📄 ৩. নয় যিলহজ্বের প্রতিদিনের রোযার ভিন্ন ভিন্ন ফযীলত
"যে ব্যক্তি যিলহজ্ব মাসের প্রথম দিন রোযা রাখে সে যেন আল্লাহর রাস্তায় দুই হাজার বৎসর জিহাদ করল।... যে ব্যক্তি যিলহজ্বের তৃতীয় দিন রোযা রাখে সে ইসমাঈল আ.-এর বংশের তিন হাজার গোলাম আযাদের সওয়াব পাবে। আর যে চতুর্থ দিন রোযা রাখে সে যেন চারশত বৎসর আল্লাহর ইবাদত করল।..." এভাবে যিলহজ্বের বিভিন্ন দিনের রোযার ভিন্ন ভিন্ন ফযীলত উল্লেখ করা হয়েছে।
এসকল বইয়ের কোনো কোনোটিতে এজাতীয় একটি ঘটনাও উল্লেখ করতে দেখা যায়। যেখানে যিলহজ্বের নয় দিন রোযা রাখার ফযীলত উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি নিম্নরূপ :
“এক যুবকের অভ্যাস ছিল, যিলহজ্ব মাসের চাঁদ উঠতেই সে রোযা রাখতে শুরু করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথা জানতে পেরে তাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি এ দিনগুলোতে রোযা রাখ কেন? ... নবীজী তার কথা শুনে বললেন, তোমার প্রতিটি রোযার বিনিময়ে তুমি একশ গোলাম আযাদ করার, একশ উট আল্লাহর রাস্তায় দান করার... সওয়াব পাবে।...আর নয় যিলহজ্বের রোযার বিনিময়ে এক হাজার গোলাম আযাদ করার...।"
যিলহজ্বের রোযার ফযীলত বিষয়ক এ ঘটনাটিও বানোয়াট। ইবনুল জাওযী রাহ. বলেন, 'ঘটনাটি প্রমাণিত নয়। জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহ. তার কথার সমর্থন করেছেন।
হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. বলেন, এই বর্ণনা জাল না হলে পৃথিবীতে আর কোনো জাল বর্ণনা-ই নেই। (অর্থাৎ এই বর্ণনা জাল হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।) ইবনে আররাক কিনানী রাহ. তাঁর কথা উদ্ধৃত করে মৌন সমর্থন করেছেন। (দ্র. কিতাবুল মাওযূআত ২/৫৬৪; মীযানুল ইতিদাল ৩/৬৬৯; লিসানুল মীযান ৭/৪০৫; আললাআলিল মাসনূআ ২/১০৭; তানযীহুশ শরীআহ ২/১৪৮; আলফাওয়াইদুল মাজমুআ ১/১২) যাইহোক, যিলহজ্বের প্রথম নয় দিন রোযা রাখার কথা কিছু (যঈফ) বর্ণনায় পাওয়া যায়। একটি বর্ণনায় এসেছে-
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ تِسْعَ ذِي الْحِجَّةِ.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজ্বের নয়টি দিবস রোযা রাখতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৩৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২২৩৩৪; সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদীস ৮৩৯৩)
কিন্তু এ নয় দিনের রোযার বিশেষ কোনো ঘোষিত ফযীলত নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায় না; শুধু ইয়াওমে আরাফা তথা নয় যিলহজ্বের রোযার ফযীলতের কথা হাদীসে এসেছে, যা আমরা উপরে উল্লেখ করেছি।
মোটকথা, যিলহজ্ব মাস ফযীলতপূর্ণ। বিশেষ করে এর প্রথম দশক। এ দশকের আমল ও তার ফযীলত সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এসকল পুস্তিকার উপরোল্লিখিত এসব আমল ও ফযীলত বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এগুলো বিশ্বাস করা যাবে না। আল্লাহ আমাদের ভিত্তিহীন বিষয়গুলো থেকে রক্ষা করুন এবং নির্ভরযোগ্য বিষয়গুলো জেনে সে অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করুন। (আল-কাউসার: সংখ্যা: ০৭যিলহজ্ব: ১৪৪০)