📄 সঠিক দিবস-রজনী
১. ইয়াওমু আরাফা (৯ই যিলহজ্ব, রোযা রাখা সুন্নত)
২. ঈদুল-আযহা (১০ই যিলহজ্ব)
৩. আইয়ামে বীজ (প্রতি চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখ, রোযা রাখা সুন্নত)
৪. লাইলাতুল বারাআত বা লাইলাতুন নিছফি মিন শাবান (১৫ই শাবান)
৫. লাইলাতুল কদর অন্বেষণ ও ইতিকাফ (রমযানের শেষ দশক)
৬. ঈদুল-ফিতর (১লা শাওয়াল)
৭. আইয়ামে তাশরীক (১১, ১২ ও ১৩ যিলহজ্ব)
৮. আশুরা (১০ ই মুহাররম; ৯-১০/১০-১১) তারিখে রোযা রাখা সুন্নত)
৯. আশারায়ে যিলহজ্ব (যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশদিন)
১০. ইয়াওমুল জুমুআ (প্রতি সপ্তাহের জুমার দিন)
১১. সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার (রোযা রাখা সুন্নত)
📄 ভুল দিবস-রজনী
১. আখেরী চাহার শোম্বাহ (সফরের শেষ বুধবার)
২. লায়লাতুর রাগাযেব (রজব মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার)
৩. শবে এস্তেফতাহ (১৫ই রজব)
৪. লাইলাতুল মিরাজ (২৭ শে রজব)
৫. ফাতিহায়ে ইয়াযদহম (রবিউস সানীর ১১ তারিখ)
৬. ফাতিহায়ে দোয়াযদহম (রবিউল আউয়ালের ১২ তারিখ)
৭. ১২ই রবিউল আউয়াল। (আল-কাউসার: সংখ্যা: ১১- মুহাররম-১৪৩৪)
📄 নামাযের ফযীলত বিষয়ে একটি ভুল ধারণা
এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা গেল, কেউ ফজরের দুই রাকাত (ফরয) নামায আদায় করলে আলাহ তার সারা দিনের জামিন হয়ে যান। যোহরের চার রাকাত (ফরয) ও আসরের চার রাকাত (ফরয) -এই আট রাকাত আদায় করলে সে আট জান্নাতের মালিক হয়ে গেল। মাগরিবের তিন রাকাত (ফরয) ও ইশার চার রাকাত (ফরয) -এই সাত রাকাত আদায় করলে সাত জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে গেল।
এই বক্তব্যের প্রথম অংশ (ফজরের নামায আদায় করলে আলাহ সারা দিনের জামিন হয়ে যান।) সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়াসালাম ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি ফযরের নামায আদায় করল সে আলাহর জিম্মায় চলে গেল...।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৫৭) কিন্তু বাকি অংশ কোনো হাদীসে পাওয়া যায় না। সুতরাং এ অংশ হাদীস নয়।
এর পরিবর্তে নামাযের ফযীলত বিষয়ে নিম্নোক্ত সহীহ হাদীসগুলো বলা যেতে পারে।
রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়াসালাম বলেন, আলাহ পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি সুন্দর করে ওযু করবে এবং সময় মত তা (পাঁচ ওয়াক্ত নামায) আদায় করবে, পূর্ণরূপে রুকু, (সিজদা) করবে, খুশু খুযু সহকারে তা আদায় করবে, তার ব্যাপারে আলাহর প্রতিশ্রুতি রয়েছে যে, তিনি তাকে ক্ষমা করবেন। আর যে তা করবে না তার ব্যাপারে আলাহর কোনো প্রতিশ্রুতি নেই; তাকে ক্ষমাও করতে পারেন আবার আযাবে গ্রেফতার করতে পারেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪২৫)
হাদীসে কুদসীতে আলাহ তাআলা বলেন, (হে নবী!) আমি আপনার উম্মতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছি এবং এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, যে ব্যক্তি সময়মত যত্নসহকারে তা আদায় করবে আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। আর যে তা করবে না তার ব্যাপারে আমার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৩০)
আর পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের মাধ্যমে বান্দার গুনাহ মাফ হওয়ার নিম্নোক্ত হাদীস তো সবারই জানা।
রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহ ওয়াসালাম বলেন, তোমাদের কারো বাড়ির দরজায় যদি একটি নহর থাকে আর সে তাতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তার শরীরে কি কোনো ময়লা বাকি থাকতে পারে? সাহাবার বললেন, কখনোই না। তখন রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহ ওয়াসালাম বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযও তেমন; এর মাধ্যমে আলাহ বান্দার গুনাহ মিটিয়ে দেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫২৮; সহীহ মুসলিম ১৫৫৪)
এছাড়া এধরনের আরো অনেক সহীহ হাদীস রয়েছে। আর আলকুরআনুল কারীমে তো জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিকারীদের গুণ বলা হয়েছে -'তারা নামাযের প্রতি যত্নবান হবে, খুশু খুযু সহকারে নামায আদায়কারী হবে।' সুতরাং নামাযের সাথে জান্নাতের ওয়াদা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির বিষয়টি ওতপ্রত জড়িত। তাই নামাযের ফযীলত হিসেবে এ বিষয়ক কুরআনের আয়াত ও সহীহ হাদীস বলা উচিত। কিন্তু নিজ থেকে কোনো ফযীলত বানিয়ে বলা বা ভিত্তিহীন কোনো কিছু ফযীলত হিসেবে বলা ঠিক নয়।
📄 ইস্তিখারার জন্য কি দুআ পড়ে ঘুমাতেই হয়
ইস্তিখারার অর্থ কল্যাণ প্রার্থনা, কল্যাণ সম্পর্কে অবগত হওয়া নয়। তাই ইস্তিখারার হাকীকত এই যে, যে কাজের ইচ্ছা করা হয়েছে সে সম্পর্কে (চিন্তা-ভাবনা ও পরামর্শের পর) দুই রাকাত নফল নামায পড়ে হাদীসে শিখানো দুআ পাঠ করা। যার সারকথা হল, ইয়া আল্লাহ! এ কাজে যদি আমার কল্যাণ থাকে তবে তুমি তা সহজ করে দাও এবং তাতে বরকত দান কর। আর যদি তা আমার জন্য উপযোগী না হয় তবে তা থেকে আমাকে বিরত রাখ এবং যেখানে কল্যাণ আছে সেখানে নিয়ে যাও আর আমাকে তাতে সন্তুষ্ট থাকার তাওফীক দান কর।
সহীহ হাদীসের আলোকে এটাই হল ইস্তিখারার হাকীকত। কিন্তু কেউ কেউ মনে করে, ইস্তিখারার নামায ও দুআ শোয়ার আগে করতে হয়। আর ইস্তিখারার ফলাফল অর্থাৎ কাজটি করা উচিত কি উচিত না-তা স্বপ্নযোগে জানিয়ে দেওয়া হয়। এটি নিঃসন্দেহে ভিত্তিহীন ধারণা। ইস্তিখারার পর কেউ কোনো স্বপ্ন দেখতেও পারে। কিন্তু স্বপ্ন তো ইস্তিখারা ছাড়াও দেখা যায়। স্বপ্নে কোনো কিছু দেখলে তাকে বিচার করতে হবে স্বপ্নের বিষয়ে শরীয়তের যে বিধান আছে তারই ভিত্তিতে। এক্ষেত্রে করণীয় নির্ধারিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শরঈ বিধান অনুযায়ী। আর স্বপ্ন যে কোনো দলিল নয়-এ তো সবাই জানে।
ইস্তিখারা বিষয়ক আরেকটি ভুল হল, দুআ-ওযিফার কোনো কোনো অনির্ভরযোগ্য বইপত্রে ইস্তিখারার যে পদ্ধতি উল্লেখ রয়েছে তা পালন করা। অথচ ইস্তিখারার মাসনুন পদ্ধতি ছেড়ে কারো অভিজ্ঞতা বা উদ্ভাবন গ্রহণ করার কোনো অর্থ হতে পারে না।
ইস্তিখারার একটি নবউদ্ভাবিত ও বিদআতী পদ্ধতি হচ্ছে, কুরআন মজীদ থেকে কিংবা দেওয়ানে হাফেয, মাছনবী ইত্যাদি থেকে ইঙ্গিত গ্রহণ। এটি সম্পূর্ণ ভুল পদ্ধতি। আর কুরআন মজীদ থেকে এ জাতীয় ইঙ্গিত গ্রহণ মূলত কুরআনের সাথে বেআদবী।
আরেকটি ভুল হল, নিজে না করে অন্যকে দিয়ে ইস্তিখারা করানো। অনেকে মসজিদের ইমাম সাহেব অথবা পরিচিত কোনো আলিমের কাছে ইস্তিখারার আবেদন করে থাকেন। অথচ হাদীস শরীফে প্রয়োজনগ্রস্ত ব্যক্তিকেই ইস্তিখারা করতে বলা হয়েছে।
সবচেয়ে মারাত্মক ভ্রান্তি এই যে, কোনো কোনো মানুষ শুধু কাজের ইচ্ছার সময়ই নয়; বরং গায়েবের বিভিন্ন কথা জানার জন্য বে-শরা তদবিরকারীর কাছে যায় এবং এটাকেও ইস্তিখারা বলে। এমনকি ঐ সকল কথা বিশ্বাসও করে। অথচ গায়েব জানার জন্য কারো কাছে যাওয়া এবং তার কথা বিশ্বাস করা এক প্রকারের শিরক।
আল্লাহ আমাদেরকে সব ধরনের শিরক থেকে হেফাযত করুন। আমীন।
(বিস্তারিত জানার জন্য অধ্যয়ন করুন: আলমাদখাল, ইবনুল হাজ্ব ৪/৩৬-৪০; হায়াতুল হায়াওয়ান ৩/৩৮; ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন, মুরতাযা যাবী ২/২৮৫।)