📄 সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল
কাউকে সালাম দেওয়ার পর সালাম দিয়েছি বলা। সালাম দেওয়ার পর উত্তর না পেলে আমরা সাধারণত বলে থাকি সালাম দিয়েছি। এভাবে বলা ঠিক নয়। হতে পারে আপনি সালাম দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু তার কান পর্যন্ত আপনার সালাম এর আওয়াজ পৌঁছে নি। তাই নিয়ম হলো আবার সালাম দেওয়া। শ্রোতাকে যথাসম্ভব সালাম শুনিয়ে দিতে হবে। সালামের উত্তর যেমন তাকে শুনিয়ে দিতে হয় তেমনিভাবে সালামও শুনিয়ে দিতে হয়।
📄 সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি ভুল
অনেকে আছে প্রথমে সালাম দেওয়া তো দূরের কথা কেউ সালাম দিলে তার উত্তর দেওয়ার মাঝেও সুন্নত বিরোধী পন্থা অবলম্বন করে থাকে। আবার কখনও শুধু মাথা হেলানো পর্যন্ত শেষ। অথচ প্রত্যেক মুসলমানের সালামের উত্তর দিতে হয় এবং স্পষ্ট আওয়াজে উত্তর দিতে হয়।
আবার কোনো কোনো লোককে দেখা যায় তারা বড় কোনো ব্যক্তিকে সালাম দেওয়ার সময় মাথা নত বরং সিনাও ঝুঁকিয়ে দেয়। এটাও সুন্নত বিরোধী ভুল নিয়ম। হাদিস শরীফে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। তাই এই সমস্ত কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি।
📄 কদমমুছি করার ব্যাপারে ভুল ধারণা
পা ধরে সালাম বা কদমবুসি করা ইসলামী শরী'আত সম্মত নয়!!.."হারাম".."হারাম"..
আনাস (রাঃ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যখন তার কোন ভাই বা বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাত করবে, তখন সে কি মাথা ঝুঁকাবে বা তাকে জড়িয়ে ধরবে বা চুমু খাবে? তিনি বললেন, না। লোকটি বলল, তাহ'লে কি কেবল হাত ধরবে ও মুছাফাহা করবে? রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, হ্যাঁ'। ---তিরমিযী, মিশকাত হা/৪৬৮০ 'শিষ্টাচার' অধ্যায়, মুছাফাহা ও মু'আনাক্বা অনুচ্ছেদ-৩।
কদমবুসি যাকে বাঙ্গালি মুসলিমরা নাম দিয়েছে পায়ে ধরে সালাম করা। অথচ সালাম কিভাবে পায়ে ধরে হয়!! কদমবুসি করা জঘন্যতম গুনাহ, বিবেক বিরোধী এবং নোংরামি।
📄 তিনটা দৃষ্টিকোণ থেকে কদমবুসি করার কুফল নিয়ে আলোচনাঃ
১) ইসলামি দৃষ্টিকোণ: কদমবুসি করা শিরক। কিছু মানুষ বলে কদমবুসি করা কিভাবে শিরক হয় আমরা তো সিজদা করিনা শুধু মাথা নুয়ে সালাম করি! অথচ মাথা নুয়ানো মানে সিজদাহ করা। কিছু মানুষ আছে যারা বলে আমরা কদমবুসি করার সময় চোখ উপরে তুলি তাই আমাদের সিজদাহ হয়না অতএব এই রকম চোখ উপরে তুলে কদমবুসি করা জায়েজ!! কি অদ্ভুত যুক্তি! এদের যুক্তি মেনে নিলেও তবুও কদমবুসি করা হারাম। কেননা রাসুল (সা) বলেন, যে ব্যক্তি অন্য কওমের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে (মিশকাত হা/৪৩৪৭) কদমবুসি করা বিধর্মীদের রীতি। অতএব কদমবুসি করা হারাম।
২) চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোন: চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে মানুষের শরীরের সবচেয়ে অপরিষ্কার ও আনহাইজেনিক স্থান হল পা। তাহলে আপনি কিভাবে পাকে ধরছেন? আপনি হয়তো কদমবুসি করার কারনে অসুস্থ হতে পারেন।
৩) আকল বা বিবেক বুদ্ধির দৃষ্টিকোণ: যদি আপনার বিবেক বুদ্ধি সুস্থ হয় তাহলে আপনি অবশ্যই বলবেন মাথা নুয়ে কারও পা ধরা বেয়াদবি ও চরম অসম্মানজনক। কেননা আপনি যদি কাউকে ভালবাসেন অথবা সম্মান করেন তাকে আপনার পায়ে নয় বুকে জায়গা দিবেন।
ইসলামে পায়ে ধরে সালাম করার কোনো বিধান নেই। এটি একেবারেই ইসলাম পরিপন্থী কাজ। এবং কাফির মুশরিক দের সাদৃশ্যতায় উদ্ভাবিত একটি বিদাত। আর বিদাত এর ব্যাপারে-
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- "যে কেউ কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্যতা ধারণ করলো, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" [সুনান আবু দাউদ]
আল্লাহ্ আমাদেরকে সকল প্রকার শির্ক ও বিদ'আত থেকে দূরে রাখুন!!
বর্তমানে অনেক আপন ও মর্যাদাবান মানুষকে দেখা যায় শুধু সালাম দিলেই হয় না; বরং কদমমুছি করা আবশ্যক মনে করে। আবার এক্ষেত্রে যারা কদমমুছি করে না তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করে থাকে। এমনকি অনেক জায়গায় বেয়াদবও বলে ফেলে। অথচ এটি একটি শরিয়ত পরিপন্থী কাজ। এটি একটি মারাত্মক ধরনের কুসংস্কার। তাই এগুলো থেকে বিরত থাকা উচিত। এমনকি কেউ কদমমুছি না করলে তাকে নিয়ে খারাপ ধারণা কিংবা মন্তব্য করা ঠিক নয়।