📄 শবে বরাতের বিশেষ পদ্ধতির নামাজ সম্পর্কে মকসুদুল মুমিন এর ভিত্তিহীন বর্ণনা
মকসুদুল মুমিন এর যে কপিটি আছে তাতে লেখা আছে যে, (৪৬ তম সংস্করণ ১৯৯৬ সনের ছাপা এবং এর রেজিস্ট্রি নং ৬৫৯। এ কপিটির ২৪১-২৪২ পৃ: নিম্নোক্ত বর্ণনা তিনটি রয়েছে) হাদীস শরীফে আছে, মাতৃগর্ভ হইতে লোক যেরূপ নিষ্পাপ হয়ে ভূমিষ্ঠ হয় উল্লেখিত চার রাকাত নামাজ পড়লেও সেরূপ নিষ্পাপ হয়ে যায়। মিশকাত।
এই বর্ণনা এবং উদ্ধৃতি উভয়টিই মিথ্যা। মেশকাত শরীফে এ ধরনের কোন হাদিসই বর্ণিত নেই।
এরপর লেখা আছে, তারপর আবার দুই দুই রাকাত করিয়া চার রাকাত নামাজ উপরে উল্লেখিত নিয়ত করিয়া পড়িবে। নিয়ত সুবাহানাকা, আউযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ ও সূরা ফাতেহার পর প্রত্যেক রাকাতে সুরা একলাছ ৫০ বার করিয়া পাঠ করিবে ও এই নিয়তেই নামাজ শেষ করিবে। সালাম ফিরার পর বসিয়া ১০০ বার দুরুদ পাঠ করিয়া মোনাজাত করিবে। হাদীস শরীফে আছে, যাহারা এই নামাজ পাঠ করবে আল্লাহ্ তায়ালা তাদের ৫০ বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন। তিরমিজি।
এই বর্ণনা এবং উদ্ধৃতি উভয়টিই মিথ্যা। তিরমিজী শরীফে এরূপ কোন হাদিসই নেই। এমনকি তিরমিজি শরীফে তো নেই-ই; বরং কোন সহীহ হাদীসের কিতাবেও এই নিয়ম ও ফজিলতলের কথা নেই।
এরপর লেখা আছে, আরো হাদিসে আছে যারা উক্ত রাত্রে বা দিনে ১০০ হইতে ৩০০ মর্তবা দুরুদ শরীফ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর পাঠ করিবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য দুজোখ হারাম করে দিবেন। হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুপারিশ করিয়া তাহাদিগকে বেহেশতে লইবেন। সহীহ বুখারী।
এ বর্ণনা ও উদ্ধৃতি উভয়টিই মিথ্যা। উল্লেখিত বর্ণনা তিনটি বাতিল ও ভিত্তিহীন। এগুলোতে মেশকাত, তিরমিজি ও বুখারী শরীফের উদ্ধৃতি দেওয়া সম্পূর্ণ মিথ্যা। এসব কিতাবে উক্ত বর্ণনার নাম নিশানাও নাই । আর এমন জাল বর্ণনা এসব কিতাবে থাকতে পারেনা ।
হাদিস বিশেষজ্ঞগণ স্পষ্ট বলেছেন যে, শবে বরাতের ফজিলত এবং তাতে নফল ইবাদতের গুরুত্ব আপন জায়গায় স্বীকৃত। কিন্তু নির্দিষ্টসংখ্যক রাকাত এবং বিশেষ সূরা নির্দিষ্টকরণের সাথে শবে বরাতের নামাজ নামে যে নামাজ এবং এর বিশেষ ফজিলতের কথা জনসাধারণের মাঝে অনির্ভরযোগ্য বইপত্রে প্রসিদ্ধ আছে, সেগুলো ভিত্তিহীন। এ বিষয়ের হাদিস জালও ভিত্তিহীন।
তারপরেও বর্তমান কিছু সংখ্যক লোক এগুলোকে মানতে রাজি না। তারা ভুলটাকেই বিশ্বাস করে আমল করে যাচ্ছে। বিশেষ করে তারা এ ব্যাপারে হাদীসের ইমামগণের বক্তব্য জানার জন্য নিম্নোক্ত কিতাবগুলো দেখতে পারেন।
(কিতাবুল মওযূআত, ইবনুল জাওযী:২/৪৯-৫২ # আল-মানারুল মুনীফ, ইবনুল কাইয়ুম;৯৮-৯৯ # আললা আলীল মাসনূআ, জালালুদ্দিন সুয়ূতী:২/৫৯-৬০ # তানজীহুশ শরীয়া ইবনে আরবাব:২/৯২-৯৪ # আলমওযূআতুল কুবরা, মোল্লা আলী কারী:১৬৫ # ইতহাফুল সদাতীন মুত্তাকীন, মুরতাজা যাবিদী:৩/৪২৫ # আল ফাওয়ায়িদুল মাজমুআ, শাওকানী:১/৭৫-৭৬ # আল আসারুল মারফুআ, আল্লামা আব্দুল হাই লাখনবী; ৮২-৮৫)
📄 ফজিলত পূর্ণ দিবস সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা
