📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 তিনটা দৃষ্টিকোণ থেকে কদমবুসি করার কুফল নিয়ে আলোচনাঃ

📄 তিনটা দৃষ্টিকোণ থেকে কদমবুসি করার কুফল নিয়ে আলোচনাঃ


১) ইসলামি দৃষ্টিকোণ: কদমবুসি করা শিরক। কিছু মানুষ বলে কদমবুসি করা কিভাবে শিরক হয় আমরা তো সিজদা করিনা শুধু মাথা নুয়ে সালাম করি! অথচ মাথা নুয়ানো মানে সিজদাহ করা। কিছু মানুষ আছে যারা বলে আমরা কদমবুসি করার সময় চোখ উপরে তুলি তাই আমাদের সিজদাহ হয়না অতএব এই রকম চোখ উপরে তুলে কদমবুসি করা জায়েজ!! কি অদ্ভুত যুক্তি! এদের যুক্তি মেনে নিলেও তবুও কদমবুসি করা হারাম। কেননা রাসুল (সা) বলেন, যে ব্যক্তি অন্য কওমের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে (মিশকাত হা/৪৩৪৭) কদমবুসি করা বিধর্মীদের রীতি। অতএব কদমবুসি করা হারাম।

২) চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোন: চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে মানুষের শরীরের সবচেয়ে অপরিষ্কার ও আনহাইজেনিক স্থান হল পা। তাহলে আপনি কিভাবে পাকে ধরছেন? আপনি হয়তো কদমবুসি করার কারনে অসুস্থ হতে পারেন।

৩) আকল বা বিবেক বুদ্ধির দৃষ্টিকোণ: যদি আপনার বিবেক বুদ্ধি সুস্থ হয় তাহলে আপনি অবশ্যই বলবেন মাথা নুয়ে কারও পা ধরা বেয়াদবি ও চরম অসম্মানজনক। কেননা আপনি যদি কাউকে ভালবাসেন অথবা সম্মান করেন তাকে আপনার পায়ে নয় বুকে জায়গা দিবেন।

ইসলামে পায়ে ধরে সালাম করার কোনো বিধান নেই। এটি একেবারেই ইসলাম পরিপন্থী কাজ। এবং কাফির মুশরিক দের সাদৃশ্যতায় উদ্ভাবিত একটি বিদাত। আর বিদাত এর ব্যাপারে-

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- "যে কেউ কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্যতা ধারণ করলো, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" [সুনান আবু দাউদ]

আল্লাহ্ আমাদেরকে সকল প্রকার শির্ক ও বিদ'আত থেকে দূরে রাখুন!!

বর্তমানে অনেক আপন ও মর্যাদাবান মানুষকে দেখা যায় শুধু সালাম দিলেই হয় না; বরং কদমমুছি করা আবশ্যক মনে করে। আবার এক্ষেত্রে যারা কদমমুছি করে না তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করে থাকে। এমনকি অনেক জায়গায় বেয়াদবও বলে ফেলে। অথচ এটি একটি শরিয়ত পরিপন্থী কাজ। এটি একটি মারাত্মক ধরনের কুসংস্কার। তাই এগুলো থেকে বিরত থাকা উচিত। এমনকি কেউ কদমমুছি না করলে তাকে নিয়ে খারাপ ধারণা কিংবা মন্তব্য করা ঠিক নয়।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 সালামের ক্ষেত্রে ইশারা করা

📄 সালামের ক্ষেত্রে ইশারা করা


অনেককে দেখা যায় সালাম না দিয়ে হাতে সালামের ইশারা করে অথবা মাথা দিয়ে ইশারা করে অভিবাদন জানায়। এগুলো বলাতে সালামের সুন্নত এবং সালামের আদব কোনটাই রক্ষা হয় না। যেহেতু আমরা অভিবাদন জানাচ্ছি তাই পরিপূর্ণ সালাম দিয়েই জানাই। এতে একটি সুন্নতের উপর আমল করাও হয়ে যাবে। শুধু ইশারা করে সুন্নত পরিপন্থী এ কাজটি করা উচিত নয়।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 সালামের উত্তর এর ক্ষেত্রে একটি ভুল

📄 সালামের উত্তর এর ক্ষেত্রে একটি ভুল


প্রায় ক্ষেত্রে অনেক মানুষকে দেখা যায় সালামের উত্তর না দিয়ে আবার সালাম দেয়। এটাও একটি ভুল। সম্মানিত ব্যক্তিদের কেউ যদি আগে সালাম দিয়ে ফেলে তখন আমাদের অনেকেই উত্তর দিতে লজ্জাবোধ করে, তাই উত্তর না দিয়ে নতুন করে আবার সালাম দিয়ে ফেলে। এটা পরিহারযোগ্য। কেউ সালাম দিলে তার উত্তর দেওয়া উচিত। তাই উত্তর দিতে হবে । এতে করে একটি পরিপূর্ণ সুন্নতের উপর আমল করাও হয়ে যাবে। যদি সালাম দিতে হয় তাহলে আগে উত্তর দিয়ে তারপর পুনরায় আবার তাকে সালাম দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করুন।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আংগুল চুমু খেয়ে চোখে মোছা

📄 আংগুল চুমু খেয়ে চোখে মোছা


প্রায় অধিকাংশ মানুষকে দেখা যায় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম শুনে আঙ্গুলি চুমু খেয়ে তার চোখে মোছে। বিশেষ করে আযান ও ইকামতের ক্ষেত্রে এটা বেশি দেখা যায়। এমনটি করা বিদআত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি করতে বলেননি। সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীনদের কেউ এমনটি করেন নি । অথচ আমাদের তুলনায় তাদের ভালোবাসা ছিলো নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য অতুলনীয়। যা সাহাবীদের জীবনী থেকে অবলোকন করা যায়। আর তিনারা ছিলেন খাঁটি প্রেমিক। আর আমরা এমন প্রেমিক যেগুলো খাঁটি প্রেমিকরা করেননি সেগুলো আমরা রীতিমত পালন করে যাচ্ছি। অথচ বাস্তবতা তার বিপরীত। তাই এগুলোর ক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত ।

আজানে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম শোনামাত্র আঙ্গুলে চুমু খাওয়া সম্পর্কে যত হাদিস বর্ণিত রয়েছে সবগুলো বানানো হাদিস। খ্রিস্টানরা এ সমস্ত বানিয়ে হাদীস বলে চালিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে এগুলো হাদিস নয়। এই সমস্ত কাজকর্ম থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00