📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 হজ্বে কি মহিলাদের পর্দা করতে হয় না

📄 হজ্বে কি মহিলাদের পর্দা করতে হয় না


মক্কায় এক ভাই বলছিলেন, তার এক আত্মীয়া বাড়িতে খুব গুরুত্বের সঙ্গে পর্দা করেন, শুধু নামের পর্দা নয়, শরয়ী পর্দা। কিন্তু হজ্ব করতে এসে পর্দা বাদ দিয়েছেন। তার কথা এই যে, 'হজ্বের সময় মেয়েদের পর্দা করা লাগে না।' অনেক দ্বীনদার মহিলা এ ধারণা পোষণ করেন। কিন্তু এটা ঠিক নয়। এটা একটা ভুল ধারণা। ইহরামের হালতেও গায়রে মাহরামের সঙ্গে মেয়েদের পর্দা করা অপরিহার্য। এটা ঠিক যে, ইহরামের হালতে মুখমন্ডলে কাপড় লাগানো নিষেধ, কিন্তু মুখে কাপড় লাগানো এবং গায়রে মাহরামের সামনে ইচ্ছা করে মুখ খোলা রাখা এক বিষয় নয়।

হযরত আয়েশা রা. বলেন, ইহরামের হালতে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। লোকেরা যখন আমাদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করত তো আমরা আমাদের চাদর মাথার সামনে ঝুলিয়ে দিতাম। চলে যাওয়ার পর সরিয়ে ফেলতাম। (সুনানে আবু দাউদ)

এরপর মুখে কাপড় না লাগানোর বিধান তো শুধু ইহরামের হালতে প্রযোজ্য। উমরায় খুব বেশি হলে এক দুই দিন এবং হজ্বে তিন চার দিন। (তবে যদি কেউ ইফরাদ বা কিরানের নিয়তে ইহরাম বাঁধে তার বিষয় ভিন্ন) এই দিনগুলো ছাড়া যারা বেপর্দা ঘুরাফেরা করে তাদের তো ইহরামেরও অজুহাত নেই।

তাছাড়া মদীনা মুনাওয়ারার সফরে তো ইহরামের প্রশ্ন নেই। এই সফরে এবং মদীনা মুনাওয়ারায় অবস্থানের দিনগুলোতে মুখ খুলে রাখা এবং সকল গায়রে মাহরামকে মাহরাম মনে করা অবশ্যই অজ্ঞতার পরিচায়ক এবং অযথা গুনাহগার হওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। এই মোবারক সফরের পূর্ণ বরকত লাভের জন্য সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। (কিতাবুল হজ্ব, মাওলানা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী পৃ. ২৮-২৯)

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 ইহরাম অবস্থায় কি চাদর কিংবা লেপ দ্বারা পা আবৃত করা যাবে?

📄 ইহরাম অবস্থায় কি চাদর কিংবা লেপ দ্বারা পা আবৃত করা যাবে?


এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা গেল যে, মিনায় এক লোক চাদর গায়ে দিয়ে শুয়ে আছে। কিন্তু তার মাথা ও পা অনাবৃত। পা আবৃত করেছিলেন, কিন্তু কয়েকজন মানুষ তাকে অত্যন্ত জোর দিয়ে বলল যে, ভাই! ইহরাম অবস্থায় পায়ের উপর কাপড় লাগানো সঠিক নয়।

জেনে রাখুন, এজাতীয় ধারণা পোষণ কিংবা নামকরণ কোনটাই সঠিক নয়। ইহরাম অবস্থায় পা ঢাকা যায়। তবে মুজা কিংবা সাধারণ জুতা পরিধান করা যায় না। চপ্পল কিংবা এ জাতীয় কোন জুতা পরিধান করা যেতে পারে।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 মসজিদে নববীতে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ পড়াকে জরুরী মনে করা

📄 মসজিদে নববীতে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ পড়াকে জরুরী মনে করা


মসজিদে নববীতে এক রাকাত নামাজ ৫০ হাজার রাকাত নামাজের সমতুল্য। হজ্বের সময় মসজিদে নববীতে উপস্থিত হওয়া এবং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রওজা মোবারক গিয়ে সরাসরি সালাম করার সৌভাগ্য অর্জন এর জন্য মদিনা-মনোয়ারা উদ্দেশ্যে সফরের ধারা হাজী সাহেবানদের মধ্যে রয়েছে, যা অতি উত্তম আমল। কিন্তু সেখানে অবস্থানের জন্য শরীয়তের পক্ষ থেকে কোনো মেয়াদ নির্ধারিত নেই। অর্থাৎ এটা অপরিহার্য নয় যে, সেখানে কমপক্ষে আট দিন থাকতে হবে। কোন কোন মানুষ আট দিন অবস্থানকে এত আবশ্যক মনে করে যে, এর জন্য নিজেকে, সফরসঙ্গীদের এবং কাফেলার আমিরকে কষ্ট ফেলে দিতেও দ্বিধাবোধ করে না। অথচ তা শরীয়তের পক্ষ থেকে নির্ধারিত কোনো মেয়াদ নির্দিষ্ট করা নেই যে, তা পূরণ করা আবশ্যক মনে করতে হবে। এ প্রসঙ্গে মুসনাদে আহমদ (৩/১৫৫: পৃঃ) ও তাবরানী শরীফ এ একটি বর্ণনা আছে যে, কেউ যদি এই মসজিদে অর্থাৎ মসজিদে নববীতে ধারাবাহিকভাবে চল্লিশ দিন নামাজ আদায় করে তাহলে সে জাহান্নামের আজাব ও নিফাক থেকে মুক্তি পাবে। এই বর্ণনার কারণে লোকেরা আটদিন অবস্থান করা আবশ্যক মনে করে। অথচ উক্ত হাদীসের সনদের বিচারে দুর্বল। উপরোক্ত এই হাদীসে শরীফের প্রসিদ্ধ মতন যা তিরমিজী শরীফে রয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য চল্লিশ দিন জামাতে তাকবিরে উলার সাথে নামাজ আদায় করে তার জন্য দুটো পরোয়ানা লেখা হয়, জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরোয়ানা ও নিফাক থেকে মুক্তির পরোয়ানা। (জামে তিরমিজি:২৪১)

