📄 মুমিনের ঝুটা কি ঔষধ?
একথাটিও অনেক মানুষের মুখে শোনা যায় যে, মুমিনের ঝুটা ঔষধ। তারা একে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস মনে করে থাকে। অথচ এটাও হাদিস নয়।
এ ব্যাপারে মোল্লা আলী কারী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন হাদিসে তার কোন ভিত্তি নেই। (আল মাসনূ:২০৬) আল্লামা মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন গাযযী রহঃও বলেন এটা হাদিস নয় ।(কাশফুল খাফা:১/৪৫৮)
খাবার শেষে পাত্র পরিষ্কার না করা, একসাথে খাওয়ার সময় অন্যের উচ্ছিষ্ট খাবার কিংবা পানীয় বস্তু ঘৃণা করা খুবই নিন্দনীয়। এমনটি করা উচিত নয়। তাই খাবার শেষে পাত্র ভালোভাবে পরিষ্কার করে খাওয়া এবং অন্যের উচ্ছিষ্টকে ঘৃণা না করা উচিত।
📄 লবণের মাঝে ৭০ রোগের ঔষধ
প্রায় ক্ষেত্রে অনেক মানুষকে বলতে শোনা যায় লবণের মাঝে ৭০ টি রোগের ঔষধ রয়েছে এবং হাদীস হিসেবে এর যথেষ্ট পরিমাণ জনসাধারণের মাঝে প্রচলিত আছে। কিন্তু বাস্তবে তা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস নয়। এটি একটি জাল হাদিস। পুরো বাক্যটি নিম্নরূপ:
إذا أكلت فابدأ بالملح ، فإن الملح شفاء من سبعين داء الجنون والجذام والبرص.
অর্থ আহারের শুরু ও শেষ লবণ দিয়ে কর। কেননা লবণ ৭০ টি রোগের ঔষধ। পাগলামি, কুষ্ঠ, শ্বেত রোগ ...
ইমাম বায়হাকী, ইবনুল জাওযী, ইবনুল কাইয়ুম, হাফেজ সুয়ূতী এবং আল্লামা ইবনে আররাক রহঃ প্রমুখ মুহাদ্দিসীনে কেরাম একে জাল হাদিস বলে আখ্যায়িত করেছেন। (আল মানারুল মুনীফ:৫৫; তানযীহুশ শরীয়া:২/২৪৩-৩৩৯)
📄 পড়ে যাওয়া খাবার উঠিয়ে খাওয়া
অনেক জায়গায় দস্তর খানার খুব গুরুত্ব দেয়। এটি একটি প্রশংসনীয় কাজ। কিন্তু তারা এর চেয়ে বড় একটি সুন্নতের ব্যাপারে অবহেলা করে। তা হলো কোন লোকমা, তরকারি কিংবা খাদ্যের অংশবিশেষ পড়ে গেলে তা উঠিয়ে খাওয়া। ধুলাবালি গেলে তা পরিষ্কার করে খাওয়া। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। কিন্তু এর প্রতি মনোযোগ দেওয়া হয় না।
পড়ে যাওয়া খাবার এর অংশ বিশেষকেও হাড্ডি, মাছের কাটার সাথে ফেলে দেওয়া হয়। এটা গুণাহের কাজ। এ থেকে আমাদের বেঁচে থাকা উচিত এবং খাদ্যের অংশবিশেষ পড়ে গেলে তা উঠিয়ে খাওয়া উচিত।
📄 বাসন চেটে খেলে কি কন্যা সন্তান হয়?
এক ভাইকে বাসন চেটে খাওয়ার প্রতি উৎসাহিত করা হলে সে বলল, 'প্লেট চেটে খেলে তো কন্যা সন্তান হয়'। আরেকজন মন্তব্য করলেন, চেটে খাওয়া তো অভদ্রতা ও দারিদ্র্যের আলামত। (নাউযুবিল্লাহ) ধারণা দুটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অর্থহীন ও নিতান্তই মূর্খতা। দ্বীনী বিষয়ে গাফলত ও অজ্ঞতার কারণেই যে এ ধরনের কথাবার্তা মানুষ বলে থাকে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা সন্তান দেওয়া না দেওয়া বা কাউকে ছেলে সন্তান দেয়া, কাউকে মেয়ে সন্তান দেয়া তো সম্পূর্ণ আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাধীন। বাসন চেটে খাওয়ার সাথে এর কী সম্পর্ক? আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (তরজমা) “আসমান যমীনের রাজত্ব আল্লাহ্রই; তিনি যা চান সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র দেন। অথবা তাদেরকে পুত্র-কন্যা উভয়ই দান করেন। আবার যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। তিনি সবকিছুই জানেন, সব কিছুই করতে পারেন।” -সূরা শুরা ৪২ : ৪৯-৫০
এ ধরনের ধারণার আরেকটি বাজে দিক হলো, তাতে জাহেলী যুগের দুর্গন্ধ প্রকাশ পাচ্ছে। জাহেলী যুগে কন্যা সন্তানের কথা শুনলেই মানুষের মুখ কালো হয়ে যেত। (সূরা নহল ১৬: ৫৮) আল্লাহ তো কন্যা সন্তানের সংবাদকে 'সুসংবাদ' বলে ব্যক্ত করেছেন।
আর সম্ভবত দ্বিতীয় মন্তব্যটি ঐ ভদ্রলোক এজন্য করেছেন যে, তার জানা নেই; বাসন চেটে খাওয়া রাসূলের সুন্নত। কারণ যার হৃদয়ে তিল পরিমাণ ঈমান আছে, বিষয়টি সুন্নত জানার পরও সে ব্যক্তি এ ধরনের মন্তব্য করতে পারে না। কোন্টা ভদ্রতা ও আদব-কায়দা আর কোন্টা অভদ্রতা ও বেআদবী তা তো রাসূলের কাছ থেকেই শিখতে হবে।
হযরত আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন তোমাদের কেউ খানা খাবে সে যেন তার আঙ্গুল চেটে খায়। আর লোকমা (খাদ্যদ্রব্য) পড়ে গেলে সে যেন ময়লা দূর করে খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা রেখে না দেয়। সাথে সাথে তিনি আমাদেরকে পাত্র চেটে খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কারণ, তোমাদের জানা নেই খাদ্যের কোন্ অংশে বরকত রয়েছে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২০৩৬; জামে তিরমিযী, হাদীস ১৮০৩