📄 কুরবানীর ঈদের দিন কি দু’ পা বিশিষ্ট প্রাণী (হাস-মুরগি ইত্যাদি) যবেহ করা নিষেধ?
কিছু কিছু মানুষ মনে করে, কুরবানীর ঈদের দিন হাস-মুরগি ইত্যাদি দু' পা বিশিষ্ট প্রাণী যবেহ করা যাবে না। এটি একটি অমূলক ধারণা, এর কোনো ভিত্তি নেই।
তারা হয়ত মনে করে যে, কুরবানী যেহেতু চার পা বিশিষ্ট প্রাণী দিয়ে করতে হয়; দু' পা বিশিষ্ট প্রাণী দ্বারা কুরবানী করা যায় না, সুতরাং এ দিনে দুই পা বিশিষ্ট প্রাণী যবেহও করা যাবে না। আসলে অজ্ঞতার কারণে এ ধরনের অমূলক ধারণার সৃষ্টি হয় এবং সমাজে এগুলোর প্রচলন হয়ে থাকে। এ ধরনের অমূলক ধারণা থেকে বেঁচে থাকতে হবে।
কিছু কিছু মানুষ মনে করে, কুরবানীর ঈদের দিন হাস-মুরগি ইত্যাদি দু' পা বিশিষ্ট প্রাণী যবেহ করা যাবে না। এটি একটি অমূলক ধারণা, এর কোনো ভিত্তি নেই।
তারা হয়ত মনে করে যে, কুরবানী যেহেতু চার পা বিশিষ্ট প্রাণী দিয়ে করতে হয়; দু' পা বিশিষ্ট প্রাণী দ্বারা কুরবানী করা যায় না, সুতরাং এ দিনে দুই পা বিশিষ্ট প্রাণী যবেহও করা যাবে না। আসলে অজ্ঞতার কারণে এ ধরনের অমূলক ধারণার সৃষ্টি হয় এবং সমাজে এগুলোর প্রচলন হয়ে থাকে। এ ধরনের অমূলক ধারণা থেকে বেঁচে থাকতে হবে।
📄 কুরবানীর গোশত কি অমুসলিমদের দেওয়া যায় না?
কোনো কোনো মানুষের ধারণা- কুরবানীর গোশত অমুসলিমদের দেওয়া যায় না। এ ধারণা ঠিক নয়।
কুরবানীর গোশত অমুসলিমদের দেওয়া যায়। এতে অসুবিধার কিছু নেই। বিশেষত অমুসলিম যদি প্রতিবেশী হয়। কারণ, প্রতিবেশী হিসেবে তার হক রয়েছে। সাহাবীগণ অমুসলিম প্রতিবেশীর হকের প্রতি সবিশেষ লক্ষ্য রাখতেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আম্র রা.-এর বাড়িতে একবার একটি বকরি জবেহ করা হল। যখন তিনি বাড়িতে ফিরলেন জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি আমাদের ইহুদী প্রতিবেশীকে এ গোশত হাদিয়া পাঠিয়েছ? এভাবে দুইবার জিজ্ঞেস করলেন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯৪৩ সুতরাং অমুসলিমকে কুরবানীর গোশতসহ অন্যান্য হাদিয়া দেওয়া যাবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
لَا يَنْهُكُمُ اللهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُمْ مِّنْ دِيَارِكُمْ أَنْ تَبَرُّوُهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمُ ...
দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে স্বদেশ হতে বের করে দেয়নি তাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। আল্লাহ তো ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।
আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে স্বদেশ হতে বের করে দিয়েছে এবং তোমাদেরকে বের করার কাজে সহায়তা করেছে। তাদের সাথে যারা বন্ধুত্ব করে তারা তো যালেম। -সূরা মুমতাহিনা (৬০) : ৮-৯
কোনো কোনো মানুষের ধারণা- কুরবানীর গোশত অমুসলিমদের দেওয়া যায় না। এ ধারণা ঠিক নয়।
কুরবানীর গোশত অমুসলিমদের দেওয়া যায়। এতে অসুবিধার কিছু নেই। বিশেষত অমুসলিম যদি প্রতিবেশী হয়। কারণ, প্রতিবেশী হিসেবে তার হক রয়েছে। সাহাবীগণ অমুসলিম প্রতিবেশীর হকের প্রতি সবিশেষ লক্ষ্য রাখতেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আম্র রা.-এর বাড়িতে একবার একটি বকরি জবেহ করা হল। যখন তিনি বাড়িতে ফিরলেন জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি আমাদের ইহুদী প্রতিবেশীকে এ গোশত হাদিয়া পাঠিয়েছ? এভাবে দুইবার জিজ্ঞেস করলেন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯৪৩ সুতরাং অমুসলিমকে কুরবানীর গোশতসহ অন্যান্য হাদিয়া দেওয়া যাবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
لَا يَنْهُكُمُ اللهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُمْ مِّنْ دِيَارِكُمْ أَنْ تَبَرُّوُهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمُ ...
দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে স্বদেশ হতে বের করে দেয়নি তাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। আল্লাহ তো ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।
আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে স্বদেশ হতে বের করে দিয়েছে এবং তোমাদেরকে বের করার কাজে সহায়তা করেছে। তাদের সাথে যারা বন্ধুত্ব করে তারা তো যালেম। -সূরা মুমতাহিনা (৬০) : ৮-৯
📄 কুরবানীর শরীক সংখ্যা কি বেজোড় হওয়া জরুরি
কিছু লোককে বলতে শোনা গেছে, যে পশুতে সাতজন শরীক হতে পারে তাতে শরীকের সংখ্যা বেজোড় হওয়া জরুরি। সুতরাং একটি গরুতে এক, তিন, পাঁচ বা সাতজন শরীক হতে পারবে। দুই, চার বা ছয়জন শরীক হতে পারবে না।
এটা বিলকুল গলত কথা। একটি গরু যেমন এক ব্যক্তি একা কুরবানী করতে পারে তেমনি দুই থেকে সাত পর্যন্ত যে কোনো সংখ্যক শরীক একত্র হয়েও কুরবানী করতে পারে। এতে কোনো বাধা নেই। তেমনি শরীকের সংখ্যা জোড় না হয়ে বেজোড় হওয়ার মাঝেও এমন আলাদা কোনো ফযীলত নেই, যার কারণে পাঁচ শরীকের স্থলে ছয় শরীক বা ছয় শরীকের স্থলে সাত শরীক একত্র হয়ে কুরবানী করতে উৎসাহ দেওয়া যায়।
কিছু লোককে বলতে শোনা গেছে, যে পশুতে সাতজন শরীক হতে পারে তাতে শরীকের সংখ্যা বেজোড় হওয়া জরুরি। সুতরাং একটি গরুতে এক, তিন, পাঁচ বা সাতজন শরীক হতে পারবে। দুই, চার বা ছয়জন শরীক হতে পারবে না।
এটা বিলকুল গলত কথা। একটি গরু যেমন এক ব্যক্তি একা কুরবানী করতে পারে তেমনি দুই থেকে সাত পর্যন্ত যে কোনো সংখ্যক শরীক একত্র হয়েও কুরবানী করতে পারে। এতে কোনো বাধা নেই। তেমনি শরীকের সংখ্যা জোড় না হয়ে বেজোড় হওয়ার মাঝেও এমন আলাদা কোনো ফযীলত নেই, যার কারণে পাঁচ শরীকের স্থলে ছয় শরীক বা ছয় শরীকের স্থলে সাত শরীক একত্র হয়ে কুরবানী করতে উৎসাহ দেওয়া যায়।
📄 মহিলাদের জবাইকৃত পশু কি হালাল নয়?
সাধারণত পুরুষরাই হাঁস মুরগি ইত্যাদি জবাই করে থাকেন। মহিলাদের জবাই করার তেমন প্রয়োজন হয় না। ফলে কোনো কোনো মানুষ মনে করেন, কোনো মহিলা মুরগি বা কোনো পশু জবাই করলে তা খাওয়া হালাল নয়। তাদের এই ধারণা ঠিক নয়। পুরুষের জবাইকৃত পশু যেমন হালাল তেমনি মহিলার জবাইকৃত পশুও হালাল।
বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকলে অনেক সময়ই মহিলাদের হাঁস-মুরগি জবাই করতে হয়। এতে কোনো অসুবিধা নেই।
সাধারণত পুরুষরাই হাঁস মুরগি ইত্যাদি জবাই করে থাকেন। মহিলাদের জবাই করার তেমন প্রয়োজন হয় না। ফলে কোনো কোনো মানুষ মনে করেন, কোনো মহিলা মুরগি বা কোনো পশু জবাই করলে তা খাওয়া হালাল নয়। তাদের এই ধারণা ঠিক নয়। পুরুষের জবাইকৃত পশু যেমন হালাল তেমনি মহিলার জবাইকৃত পশুও হালাল।
বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকলে অনেক সময়ই মহিলাদের হাঁস-মুরগি জবাই করতে হয়। এতে কোনো অসুবিধা নেই।