আল-আজলুনী, কাশফুল খাফা ২/৪৮৮, যারকানী, মুখতাসারুল মাকাসিদ, পৃ. ২০৩।)

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 গোশতকে ‘মাংস’ বলা যাবে কি?

📄 গোশতকে ‘মাংস’ বলা যাবে কি?


অনেক মানুষকে বলতে শুনেছি, 'মাংস' শব্দটা হিন্দুদের বিশেষ পরিভাষা বিধায় গোশতকে মাংস বলা না-জায়েয।

ইসলামে কোনো কিছু জায়েয/না-জায়েয হতে হলে প্রমাণ লাগে। আর গোশতকে 'মাংস' বলা না-জায়েয আখ্যায়িত দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো দলিল নেই। সুতরাং বিষয়টিকে না-জায়েযের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না।

তবে যারা 'মাংস' না বলে 'গোশত' বলতে চান তাদের উদ্দেশ্য ভালো বলেই মনে হয়। মূলতঃ তারা ইসলামী স্বকীয়তাকে বজায় রাখতে ও সম্ভাব্য শাব্দিক অপসংস্কৃতির ছোবল থেকে বাঁচতে চান। তাদের উদ্দেশ্য যেহেতু সৎ, সেহেতু তাদের সমালোচনা করা বা তাদেরকে কটাক্ষ করাও উচিৎ হবে না।

আসলে অভিধানগুলোতে দেখা যায়, শব্দটা 'মাংস'। 'মাংশ' নয়। শব্দটি সংস্কৃত থেকে আসলেও এটি কোনো কালেই 'মাংশ' বানানে ছিলো না। সকল বাংলা অভিধানেই শব্দটির বানান 'মাংস'ই লেখা হয়েছে। (দেখুনঃ ব্যবহারিক বাংলা অভিধান পৃ. ৯৬৮; সংসদ বাংলা অভিধান পৃ. ৬৯৩; আধুনিক বঙ্গভাষার অভিধান চলন্তিকা পৃ. ৫৮২)

'মাংস' শব্দটির উৎস হচ্ছে সংস্কৃত (মন + স) থেকে। বাংলা একাডেমি 'মাংস' শব্দের অর্থ লিখেছে, 'প্রাণীর দেহের হাড় ও চামড়ার মধ্যবর্তী শরীরের অংশবিশেষ'। (ব্যবহারিক বাংলা অভিধান পৃ. ৯৬৮) অন্যান্য অভিধানেও এ জাতীয় অর্থ ছাড়া অন্য কোনো অর্থ লেখা হয় নি।

সুতরাং 'মাংস'কে 'মাংশ' মনে করে 'মায়ের (গরুর) অংশ' ব্যাসবাক্যে সন্ধিবিচ্ছেদ (!) করা বাংলা ব্যকরণের কোনো নিয়মে পড়ে না বিধায় এ ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হবে না। তাছাড়া বাংলা ভাষার কোনো বিশেষজ্ঞ (মুসলিম কিংবা হিন্দু) 'মাংস'কে 'মাংশ' শব্দের পরিবর্তিত রূপ বলে আখ্যায়িত করে তাকে হিন্দুদের বিশ্বাসজাত কোনো শব্দ বলে উল্লেখ করেন নি, যেমনটা করেছেন কীর্তন বেদী, স্নাতক, আচার্য, উপাচার্য, বিশ্বভ্রম্মাণ্ড ইত্যাদি শব্দের ক্ষেত্রে।

অতএব 'মাংস'কে 'মাংশ' ভেবে একে হিন্দুদের বিশ্বাসজাত শব্দ মনে করা এবং মুসলিমদের জন্য শব্দটির ব্যবহার না-জায়েয বলে দেয়া কোনোক্রমেই ঠিক হবে না। তবে হ্যাঁ, 'মাংস' ও 'মাংশ' উচ্চারণে এককরম বিধায় এর ব্যবহার বড়জোর অনুচিত বলা যেতে পারে। কিন্তু যদিও মজার ব্যাপার হল, 'মাংস' শব্দ অভিধানে থাকলেও 'মাংশ' বলে কোনো শব্দই বাংলা ভাষার কোনো অভিধানেই নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00