অতএব স্পষ্ট বুঝা যায় যে, এই ফজিলত যে কোন মসজিদে জামাতে শামিল হওয়ার দ্বারা হাসিল হতে পারে।

বিষয়টি ভুল না বুঝার অনুরোধ করবো। ফজিলত এর ক্ষেত্রে দুর্বল হাদীস শর্তসাপেক্ষে আমল যোগ্য তা সবারই জানা আছে। কিন্তু একই সাথে এটাও সত্য যে, দুর্বল হাদীস দ্বারা শরীয়তের কোন বিধান প্রমাণ হয় না এবং কোনো মেয়াদ নির্ধারিত হয় না। এজন্য সহজভাবে সেখানে আট দিন থাকার সুযোগ হয়ে গেলে ভালো। কিন্তু একে আবশ্যক মনে করা কিংবা অপরিহার্য বিধানের মত এত বেশি গুরুত্ব দেওয়া যাতে, কষ্ট ও পেরেশানিতে পড়ে যেতে হয় কিংবা পরস্পর মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়, যা ঠিক নয়। প্রকৃত করণীয় হচ্ছে হারাম শরীফে যতদিন থাকার সুযোগ হয় চেষ্টা করবে মসজিদে হারামে ও মসজিদে নববীতে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করা। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো যে, আট দিন থাকতেই হবে এটাকে শরীয়তের আবশ্যক কিংবা অপরিহার্য বিষয় মনে না করা।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 তাওয়াফের সাত চক্করের জন্য কি আলাদা আলাদা দুআ রয়েছে?

📄 তাওয়াফের সাত চক্করের জন্য কি আলাদা আলাদা দুআ রয়েছে?


হজ্জের সময় প্রতি বছর অনেক মানুষকে দেখা যায় মাতাফে তাওয়াফ করার সময় হাতে পুস্তিকা নিয়ে তাতে লেখা তাওয়াফের প্রতি চক্করের নির্দিষ্ট দোয়া জোরে পড়তে থাকে। অনেক মানুষ অশুদ্ধভাবেও পড়ে। আর অধিকাংশ মানুষ অর্থ না বুঝে শুধু মৌখিকভাবে উচ্চারণ করতে থাকে। বহু মানুষ এমনও আছে যারা মুখস্থ কিংবা পুস্তিকা দেখে কোনো ভাবেই তা পড়তে পারে না। তারা শুধু এই দুয়াগুলো পড়ার জন্য দলবেঁধে এমন কারও সঙ্গে তাওয়াফ করে যারা পুস্তিকা দেখে শুদ্ধভাবে হলেও এ দোয়া গুলো পড়তে পারে। আর অন্যরা যতটুকু সম্ভব তার অনুসরণ করতে চেষ্টা করে।

এতোখানি শ্রম স্বীকারের পিছনে তাদের এই ধারণা কাজ করে যে, তাওয়াফের প্রতি চক্করে শরীয়তের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন দুআ নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে, যা পড়া আবশ্যক কিংবা গুরুত্বের সাথে পড়া উচিত। আর এতে বিশেষ সাওয়াব ও উপকারিতা রয়েছে।

এ ধারণা ঠিক নয়। বিভিন্ন লিফলেট কিংবা পুস্তিকায় তাওয়াফের প্রত্যেক করার সময় পড়ার জন্য যে সমস্ত দোয়া লিখিত আছে সেগুলোর শব্দ অর্থ সঠিক হোক কিংবা ভুল হোক, কোরআন-হাদিসের দোয়া হোক বা কারো বানানো হোক, সেগুলো তাওয়াফের দোয়া নয়। অর্থাৎ এগুলো তাওয়াফের সময় পড়া সুন্নত বা মুস্তাহাবও নয়। তাওয়াফের সময় পড়ার জন্য যে একটি দোয়া হাদীস শরীফে এসেছে তা খুবই সংক্ষিপ্ত যেমন-
ربنا اتنا في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنة وقنا عذاب النار .

এই কোরআনের দোয়া গোটা তাওয়াফের সময় করা যায়। বিশেষ করে রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদ এর মধ্যবর্তী স্থানে দোয়া করা উচিত। তেমনিভাবে অন্তরে যে, হাজতে থাকে তা আল্লাহতালার কাছে প্রার্থনা করা যায়। এটাই আল্লাহ তালার কাছে পছন্দনীয়। বান্দা যে ভাষাতেই তা প্রার্থনা করুক না কেন।

কত ভালো হতো, যদি আমাদের হাজী সাহেবরা এই মাসায়েল ভালোভাবে অনুধাবন করতেন এবং সে মোতাবেক আমল করতেন। তাহলে তাওয়াফের সময় এই দলবদ্ধতার কারণে অন্য হাজীদের কষ্ট হতো না। আর তাদের উচ্চ আওয়াজ অন্যদের মন সংযোগে কোন প্রকার ব্যাঘাত ঘটত না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00