📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 পড়ে যাওয়া খাবার উঠিয়ে খাওয়া

📄 পড়ে যাওয়া খাবার উঠিয়ে খাওয়া


অনেক জায়গায় দস্তর খানার খুব গুরুত্ব দেয়। এটি একটি প্রশংসনীয় কাজ। কিন্তু তারা এর চেয়ে বড় একটি সুন্নতের ব্যাপারে অবহেলা করে। তা হলো কোন লোকমা, তরকারি কিংবা খাদ্যের অংশবিশেষ পড়ে গেলে তা উঠিয়ে খাওয়া। ধুলাবালি গেলে তা পরিষ্কার করে খাওয়া। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। কিন্তু এর প্রতি মনোযোগ দেওয়া হয় না।

পড়ে যাওয়া খাবার এর অংশ বিশেষকেও হাড্ডি, মাছের কাটার সাথে ফেলে দেওয়া হয়। এটা গুণাহের কাজ। এ থেকে আমাদের বেঁচে থাকা উচিত এবং খাদ্যের অংশবিশেষ পড়ে গেলে তা উঠিয়ে খাওয়া উচিত।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 বাসন চেটে খেলে কি কন্যা সন্তান হয়?

📄 বাসন চেটে খেলে কি কন্যা সন্তান হয়?


এক ভাইকে বাসন চেটে খাওয়ার প্রতি উৎসাহিত করা হলে সে বলল, 'প্লেট চেটে খেলে তো কন্যা সন্তান হয়'। আরেকজন মন্তব্য করলেন, চেটে খাওয়া তো অভদ্রতা ও দারিদ্র্যের আলামত। (নাউযুবিল্লাহ) ধারণা দুটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অর্থহীন ও নিতান্তই মূর্খতা। দ্বীনী বিষয়ে গাফলত ও অজ্ঞতার কারণেই যে এ ধরনের কথাবার্তা মানুষ বলে থাকে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা সন্তান দেওয়া না দেওয়া বা কাউকে ছেলে সন্তান দেয়া, কাউকে মেয়ে সন্তান দেয়া তো সম্পূর্ণ আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাধীন। বাসন চেটে খাওয়ার সাথে এর কী সম্পর্ক? আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (তরজমা) “আসমান যমীনের রাজত্ব আল্লাহ্রই; তিনি যা চান সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র দেন। অথবা তাদেরকে পুত্র-কন্যা উভয়ই দান করেন। আবার যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। তিনি সবকিছুই জানেন, সব কিছুই করতে পারেন।” -সূরা শুরা ৪২ : ৪৯-৫০

এ ধরনের ধারণার আরেকটি বাজে দিক হলো, তাতে জাহেলী যুগের দুর্গন্ধ প্রকাশ পাচ্ছে। জাহেলী যুগে কন্যা সন্তানের কথা শুনলেই মানুষের মুখ কালো হয়ে যেত। (সূরা নহল ১৬: ৫৮) আল্লাহ তো কন্যা সন্তানের সংবাদকে 'সুসংবাদ' বলে ব্যক্ত করেছেন।

আর সম্ভবত দ্বিতীয় মন্তব্যটি ঐ ভদ্রলোক এজন্য করেছেন যে, তার জানা নেই; বাসন চেটে খাওয়া রাসূলের সুন্নত। কারণ যার হৃদয়ে তিল পরিমাণ ঈমান আছে, বিষয়টি সুন্নত জানার পরও সে ব্যক্তি এ ধরনের মন্তব্য করতে পারে না। কোন্টা ভদ্রতা ও আদব-কায়দা আর কোন্টা অভদ্রতা ও বেআদবী তা তো রাসূলের কাছ থেকেই শিখতে হবে।

হযরত আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন তোমাদের কেউ খানা খাবে সে যেন তার আঙ্গুল চেটে খায়। আর লোকমা (খাদ্যদ্রব্য) পড়ে গেলে সে যেন ময়লা দূর করে খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা রেখে না দেয়। সাথে সাথে তিনি আমাদেরকে পাত্র চেটে খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কারণ, তোমাদের জানা নেই খাদ্যের কোন্ অংশে বরকত রয়েছে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২০৩৬; জামে তিরমিযী, হাদীস ১৮০৩

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 হারাম মাল ভক্ষণ বলতে কি শুধু হারাম মাল দ্বারা পানাহার বুঝায়

📄 হারাম মাল ভক্ষণ বলতে কি শুধু হারাম মাল দ্বারা পানাহার বুঝায়


কিছু ভাইকে বলতে শোনা যায়, তার উপার্জনের মধ্যে হালাল-হারাম উভয় প্রকার উপার্জন আছে, কিন্তু সে নিজের ও পরিবারের খাওয়া-দাওয়ার খরচ কেবলমাত্র হালাল উপার্জন থেকে করে আর হারাম টাকা বাসা ভাড়া, পোশাক-পরিচ্ছদ ও অন্যান্য কাজে ব্যয় করে। এবং এতে সে সন্তুষ্ট। (নাউযু বিল্লাহি মিন যালিক)

