📄 খাওয়ার পর মুখমন্ডলে ও পায়ের তালুতে হাত মোছা কি সুন্নত?
অনেক ব্যক্তিদেরকে দেখা যায় খাবারের পর অধিক গুরুত্বের সাথে পায়ের তালুতে ও মুখমন্ডলে হাত মুছে থাকে এবং এটিকে সুন্নত মনে করে। অথচ বাস্তবতা হলো এটা কোন সুন্নত নয়। একে সুন্নত বলা ভুল; বরং চর্বিযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রে হাত সাবান কিংবা গরম পানি দিয়ে উত্তম ভাবে পরিষ্কার করে রুমাল কিংবা তোয়ালে জাতীয় কিছুতে মুছে নেওয়া উচিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন তোমাদের মধ্যে কেউ যখন আহার করে তখন সে যেন আঙ্গুল চেটে খাওয়ার আগে রুমালে হাত না মোছে। (মুসনাদে আহমদ: ১/৩৪৬২) অতএব খাওয়ার পরে মুখমন্ডলে ও পায়ের তালুতে হাত মোছা সুন্নত নয়।
📄 মুমিনের থুথু কি ঔষধ?
মানুষের মুখে একটি কথা প্রচলিত আছে যে, মুখের লালা কিংবা থুথু ঔষধ । তারা এটাকে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস মনে করে থাকে। বস্তুত মুমিনের থুথু ঔষধ এ কথাটি হাদিস নয়। মোল্লা আলী কারী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন যে হাদীসের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। (আল মাসনূ: ১০৬) আল্লামা আজলনী রহঃও বলেছেন যে এটা হাদিস নয়। (কাশফুল খাফা: ১/৪৩৬)
📄 মুমিনের ঝুটা কি ঔষধ?
একথাটিও অনেক মানুষের মুখে শোনা যায় যে, মুমিনের ঝুটা ঔষধ। তারা একে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস মনে করে থাকে। অথচ এটাও হাদিস নয়।
এ ব্যাপারে মোল্লা আলী কারী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন হাদিসে তার কোন ভিত্তি নেই। (আল মাসনূ:২০৬) আল্লামা মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন গাযযী রহঃও বলেন এটা হাদিস নয় ।(কাশফুল খাফা:১/৪৫৮)
খাবার শেষে পাত্র পরিষ্কার না করা, একসাথে খাওয়ার সময় অন্যের উচ্ছিষ্ট খাবার কিংবা পানীয় বস্তু ঘৃণা করা খুবই নিন্দনীয়। এমনটি করা উচিত নয়। তাই খাবার শেষে পাত্র ভালোভাবে পরিষ্কার করে খাওয়া এবং অন্যের উচ্ছিষ্টকে ঘৃণা না করা উচিত।
📄 লবণের মাঝে ৭০ রোগের ঔষধ
প্রায় ক্ষেত্রে অনেক মানুষকে বলতে শোনা যায় লবণের মাঝে ৭০ টি রোগের ঔষধ রয়েছে এবং হাদীস হিসেবে এর যথেষ্ট পরিমাণ জনসাধারণের মাঝে প্রচলিত আছে। কিন্তু বাস্তবে তা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস নয়। এটি একটি জাল হাদিস। পুরো বাক্যটি নিম্নরূপ:
إذا أكلت فابدأ بالملح ، فإن الملح شفاء من سبعين داء الجنون والجذام والبرص.
অর্থ আহারের শুরু ও শেষ লবণ দিয়ে কর। কেননা লবণ ৭০ টি রোগের ঔষধ। পাগলামি, কুষ্ঠ, শ্বেত রোগ ...
ইমাম বায়হাকী, ইবনুল জাওযী, ইবনুল কাইয়ুম, হাফেজ সুয়ূতী এবং আল্লামা ইবনে আররাক রহঃ প্রমুখ মুহাদ্দিসীনে কেরাম একে জাল হাদিস বলে আখ্যায়িত করেছেন। (আল মানারুল মুনীফ:৫৫; তানযীহুশ শরীয়া:২/২৪৩-৩৩৯)