📄 পাত্রে দু’বার খানা তুলে না দিলে কি আহারগ্রহণকারী ব্যক্তি পানিতে পড়ে মারা যায়?
কোথাও দেখা যায়, আহারগ্রহণকারীর পাত্রে এক চামচ খাবার তুলে দেয়ার পর তিনি যদি আর নিতে নাও চান তবুও জোর করে অল্প হলেও আরেক চামচ দেয়া হয় এবং সাথে এ কথাও বলা হয়, 'একবার দিতে নাই, অন্যথায় তুমি পানিতে পড়ে মারা যাবে।'
প্রশ্ন হলো, পাত্রে একবার বা দুইবার খানা তুলে দেয়ার সাথে মৃত্যুর স্থানের কি সম্পর্ক? কে কোথায় মারা যাবে তার প্রকৃত জ্ঞান তো একমাত্র আলিমুল গায়ব আল্লাহর কাছে-ই আছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, 'আর কোনো প্রাণ জানে না যে, সে কোথায় মারা যাবে।' -সূরা লুকমান ৩১ : ৩৪
অবশ্য পাত্রে দু'বার না দিলে পানিতে পড়ে যাবে এ ধরনের ভ্রান্ত চিন্তা বাদ দিয়ে কেউ যদি মেহমানদারির খাতিরে একাধিকবার খাবার তুলে দিতে চায় তাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে এ ক্ষেত্রেও কৃত্রিমতা পরিহার করে আহার গ্রহণকারী ব্যক্তির রুচি ও চাহিদার প্রতি খেয়াল রাখা উচিত।
📄 বেনামাজির হাতের খাবার খাওয়া
লোকমুখে অনেকই শোনা যায় যে, বেনামাজির হাতের খানা খেলে ৪১ দিনের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়। কথাটি কতটুকু সঠিক? বেনামাজির হাতের জিনিস না খেয়ে কিভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে নিম্নে তার বর্ণনা দেওয়া হল।
এ কথাটি সঠিক নয় যে, বেনামাজির হাতের খেলা খেলে ৪১ দিনের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়। কাফেরের তৈরি হালাল খাদ্য মুমিনের জন্য জায়েজ। তবে নামাযী ব্যক্তির রান্না করা খাদ্য গ্রহণ করা যে উত্তম তা তো বলার প্রয়োজন নেই। যেমনটি হাদীস শরীফে এসেছে,
عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن يهودية أتت النبي صلى الله عليه وسلم بشاة مسمومة فأكل منها -
অতএব যেখানে কাফেরের তৈরি হালাল খাদ্য জায়েজ সেখানে মুমিনের রান্না করা খাদ্য তো অবশ্যই জায়েজ হবে। তবে নামাযী ব্যক্তির রান্না করা খাদ্য বেনামাজির রান্না করা খাদ্য গ্রহণ করা থেকে উত্তম। যদি সম্ভব হয় তাহলে রান্না করা ব্যক্তিকে নামাযের আদেশ করবে এবং নামাযের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।
📄 একটি ভাতের দানা বানাতে সত্তরজন ফিরিশতা লাগে
খাদ্য পড়ে গেলে তুলে খেতে হয়- এটা সকলেরই জানা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্য পড়ে গেলে তুলে খেতে বলেছেন। এমনকি খাদ্যে ময়লা লেগে গেলে তা পরিষ্কার করে খেতে বলেছেন। নিজেও এর উপর আমল করা উচিত এবং অন্যকেও উৎসাহ দেওয়া উচিত। কিন্তু কিছু মানুষ আছে যারা ভাত পড়ে গেলে তুলে খাওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে বলে, ভাত নষ্ট করতে নেই; একটি ভাতের দানা বানাতে সত্তরজন ফিরিশতা লাগে।
একথার কোনো ভিত্তি নেই। একটি ভাত বা চাল তৈরি হতে কতজন ফিরিশতা লাগে তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। এটি অদৃশ্য জগতের বিষয়। তবে একটি ভাতের দানা আমার পর্যন্ত আসতে যে অনেক মানুষের শ্রম আছে এবং মাটি, পানি, চন্দ্র-সূর্য ইত্যাদিকে আল্লাহ তাআলা এ উদ্দেশ্যে ও এমন অনেক উদ্দেশ্যে আমাদের খেদমতে নিযোজিত করেছেন তা কারই বা অজানা। সুতরাং একটি ভাতের দানা হোক বা যে কোনো খাদ্যদ্রব্য হোক, নষ্ট বা অপচয় করার কোনো অবকাশ নেই। এর জন্য আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে হবে।
খাদ্য আল্লাহ তাআলার অনেক বড় নিআমত। এর শুকরিয়া আদায় করা এবং অপচয় থেকে বিরত থাকা জরুরি। কখনো যেন এমন না হয় যে, আমি খাচ্ছি, কিন্তু না খাওয়ার শুরুতে আল্লাহর নাম নিলাম, না শেষে শুকরিয়া আদায় করলাম। (আল-কাউসার:সংখা: ০২: রবিউস সানি ১৪৩৬)
📄 আসরের পর কিছু খাওয়া কি অনুত্তম
একজন বুদ্ধিমান শিক্ষিত মানুষের নিকট থেকে একথাটা শুনে খুবই আশ্চর্যান্বিত হয়েছি যে, তিনি আসর থেকে মাগরিবের মধ্যে কিছু খান না। পূর্ব থেকেই তার ধারণা যে, এই সময় খাওয়া-দাওয়া করা ভালো না বা নিষেধ আছে।
এই ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। শরীয়তে শুধু রোযার হালতে খাওয়া-দাওয়া নিষেধ। অন্য সময় নিষেধ নয়। তবে কেউ যদি বিশেষ কোনো সমস্যার কারণে বা চিকিৎসকের পরামর্শে বিশেষ কোনো সময় খাওয়া থেকে বিরত থাকে তবে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু মনগড়াভাবে দিনে রাতের কোনো অংশের ব্যাপারে একথা বলা যে, এ সময় খানাপিনা থেকে বিরত থাকা উত্তম বা ছওয়াবের কাজ, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ ধরনের রসম-রেওয়াজ মেনে চলা শরীয়তে নিষেধ। কারো প্রয়োজন না হলে খাবে না কিন্তু একে একটি বিধান বানিয়ে দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।