📄 ইসলামী পবিত্র দিনসমূহ
(যেমনটা ঐ তালিকায় দেওয়া হয়েছে)
১. ১ লা মুহাররম : হিজরী নববর্ষ
২. ৯ ই মুহাররম : আশুরার রোযা
৩. ১০ ই মুহাররম : আশুরা
৪. সফরের শেষ বুধবার: আখেরী চাহার শোম্বাহ
৫. ১২ই রবিউল আউয়াল: নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম ও ওফাত দিবস
৬. রজব মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার : লায়লাতুর রাগায়েব
৭. ১৫ই রজব : শবে এস্তেফতাহ
৮. ২৭ শে রজব : লাইলাতুল মিরাজ
৯. ১৫ই শাবান : লাইলাতুল বরাত
১০. ২১, ২৩, ২৫,২৭ ও ২৯ শে রমযান: লাইলাতুল কদর
১১. ১লা শাওয়াল: ঈদ-উল-ফিত্র
১২. ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ যিলহজ্ব আইয়ামে তাশরীক
১৩. ৯ই যিলহজ্ব : ইয়াওমুল আরাফা হজ্ব দিবস
১৪. ১০ই যিলহজ্ব : ঈদ-উল-আযহা
১৫. প্রতি মাসের ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখ: আইয়ামে বীজ (রোযা রাখা সুন্নত)
এই তালিকার শিরোনাম হওয়া উচিত ছিল, 'ইসলামী ফযীলতপূর্ণ দিবস-রজনী'। কারণ প্রতিটি দিনই পবিত্র, কোনো দিনই অপবিত্র বা অশুভ নয়। হাঁ, দিনসমূহের মধ্যে ঐ দিনগুলো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতপূর্ণ, কুরআন হাদীসে যেগুলোর বিশেষ ফযীলত উল্লেখিত হয়েছে। সুতরাং পবিত্র না বলে ফযীলতপূর্ণ বলা উচিত। নিচে এই তালিকার উপর সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা পেশ করা হল。
📄 সঠিক দিবস-রজনী
১. ইয়াওমু আরাফা (৯ই যিলহজ্ব, রোযা রাখা সুন্নত)
২. ঈদুল-আযহা (১০ই যিলহজ্ব)
৩. আইয়ামে বীজ (প্রতি চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখ, রোযা রাখা সুন্নত)
৪. লাইলাতুল বারাআত বা লাইলাতুন নিছফি মিন শাবান (১৫ই শাবান)
৫. লাইলাতুল কদর অন্বেষণ ও ইতিকাফ (রমযানের শেষ দশক)
৬. ঈদুল-ফিতর (১লা শাওয়াল)
৭. আইয়ামে তাশরীক (১১, ১২ ও ১৩ যিলহজ্ব)
৮. আশুরা (১০ ই মুহাররম; ৯-১০/১০-১১) তারিখে রোযা রাখা সুন্নত)
৯. আশারায়ে যিলহজ্ব (যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশদিন)
১০. ইয়াওমুল জুমুআ (প্রতি সপ্তাহের জুমার দিন)
১১. সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার (রোযা রাখা সুন্নত)
📄 ভুল দিবস-রজনী
১. আখেরী চাহার শোম্বাহ (সফরের শেষ বুধবার)
২. লায়লাতুর রাগাযেব (রজব মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার)
৩. শবে এস্তেফতাহ (১৫ই রজব)
৪. লাইলাতুল মিরাজ (২৭ শে রজব)
৫. ফাতিহায়ে ইয়াযদহম (রবিউস সানীর ১১ তারিখ)
৬. ফাতিহায়ে দোয়াযদহম (রবিউল আউয়ালের ১২ তারিখ)
৭. ১২ই রবিউল আউয়াল। (আল-কাউসার: সংখ্যা: ১১- মুহাররম-১৪৩৪)
📄 নামাযের ফযীলত বিষয়ে একটি ভুল ধারণা
এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা গেল, কেউ ফজরের দুই রাকাত (ফরয) নামায আদায় করলে আলাহ তার সারা দিনের জামিন হয়ে যান। যোহরের চার রাকাত (ফরয) ও আসরের চার রাকাত (ফরয) -এই আট রাকাত আদায় করলে সে আট জান্নাতের মালিক হয়ে গেল। মাগরিবের তিন রাকাত (ফরয) ও ইশার চার রাকাত (ফরয) -এই সাত রাকাত আদায় করলে সাত জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে গেল।
এই বক্তব্যের প্রথম অংশ (ফজরের নামায আদায় করলে আলাহ সারা দিনের জামিন হয়ে যান।) সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়াসালাম ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি ফযরের নামায আদায় করল সে আলাহর জিম্মায় চলে গেল...।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৫৭) কিন্তু বাকি অংশ কোনো হাদীসে পাওয়া যায় না। সুতরাং এ অংশ হাদীস নয়।
এর পরিবর্তে নামাযের ফযীলত বিষয়ে নিম্নোক্ত সহীহ হাদীসগুলো বলা যেতে পারে।
রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়াসালাম বলেন, আলাহ পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি সুন্দর করে ওযু করবে এবং সময় মত তা (পাঁচ ওয়াক্ত নামায) আদায় করবে, পূর্ণরূপে রুকু, (সিজদা) করবে, খুশু খুযু সহকারে তা আদায় করবে, তার ব্যাপারে আলাহর প্রতিশ্রুতি রয়েছে যে, তিনি তাকে ক্ষমা করবেন। আর যে তা করবে না তার ব্যাপারে আলাহর কোনো প্রতিশ্রুতি নেই; তাকে ক্ষমাও করতে পারেন আবার আযাবে গ্রেফতার করতে পারেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪২৫)
হাদীসে কুদসীতে আলাহ তাআলা বলেন, (হে নবী!) আমি আপনার উম্মতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছি এবং এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, যে ব্যক্তি সময়মত যত্নসহকারে তা আদায় করবে আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। আর যে তা করবে না তার ব্যাপারে আমার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৩০)
আর পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের মাধ্যমে বান্দার গুনাহ মাফ হওয়ার নিম্নোক্ত হাদীস তো সবারই জানা।
রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহ ওয়াসালাম বলেন, তোমাদের কারো বাড়ির দরজায় যদি একটি নহর থাকে আর সে তাতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তার শরীরে কি কোনো ময়লা বাকি থাকতে পারে? সাহাবার বললেন, কখনোই না। তখন রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহ ওয়াসালাম বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযও তেমন; এর মাধ্যমে আলাহ বান্দার গুনাহ মিটিয়ে দেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫২৮; সহীহ মুসলিম ১৫৫৪)
এছাড়া এধরনের আরো অনেক সহীহ হাদীস রয়েছে। আর আলকুরআনুল কারীমে তো জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিকারীদের গুণ বলা হয়েছে -'তারা নামাযের প্রতি যত্নবান হবে, খুশু খুযু সহকারে নামায আদায়কারী হবে।' সুতরাং নামাযের সাথে জান্নাতের ওয়াদা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির বিষয়টি ওতপ্রত জড়িত। তাই নামাযের ফযীলত হিসেবে এ বিষয়ক কুরআনের আয়াত ও সহীহ হাদীস বলা উচিত। কিন্তু নিজ থেকে কোনো ফযীলত বানিয়ে বলা বা ভিত্তিহীন কোনো কিছু ফযীলত হিসেবে বলা ঠিক নয়।