📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 মিনার তিনটি জামরা কি তিন শয়তান?

📄 মিনার তিনটি জামরা কি তিন শয়তান?


অনেক মানুষ ভুল ধারণা পোষণ করে যে, তিন জামরা হল তিন শয়তান। কিংবা প্রত্যেক জমরার সাথে একটি করে শয়তান বাধা আছে; বরং কিছু মানুষকে এমন বলতে শোনা যায় যে, প্রথমটি হচ্ছে বড় শয়তান, তার পরেরটা মেজ শয়তান, তার পরেরটা ছোট শয়তান।

জেনে রাখুন, এজাতীয় ধারণা পোষণ কিংবা নামকরণ কোনটাই সঠিক নয়। আসলে জমারাত আরবি জামরাতুন শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হচ্ছে ছোট ছোট কংকর কিংবা নুড়িপাথর। যেহেতু এই সকল স্থানে ছোট ছোট কংকর নিক্ষেপ করা হয় এইজন্য এগুলোকে জামারাত বলে। এই নিক্ষেপের প্রেক্ষাপট হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বর্ণনা থেকে জানা যায়।

হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যখন আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ পালনার্থে হযরত ইসমাইল আলাইহিস সাল্লামকে কুরবানী করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন শয়তান তিনবার তাকে ফেরানোর চেষ্টা করেছিল। আর তিনবার ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তাকে সাতটি করে কংকর নিক্ষেপ করে প্রতিহত করে ছিলেন। অবশেষে তিনি এই মহা পরীক্ষায় কামিয়াব হয়েছিলেন। তিন স্থানে শয়তান তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সেই তিন স্থান নিশানার মাধ্যমে নির্দিষ্ট রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে সেখানে একটি খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে যে খুঁটি মক্কার সীমানার একেবারেই নিকটবর্তী এবং মসজিদে খাইফ থেকে দূরে অবস্থিত সেটাকে জামরাতুল কুবরা বা জামরাতুল আকাবা বলা হয়। এর পরেরটাকে জামরাতুল উসতা এবং এর পরেরটাকে জামরাতুল উলা বা জামরাতুদ দুনইয়া তথা নিকটতম জামরা বলে। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সরাসরি শয়তানকেই কংকর নিক্ষেপ করেছিলেন।

আজ তার অনুসরণে ঐসকল স্থানে কংকর নিক্ষেপ করা হয় যেখানে যেখানে শয়তান তাকে বাধা দিয়েছিল। আর তিনি কংকর মেরে শয়তানকে প্রতিহত করেছিলেন। আমাদের কংকর নিক্ষেপের উদ্দেশ্য হল মিল্লাতে হানিফা তথা মিল্লাতে তাওহীদ এর ইমাম হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের উক্ত কর্মের অনুকরণ যা আমাদের নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ। প্রকৃতপক্ষে উক্ত কর্মের মাধ্যমে আমাদের নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরই আনুগত্য করা।

এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে, ঐ সকল স্থানে খুঁটির আকৃতিতে শয়তানও থাকে না বা ওই শয়তানকেও সেখানে বেধে রাখা হয়নি।

এই কংকর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে যে যত বেশি আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের প্রেরণা আর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বত অন্তরে পোষন করবেন এবং যত বেশি শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার ইচ্ছা রাখবে সেটা শয়তানের জন্য ততবেশি লাঞ্ছনা ও আক্ষেপের কারন হবে।

মোট কথাঃ মিনার জামারাত শয়তান নয় এবং শয়তান সেখানে খুঁটি আকৃতিতে উপস্থিতও নয়। আর শয়তানকে সেখানে বেঁধে রাখাও হয়নি; বরং আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ পালনার্থে সেখানে কংকর নিক্ষেপ করা হয়। আল্লাহ তাআলার এই নির্দেশের মাঝে অনেক হিকমত নিহিত রয়েছে।

একটি বড় হিকমত হল আল্লাহর জিকির জিন্দা করা ও শয়তানের বিরোধিতায় পূর্ণ উজ্জীবিত হওয়া। আর এর প্রেক্ষাপট হল হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ঐ ঘটনা যা ইতিপূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে । (শুআবুল ঈমান)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00