📄 আম্বিয়া খাতুন নাম রাখা
এভাবে কারো নাম রাখা ভুল। কারণ আম্বিয়া হল, নবী শব্দের বহুবচন। অর্থ নবীগণ। তাহলে এটা কি কারো নাম হতে পারে? কুরআনে কারীমের একটি সূরার নাম 'আম্বিয়া' এবং কুরআনের বহু স্থানে আম্বিয়া শব্দটি এসেছে। সে কারণেই হয়ত শব্দটি কারো পছন্দ হয়েছে এবং তার কন্যার নাম রেখে দিয়েছে আম্বিয়া। কিন্তু নামটি রাখার পূর্বে যদি কোনো আলেমকে জিজ্ঞেস করে অর্থ জেনে নেয়া হত তাহলে হয়ত এ বিপত্তি ঘটত না। সুতরাং যে কোনো শব্দ পছন্দ হলেই সেটি নাম হিসেবে গ্রহণ করব না। বরং নাম রাখার পূর্বে জেনে নেব এ শব্দটি পুত্র বা কন্যার নাম রাখা যায় কি না। সাথে সাথে নামের বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা জেনে নিব; কোন নাম আল্লাহর কাছে বেশি পছন্দনীয়, কোন ধরনের নাম রাখা যাবে, কোনটা যাবে না ইত্যাদি।
📄 কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের অসুন্দর নাম পরিবর্তন করে সুন্দর নাম রাখতেন তেমনি অসুন্দর ভাষাও সংশোধন করে দিতেন। সেখানে ভাষার মধ্যে যদি আপত্তিমূলক কোনো শব্দ-বাক্য থাকে; মুশরিকদের কোনো দেব-দেবীর নাম থাকে তাহলে তো তা অবশ্যই সংশোধনযোগ্য।
বাংলা ভাষায় প্রচলিত একটি প্রবাদ বাক্য হল, 'কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না।' যার দ্বারা উদ্দেশ্য হল, কোনো কাজে সাফল্য পেতে হলে সাধনা করতে হয়। উদ্দেশ্যগত দিক থেকে এ বাক্যে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু শব্দগত দিক থেকে আপত্তি রয়েছে। কারণ, কেষ্ট হল, হিন্দুদের দেবতা-কৃষ্ণ-এর আঞ্চলিক রূপ (আধুনিক বাংলা অভিধান; বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান; বাংলা একাডেমী)। সে হিসেবে এ বাক্যের শব্দগত অর্থ হল, কেষ্ট দেবতা অর্থাৎ কৃষ্ণকে পেতে হলে কষ্ট-সাধনা করতে হবে। এখন একজন মুসলিম তো কখনো হিন্দুদের দেবতা কৃষ্ণকে পাওয়ার জন্য সাধনা করতে পারে না। সুতরাং আমরা এ বাক্য বলব না। (আল-কাউসার:সংখ্যা: ০৩: জুমাদাল আখিরাহ-রজব ১৪৪০)
📄 বিদায়ের সময় সালাম-মুসাফাহা করা কি সুন্নতের খেলাফ?