তার ধারণা হল, হারাম মাল ভক্ষণ করা অর্থ শুধু হারাম মাল খাওয়া অর্থাৎ খাদ্যদ্রব্য হারাম মাল দ্বারা ক্রয় করা। বাসাভাড়া, বাহন, পরিধেয় বস্ত্র ইত্যাদি যদি হারাম মালের হয় তাতে সমস্যা নেই।

হারাম মাল ভক্ষণ বলতে যে শুধু হারাম-মাল দ্বারা পানাহার বুঝায় না, বরং সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত, একটি প্রসিদ্ধ হাদীস থেকে তা স্পষ্ট বুঝা যায়-
এক ব্যক্তি দীর্ঘ সফর করেছে। চুল উষ্ক খুষ্ক। সে আসমানের দিকে হাত উঠিয়ে হে আমার রব!... হে আমার রব!!... বলে আল্লাহর কাছে দুআ করছে, (মুসাফিরের দুআ আল্লাহ কবুল করেন, সে হিসেবে তার দুআও কবুল হওয়ার কথা। কিন্তু তা হচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে নবীজী বলেন,) কীভাবে তার দুআ কবুল হবে? অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম অর্থের...। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০১৫; জামে তিরমিযী, হাদীস ২৯৮৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৮৩৪৮

এ হাদীসে তার দুআ কবুল না হওয়ার একটি কারণ বলা হচ্ছে, 'তার পোশাক হারাম অর্থের'। এ থেকে বোঝা যায়, হারাম-ভক্ষণ শুধু হারাম মাল দ্বারা পানাহার বুঝায় না, বরং জীবন নির্বাহের সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে।

তাছাড়া শরীয়ত শুধু হারাম ভক্ষণকে নিষেধ করেননি বরং হারাম গ্রহণ করা এবং হারাম ব্যবহার করাকেও হারাম করেছে।

সুতরাং জীবন নির্বাহের যে কোনো অনুষঙ্গই হারাম থেকে মুক্ত হতে হবে। এমন নয় যে, পানাহার হবে হালাল মাল দ্বারা আর জীবনের অন্যান্য প্রয়োজন সারা হবে হারাম মাল দ্বারা। এটি চিন্তার একটি মারাত্মক ভুল। দ্বীনী সহীহ ইলমের অভাবে মানুষ হয়ত এমন মনে করে। আল্লাহ সকলকে হারাম থেকে রক্ষা করুন, হালাল দ্বারা জীবন যাপনের তাওফীক দান করুন। দ্বীনী সহীহ ইলম হাসিল করার তাওফিক দিন। সকল প্রকার চিন্তার ভ্রান্তি থেকে রক্ষা করুন।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 পাত্রে দু’বার খানা তুলে না দিলে কি আহারগ্রহণকারী ব্যক্তি পানিতে পড়ে মারা যায়?

📄 পাত্রে দু’বার খানা তুলে না দিলে কি আহারগ্রহণকারী ব্যক্তি পানিতে পড়ে মারা যায়?


কোথাও দেখা যায়, আহারগ্রহণকারীর পাত্রে এক চামচ খাবার তুলে দেয়ার পর তিনি যদি আর নিতে নাও চান তবুও জোর করে অল্প হলেও আরেক চামচ দেয়া হয় এবং সাথে এ কথাও বলা হয়, 'একবার দিতে নাই, অন্যথায় তুমি পানিতে পড়ে মারা যাবে।'

প্রশ্ন হলো, পাত্রে একবার বা দুইবার খানা তুলে দেয়ার সাথে মৃত্যুর স্থানের কি সম্পর্ক? কে কোথায় মারা যাবে তার প্রকৃত জ্ঞান তো একমাত্র আলিমুল গায়ব আল্লাহর কাছে-ই আছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, 'আর কোনো প্রাণ জানে না যে, সে কোথায় মারা যাবে।' -সূরা লুকমান ৩১ : ৩৪

অবশ্য পাত্রে দু'বার না দিলে পানিতে পড়ে যাবে এ ধরনের ভ্রান্ত চিন্তা বাদ দিয়ে কেউ যদি মেহমানদারির খাতিরে একাধিকবার খাবার তুলে দিতে চায় তাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে এ ক্ষেত্রেও কৃত্রিমতা পরিহার করে আহার গ্রহণকারী ব্যক্তির রুচি ও চাহিদার প্রতি খেয়াল রাখা উচিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00