📄 জুমাবার হজ্ব হলে সত্তর হজ্বের সওয়াব
ইয়াওমে আরাফা অর্থাৎ হজ্ব যদি জুমার দিন হয় তাহলে উক্ত হজ্ব সত্তর বা বাহাত্তর হজ্বের চেয়েও বেশি ফযীলত রাখে। কোনো কোনো মানুষকে এটি হাদীস হিসেবে বলতে শোনা যায়। কিন্তু এটি হাদীস নয়। কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে তা পাওয়া যায় না। ইবনুল কায়্যিম রাহ. বলেন, এটি একটি বাতিল কথা, এর কোনো ভিত্তি নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবা-তাবিঈন কারো থেকেই এ ধরনের কথা প্রমাণিত নেই। (-যাদুল মা'আদ ১/৬৫: আদ্দুররুল মুখতার, ২/৬২১; ফয়যুল কাদীর ২/২৮, বর্ণনা ১২৪২) তেমনিভাবে জুমাবার হজ্ব হলে কোনো কোনো মানুষ এটিকে 'আকবরি হজ্ব'ও বলে থাকে- এটিও একটি ভিত্তিহীন কথা। তবে এটা ঠিক যে, জুমার দিনে হজ্ব হলে সেখানে একদিকে আরাফার দিনের ফযীলত ও অন্যদিকে জুমার দিনের ফযীলত একত্র হয় এবং এজন্য এর একটি বিশেষ গুরুত্বও রয়েছে, তবে এর সঙ্গে উপরোক্ত বর্ণনা ও বক্তব্যের কোনো সম্পর্ক নেই, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গ।
📄 হারাম শরীফে একটি গুনাহও কি লক্ষ গুনাহর মতো?
হারাম শরীফে এক ব্যক্তি অন্য আরেকজনকে বলছিলেন যে, 'হারাম শরীফের একটি গুনাহ এক লক্ষ গুনাহর সমান। এদিকেও আমাদের লক্ষ রাখা দরকার।'
মসজিদে হারামে এক রাকাত নামায এক লক্ষ রাকাতের সমান-এ কথা সহীহ হাদীসে আছে। তবে মসজিদের বাইরে ও পুরো হারাম শরীফে এই ছওয়াব পাওয়া যাবে এটা কোনো সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। কিন্তু ঐ লোকটি ছওয়াবের সঙ্গে তুলনা করে গুনাহকেও এক লক্ষ বানিয়ে দিয়েছে, সেও আবার পুরো হারাম শরীফে, অথচ আল্লাহ তাআলা রাহমান ও রহীম, তিনি বান্দাদের ছওয়াব বাড়িয়ে দেন। একটি ছওয়াবের কাজে কমপক্ষে দশটি ছওয়াব দান করেন। এক রাকাতকে হাজার রাকাতের সমান করে দেন, লক্ষ রাকাতের সমান করে দেন। কিন্তু গুনাহের ক্ষেত্রে তার নীতি হল একটি গুনাহ একটিই গণ্য হয়। তবে একথা ভিন্ন যে, কেউ হারাম শরীফে গুনাহ করলে হারাম শরীফের সম্মান ক্ষুণ্ণ করার অপরাধও তার উপর বর্তায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ওখানে এক গুনাহ করার দ্বারা এক লক্ষ গুনাহ লেখা হবে। (আল-কাউসার: সংখ্যা: ১২: মহররম ১৪২৯
📄 ইহরামের অবস্থায় কি মীকাতের সীমানা থেকে বের হওয়া ঠিক নয়
কারো কারো এই ধারণা আছে যে, ইহরাম বাঁধার পর হজ্ব-ওমরা সম্পন্ন করার আগে মীকাতের সীমানা থেকে বের হওয়া ঠিক নয়। এই ধারণা ভুল। ইহরামের হালতেও মীকাত থেকে বের হওয়া যায়। এতে ইহরামের কোনো ক্ষতি হয় না। যেমন কেউ ইফরাদ বা কিরান হজ্বের ইহরাম বেঁধে মক্কা মুকাররমায় গিয়েছেন। তওয়াফ ইত্যাদি করার পর যেহেতু হজ্বের এখনও দেরি আছে তাই হজ্বের আগেই মসজিদে নববীর যিয়ারত করার ইচ্ছা করলেন। তো এতে কোনো দোষ নেই। হ্যাঁ, বিনা প্রয়োজনে মীকাতের বাইরে কেন যাবে? হরমের বাইরেই বা যাবে কেন?
📄 যে যতবার লাব্বাইক বলেছে ততবার হজ্বে যাবে
لَمَّا نَادَى إِبْرَاهِيمُ بِالْحَجِّ لَبَّى الْخَلْقُ فَمَنْ لَبِّي تَلْبِيَةً وَاحِدَةً حَجَّ حَجَّةً وَاحِدَةً وَمَنْ لَبَّى مَرَّتَيْنِ حَجَّ حَجَّتَيْنِ ...
যখন ইবরাহীম আলাইহিস সালাম হজ্বের আহ্বান করলেন। তখন সকল সৃষ্টি লাব্বাইক বলেছে। তো যে একবার লাব্বাইক বলেছে সে একবার হজ্ব করবে, যে দুইবার বলেছে সে দুইবার... এভাবে যে যতবার লাব্বাইক বলেছে সে ততবার হজ্ব করবে।
বর্ণনাটি লোকমুখে প্রসিদ্ধ। কিন্তু কোনো নির্ভরযোগ্য সনদে এটি বর্ণিত হয়নি।
ইবনে আররাক রাহ. জাল বর্ণনা বিষয়ক তাঁর কিতাব তানযীহুশ শরীয়াহয় (২/১৭৬) বলেন, এটি আহলে বাইতের নামে মুহাম্মাদ ইবনে আশআছের জালকৃত কিতাবের একটি বর্ণনা। এ বর্ণনাটি সে আলী রা.-এর নামে জাল করেছে।
আরো দ্রষ্টব্য : আলফাওয়াইদুল মাজমূআ, হজ্ব অধ্যায়, পৃ. ১০৯; তাযকিরাতুল মাউযূআত ১/৭৩; আদ্দুররুল মানছুর, সুয়ূতী ৪/৩৮৮