কোনো কোনে মানুষের ধারণা, বিদায়ের সময় সালাম-মুসাফাহা করা সুন্নতের খেলাফ। তাদের এ ধারণা ঠিক নয়। হাদীস শরীফে বিদায়ের সময় সালাম-মুসাফাহা করার কথা প্রমাণিত আছে।
সাক্ষাতের সময় যেমন সালাম দেয়া সুন্নত, তেমনি বিদায়ের সময়ও সালাম দিয়ে বিদায় নেওয়া সুন্নত। হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন তোমাদের কেউ কোনো মজলিসে পৌঁছবে তখন সালাম দিবে। যদি বসতে চায় বসে পড়বে। এরপর যখন মজলিস ত্যাগ করবে তখনও সালাম দিবে। কারণ প্রথম সালাম দ্বিতীয় সালাম অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়। অর্থাৎ উভয়টির গুরুত্ব সমান। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৭০৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫২০৮
আরেকটি বর্ণনায় এভাবে এসেছে, নবীজী একটি মজলিসে ছিলেন, এক ব্যক্তি পাশ দিয়ে অতিক্রমের সময় বলল, আস সালামু আলাইকুম। নবীজী বললেন, দশ নেকি।... এক ব্যক্তি সালাম দেয়া ছাড়া উঠে গেল। তখন নবীজী বললেন, সে মনে হয় ভুলে গেছে। যখন তোমাদের কেউ কোনো মজলিসে পৌঁছবে তখন সালাম দিবে। যদি উক্ত মজলিসে বসতে চায় বসবে। এরপর যখন মজলিস থেকে উঠে যাবে (বিদায় নিবে) তখনও সালাম দিবে। কারণ প্রথম সালাম দ্বিতীয় সালাম অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়। অর্থাৎ উভয়টির গুরুত্ব সমান। -আলআদাবুল মুফরাদ, হাদীস ৯৮৬
তেমনি বিদায়ের সময় মুসাফাহা করাও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। কাযাআ রাহ. বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-এর নিকট ছিলাম। যখন সেখান থেকে ফিরে আসবো তখন তিনি আমাকে বললেন, থামো, আমি তোমাকে সেভাবে বিদায় দিবো যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিদায় দিয়েছেন। তখন তিনি আমার হাত ধরে মুসাফাহা করলেন এরপর বললেন, عَمَلِكَ وَخَوَاتِيمَ وَأَمَانَتَكَ، دَيْنَكَ اللَّهَ أَسْتَوْدِعُ
-আসসুনানুল কুবরা, নাসায়ী, হাদীস ১০২৭০
আর নিম্নোক্ত হাদীসও প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাউকে বিদায় দিতেন তখন তার হাত ধরতেন। অতপর ঐ ব্যক্তি হাত টেনে না নেওয়া পর্যন্ত তিনি তার হাত ছাড়তেন না। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৪৪২; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/৪৯১
সুতরাং বিদায়ের সময় সালাম-মুসাফাহাকে সুন্নতের খেলাফ বলার কোনো অবকাশ নেই।
📄 মুসাফার ভিত্তিহীন ফজিলত
কিছু কিছু মানুষকে বলতে শোনা যায়, কেউ যদি দিনে পঁচিশ জনের সাথে মুসাফাহা করে আর সেদিন মারা যায় তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ কথার কোনো ভিত্তি নেই। নির্ভরযোগ্য কোনো বর্ণনায় তা পাওয়া যায় না। এটি আসলে একটি মনগড়া কথা। এগুলো বলা থেকে আমরা বিরত থাকব। সহীহ হাদীসে মুসাফাহার ফযীলত বর্ণিত হয়েছে, আমরা সেগুলোই বলব।
হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَا مِنْ مُسْلِمَيْنِ يَلْتَقِيَانِ فَيَتَصَا فَحَانِ إِلا غُفِرَ لَهُمَا قَبْلَ أَنْ يَفْتَرِقَا
দু'জন মুসলিম যখন সাক্ষাৎ করে এবং মুসাফাহা করে তখন তারা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই তাদেরকে মাফ করে দেওয়া হয়। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৭২৭; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫২১২
আরেক হাদীসে এসেছে-
এক মুমিন যখন আরেক মুমিনের সাথে সাক্ষাৎ করে সালাম দেয় এবং মুসাফাহা করে তখন তাদের গুনাহসমূহ এমনভাবে ঝরে পড়ে যেভাবে (শীতকালে) গাছের পাতা ঝরে পড়ে। -আলমুজামুল আওসাত, তবারানী, হাদীস ২৪৫; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস ১২৭৬৬
সুতরাং আমরা মুসাফাহা বিষয়ে এসকল সহীহ হাদীস বলব এবং ভিত্তিহীন কথা বলা থেকে বিরত থাকব।