📄 মুসাফাহা করার সময় ঝুকা
সাক্ষাতের সময় নিজ মুসলিম ভাইকে সালাম করাতো সুন্নতে মুয়াক্কাদা ও ইসলামের নিদর্শন। পরিচিত-অপরিচিত সকলকে প্রথমে সালাম দেওয়ার চেষ্টা করা। শুদ্ধ উচ্চারণে কমপক্ষে আসসালামু আলাইকুম পর্যন্ত বলা সুন্নত।
সালামের পর আরেকটি আমল হলো মুসাফাহা যা করা মুস্তাহাব পর্যায়ের একটি আমল। তবে সালামের মতো মুসাফা করার আদেশ এতটা তাকিদ পূর্ণ নয় যে, পরিচিত-অপরিচিত সকলের সাথে মুসাফাহা করতে হবে। বর্তমান মুসাফা করার আদব এর দিকে লক্ষ্য করা হয় না। মুসাফা করার আদব রক্ষা না করার কারণে অনেক সময় মানুষের কষ্ট হয়। এটা নাজায়েজ। অনেককে দেখা যায় কোন বুযুর্গ কিংবা বড় ব্যক্তির সাথে মুসাফা করার সময় কিছুটা ঝুঁকে পড়ে অথচ কারো সম্মানার্থে মাথা কিংবা ঘাড় ঝুঁকানোর অনুমতি নেই। কোন ভাইয়ের সাথে সাক্ষাত হলে কি মুসাফা করব? এ প্রশ্নের উত্তরে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, হ্যাঁ, মুসাফা কর। এর পর জিজ্ঞেস করা হলো তার সামনে কি ঝুঁকতে পারি? ইরশাদ করলেন, না যাবে না। (তিরমিযী শরীফ: হাদীস নং:২৭২৮)
📄 মুসাফাহ করার পর বুকে হাত লাগানো
অনেক মানুষকে দেখা যায় মুসাফাহা করার পর বিশেষ করে কোন বুযুর্গের সাথে মুসাফাহা করার পর ডান হাত নিজের বুকে মুছে নেয়। কি নিয়তে এমনটি করেন তা অজানা। সম্ভবত এই নিয়ত হতে পারে যে, মুসাফাহ করার দ্বারা যে বরকত হলো তা নিজ শরীরে মুছে নেওয়া। এই প্রচলন এর কোন ভিত্তি নেই এবং এই নিয়তেরও কোন ভিত্তি নেই। এই ছোট ছোট বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতনতা এজন্য জরুরি যে, ধীরে ধীরে তা এক প্রকারের প্রথা হিসাবে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। এই নিয়ে পরস্পর দ্বন্দ্বও সৃষ্টি হয়। এমনকি মূর্খতা প্রসূত এই প্রথা এক পর্যায়ের বিদা'আত পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
📄 সালামের উত্তর না দিয়ে কেমন আছেন বলা
অনেক মানুষকেই দেখা যায় সালামের উত্তর না দিয়ে বলে, কেমন আছেন কিংবা সালামের উত্তর কোন রকম দিয়ে কেমন আছেন বলতে ব্যস্ত হয়ে যায়। এ কাজটি ঠিক নয়। কেউ সালাম দিলে তার উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। তাই আগে স্পষ্টভাবে শুনিয়ে সালামের উত্তর দিতে হবে। তারপর কুশল বিনিময়ের সময় থাকলে তা করবে। কিন্তু সালামের উত্তর না দিয়ে কোন রকম সালামের উত্তর দিয়ে কেমন আছেন বলাটা একেবারেই ঠিক নয়।
📄 সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল
কাউকে সালাম দেওয়ার পর সালাম দিয়েছি বলা। সালাম দেওয়ার পর উত্তর না পেলে আমরা সাধারণত বলে থাকি সালাম দিয়েছি। এভাবে বলা ঠিক নয়। হতে পারে আপনি সালাম দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু তার কান পর্যন্ত আপনার সালাম এর আওয়াজ পৌঁছে নি। তাই নিয়ম হলো আবার সালাম দেওয়া। শ্রোতাকে যথাসম্ভব সালাম শুনিয়ে দিতে হবে। সালামের উত্তর যেমন তাকে শুনিয়ে দিতে হয় তেমনিভাবে সালামও শুনিয়ে দিতে হয়।