ফযীলতপূর্ণ দিবস-রজনী :
একটি মসজিদে 'ইসলামী পবিত্র দিনসমূহ' শিরোনামে একটি তালিকা নজরে পড়ল। তাতে কিছু আছে ইসলামে স্বীকৃত মহিমান্বিত দিবস-রজনী, আবার কিছু আছে আবিষ্কৃত রসম-রেওয়াজ এবং ইসলামী ইতিহাস বিষয়ে না জানার ভুল। সমাজের বিভিন্ন মহলে এসব দিবস-রজনী বিশেষভাবে পালিত হতেও দেখা যায়। কোনো কোনো দিবস এমন আছে, যেগুলোতে সরকারী ছুটি থাকে অথচ ইসলামে সে সকল দিবস স্বীকৃত নয়। আর এসব দিবস-রজনী বিভিন্ন অনির্ভরযোগ্য পুস্তক-পুস্তিকায়ও দেখা যায়। তাই তালিকাটির উপর একটি পর্যালোচনা সংগত মনে হল। এ পর্যালোচনায় তালিকার ভুলগুলোও যেমন উল্লেখ করা হয়েছে তেমনি ইসলামে স্বীকৃত দিবস-রজনী বিষয়ে প্রয়োজনীয় কিছু কথাও আলোচনা করা হয়েছে। যাতে স্বীকৃত বিষয়েও কেউ ভুলের শিকার না হন। প্রথমে তালিকাটি উল্লেখ করছি।
📄 ফযীলতপূর্ণ দিবস-রজনী
একটি মসজিদে 'ইসলামী পবিত্র দিনসমূহ' শিরোনামে একটি তালিকা নজরে পড়ল। তাতে কিছু আছে ইসলামে স্বীকৃত মহিমান্বিত দিবস-রজনী, আবার কিছু আছে আবিষ্কৃত রসম-রেওয়াজ এবং ইসলামী ইতিহাস বিষয়ে না জানার ভুল। সমাজের বিভিন্ন মহলে এসব দিবস-রজনী বিশেষভাবে পালিত হতেও দেখা যায়। কোনো কোনো দিবস এমন আছে, যেগুলোতে সরকারী ছুটি থাকে অথচ ইসলামে সে সকল দিবস স্বীকৃত নয়। আর এসব দিবস-রজনী বিভিন্ন অনির্ভরযোগ্য পুস্তক-পুস্তিকায়ও দেখা যায়। তাই তালিকাটির উপর একটি পর্যালোচনা সংগত মনে হল। এ পর্যালোচনায় তালিকার ভুলগুলোও যেমন উল্লেখ করা হয়েছে তেমনি ইসলামে স্বীকৃত দিবস-রজনী বিষয়ে প্রয়োজনীয় কিছু কথাও আলোচনা করা হয়েছে। যাতে স্বীকৃত বিষয়েও কেউ ভুলের শিকার না হন।
📄 ইসলামী পবিত্র দিনসমূহ
(যেমনটা ঐ তালিকায় দেওয়া হয়েছে)
১. ১ লা মুহাররম : হিজরী নববর্ষ
২. ৯ ই মুহাররম : আশুরার রোযা
৩. ১০ ই মুহাররম : আশুরা
৪. সফরের শেষ বুধবার: আখেরী চাহার শোম্বাহ
৫. ১২ই রবিউল আউয়াল: নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম ও ওফাত দিবস
৬. রজব মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার : লায়লাতুর রাগায়েব
৭. ১৫ই রজব : শবে এস্তেফতাহ
৮. ২৭ শে রজব : লাইলাতুল মিরাজ
৯. ১৫ই শাবান : লাইলাতুল বরাত
১০. ২১, ২৩, ২৫,২৭ ও ২৯ শে রমযান: লাইলাতুল কদর
১১. ১লা শাওয়াল: ঈদ-উল-ফিত্র
১২. ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ যিলহজ্ব আইয়ামে তাশরীক
১৩. ৯ই যিলহজ্ব : ইয়াওমুল আরাফা হজ্ব দিবস
১৪. ১০ই যিলহজ্ব : ঈদ-উল-আযহা
১৫. প্রতি মাসের ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখ: আইয়ামে বীজ (রোযা রাখা সুন্নত)
এই তালিকার শিরোনাম হওয়া উচিত ছিল, 'ইসলামী ফযীলতপূর্ণ দিবস-রজনী'। কারণ প্রতিটি দিনই পবিত্র, কোনো দিনই অপবিত্র বা অশুভ নয়। হাঁ, দিনসমূহের মধ্যে ঐ দিনগুলো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতপূর্ণ, কুরআন হাদীসে যেগুলোর বিশেষ ফযীলত উল্লেখিত হয়েছে। সুতরাং পবিত্র না বলে ফযীলতপূর্ণ বলা উচিত। নিচে এই তালিকার উপর সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা পেশ করা হল。