📄 হারাম শরীফে একটি গুনাহও কি লক্ষ গুনাহর মতো?
হারাম শরীফে এক ব্যক্তি অন্য আরেকজনকে বলছিলেন যে, 'হারাম শরীফের একটি গুনাহ এক লক্ষ গুনাহর সমান। এদিকেও আমাদের লক্ষ রাখা দরকার।'
মসজিদে হারামে এক রাকাত নামায এক লক্ষ রাকাতের সমান-এ কথা সহীহ হাদীসে আছে। তবে মসজিদের বাইরে ও পুরো হারাম শরীফে এই ছওয়াব পাওয়া যাবে এটা কোনো সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। কিন্তু ঐ লোকটি ছওয়াবের সঙ্গে তুলনা করে গুনাহকেও এক লক্ষ বানিয়ে দিয়েছে, সেও আবার পুরো হারাম শরীফে, অথচ আল্লাহ তাআলা রাহমান ও রহীম, তিনি বান্দাদের ছওয়াব বাড়িয়ে দেন। একটি ছওয়াবের কাজে কমপক্ষে দশটি ছওয়াব দান করেন। এক রাকাতকে হাজার রাকাতের সমান করে দেন, লক্ষ রাকাতের সমান করে দেন। কিন্তু গুনাহের ক্ষেত্রে তার নীতি হল একটি গুনাহ একটিই গণ্য হয়। তবে একথা ভিন্ন যে, কেউ হারাম শরীফে গুনাহ করলে হারাম শরীফের সম্মান ক্ষুণ্ণ করার অপরাধও তার উপর বর্তায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ওখানে এক গুনাহ করার দ্বারা এক লক্ষ গুনাহ লেখা হবে। (আল-কাউসার: সংখ্যা: ১২: মহররম ১৪২৯
📄 ইহরামের অবস্থায় কি মীকাতের সীমানা থেকে বের হওয়া ঠিক নয়
কারো কারো এই ধারণা আছে যে, ইহরাম বাঁধার পর হজ্ব-ওমরা সম্পন্ন করার আগে মীকাতের সীমানা থেকে বের হওয়া ঠিক নয়। এই ধারণা ভুল। ইহরামের হালতেও মীকাত থেকে বের হওয়া যায়। এতে ইহরামের কোনো ক্ষতি হয় না। যেমন কেউ ইফরাদ বা কিরান হজ্বের ইহরাম বেঁধে মক্কা মুকাররমায় গিয়েছেন। তওয়াফ ইত্যাদি করার পর যেহেতু হজ্বের এখনও দেরি আছে তাই হজ্বের আগেই মসজিদে নববীর যিয়ারত করার ইচ্ছা করলেন। তো এতে কোনো দোষ নেই। হ্যাঁ, বিনা প্রয়োজনে মীকাতের বাইরে কেন যাবে? হরমের বাইরেই বা যাবে কেন?
📄 যে যতবার লাব্বাইক বলেছে ততবার হজ্বে যাবে
لَمَّا نَادَى إِبْرَاهِيمُ بِالْحَجِّ لَبَّى الْخَلْقُ فَمَنْ لَبِّي تَلْبِيَةً وَاحِدَةً حَجَّ حَجَّةً وَاحِدَةً وَمَنْ لَبَّى مَرَّتَيْنِ حَجَّ حَجَّتَيْنِ ...
যখন ইবরাহীম আলাইহিস সালাম হজ্বের আহ্বান করলেন। তখন সকল সৃষ্টি লাব্বাইক বলেছে। তো যে একবার লাব্বাইক বলেছে সে একবার হজ্ব করবে, যে দুইবার বলেছে সে দুইবার... এভাবে যে যতবার লাব্বাইক বলেছে সে ততবার হজ্ব করবে।
বর্ণনাটি লোকমুখে প্রসিদ্ধ। কিন্তু কোনো নির্ভরযোগ্য সনদে এটি বর্ণিত হয়নি।
ইবনে আররাক রাহ. জাল বর্ণনা বিষয়ক তাঁর কিতাব তানযীহুশ শরীয়াহয় (২/১৭৬) বলেন, এটি আহলে বাইতের নামে মুহাম্মাদ ইবনে আশআছের জালকৃত কিতাবের একটি বর্ণনা। এ বর্ণনাটি সে আলী রা.-এর নামে জাল করেছে।
আরো দ্রষ্টব্য : আলফাওয়াইদুল মাজমূআ, হজ্ব অধ্যায়, পৃ. ১০৯; তাযকিরাতুল মাউযূআত ১/৭৩; আদ্দুররুল মানছুর, সুয়ূতী ৪/৩৮৮
📄 হজ্বে কি মহিলাদের পর্দা করতে হয় না
মক্কায় এক ভাই বলছিলেন, তার এক আত্মীয়া বাড়িতে খুব গুরুত্বের সঙ্গে পর্দা করেন, শুধু নামের পর্দা নয়, শরয়ী পর্দা। কিন্তু হজ্ব করতে এসে পর্দা বাদ দিয়েছেন। তার কথা এই যে, 'হজ্বের সময় মেয়েদের পর্দা করা লাগে না।' অনেক দ্বীনদার মহিলা এ ধারণা পোষণ করেন। কিন্তু এটা ঠিক নয়। এটা একটা ভুল ধারণা। ইহরামের হালতেও গায়রে মাহরামের সঙ্গে মেয়েদের পর্দা করা অপরিহার্য। এটা ঠিক যে, ইহরামের হালতে মুখমন্ডলে কাপড় লাগানো নিষেধ, কিন্তু মুখে কাপড় লাগানো এবং গায়রে মাহরামের সামনে ইচ্ছা করে মুখ খোলা রাখা এক বিষয় নয়।
হযরত আয়েশা রা. বলেন, ইহরামের হালতে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। লোকেরা যখন আমাদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করত তো আমরা আমাদের চাদর মাথার সামনে ঝুলিয়ে দিতাম। চলে যাওয়ার পর সরিয়ে ফেলতাম। (সুনানে আবু দাউদ)
এরপর মুখে কাপড় না লাগানোর বিধান তো শুধু ইহরামের হালতে প্রযোজ্য। উমরায় খুব বেশি হলে এক দুই দিন এবং হজ্বে তিন চার দিন। (তবে যদি কেউ ইফরাদ বা কিরানের নিয়তে ইহরাম বাঁধে তার বিষয় ভিন্ন) এই দিনগুলো ছাড়া যারা বেপর্দা ঘুরাফেরা করে তাদের তো ইহরামেরও অজুহাত নেই।
তাছাড়া মদীনা মুনাওয়ারার সফরে তো ইহরামের প্রশ্ন নেই। এই সফরে এবং মদীনা মুনাওয়ারায় অবস্থানের দিনগুলোতে মুখ খুলে রাখা এবং সকল গায়রে মাহরামকে মাহরাম মনে করা অবশ্যই অজ্ঞতার পরিচায়ক এবং অযথা গুনাহগার হওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। এই মোবারক সফরের পূর্ণ বরকত লাভের জন্য সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। (কিতাবুল হজ্ব, মাওলানা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী পৃ. ২৮-২৯)