📄 আসসালাতু মি‘রাজুল মু’মিনীন
'নামায মুমিনের মেরাজ' কথাটা একটা প্রসিদ্ধ উক্তি। কেউ কেউ একে হাদীস মনে করে থাকেন। কিন্তু হাদীসের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে এটা পাওয়া যায় না। তবে এ কথাটার মর্ম বিভিন্ন সহীহ হাদীস থেকে আহরণ করা যায়। এ জন্য একথাটা একটি প্রসিদ্ধ উক্তি হিসেবেই বলা উচিত, হাদীস হিসেবে নয়। হাদীস বলতে হলে নিম্নোক্ত কোনো সহীহ হাদীস উল্লেখ করা যায়- 'মুমিন যখন নামাযে দাড়ায় তখন সে তার রবের সঙ্গে একান্তে কথা বলে।' সহীহ বুখারী, হাদীস ৪১৩ 'তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাড়ায় তখন সে আল্লাহর সঙ্গে একান্তে কথা বলে, যতক্ষণ সে তার জায়নামাযে থাকে।'-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৪২৬
📄 মেহরাব কি মসজিদের অংশ নয়?
কিছু কিছু মানুষের ধারণা, মেহরাব মসজিদের অংশ নয়। ফলে তারা বলে থাকে, ইতিকাফকারী মসজিদের মেহরাবে যেতে পারবে না; গেলে এতেকাফ ভেঙে যাবে।
তাদের এ ধারণা ঠিক নয়। বর্তমান সময়ের মেহরাব মসজিদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এতেকাফকারী মেহরাবে যেতে পারবে। এ কারণে এতেকাফ নষ্ট হবে না। -শরহুল মুনইয়া ৩৬১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৬; রদ্দুল মুহতার ১/৬৪৬
📄 যে ব্যক্তি মসজিদ থেকে একটি চুল ফেলে দিল সে যেন একটি মৃত গাধা ফেলে দিল
কোথাও কোথাও এই কথাটি হাদীস হিসেবে প্রচলিত আছে- 'যে ব্যক্তি মসজিদ থেকে একটি চুল ফেলে দিল সে যেন একটি মৃত গাধা ফেলে দিল বা সে একটি মরা গাধা সরানোর সওয়াব লাভ করল।' মসজিদে কোনো ময়লা দেখলে তা পরিষ্কার করা অনেক সওয়াব ও ফযীলতের কাজ। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে কোনো ময়লা দেখলে নিজ হাতে তা পরিষ্কার করতেন। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের দেয়ালে ময়লা দেখতে পেলেন। তখন তিনি একটি পাথরের টুকরা নিলেন এবং নিজ হাতে তা পরিষ্কার করলেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৪০৮
আরেক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার সামনে আমার উম্মতের নেক আমলের প্রতিদান পেশ করা হল, এর মধ্যে 'মসজিদ থেকে ময়লা দূর করার নেক আমলের প্রতিদানও দেখতে পেলাম...। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৬১; জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯১৬
সুতরাং মসজিদে কোনো ময়লা দেখলে তা পরিষ্কার করা অনেক সওয়াবের কাজ। কিন্তু মসজিদ থেকে একটি চুল ফেলে দিলে মরা গাধা ফেলার সওয়াব সম্বলিত কথাটি লোকমুখে হাদীস হিসেবে প্রসিদ্ধ হলেও এটি হাদীস নয়। কোনো নির্ভরযোগ্য কিতাবে তা পাওয়া যায় না। আমাদের জানামতে এর কোনো নির্ভরযোগ্য সনদ নেই।
📄 ফিরিশতারা গুনাহ মাথায় নিয়ে মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন
কোনো ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশের সময় ফিরিশতারা তার গুনাহ মাথায় করে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন, যাতে গুনাহসহ কোনো ব্যক্তিকে পবিত্র মসজিদে প্রবেশ করতে না হয়। ওই ব্যক্তি বেশি দেরি করলে একসময় ফিরিশতারা বলেন, আল্লাহ! তার গুনাহ বহন করতে আমাদের তো খুব কষ্ট হচ্ছে। তখন আল্লাহ বলেন, গুনাহগুলো সমুদ্রে ফেলে দাও।
মসজিদে যত বেশি সময় কাটানো যায় ততই ভালো। কিন্তু মসজিদে বেশি সময় অবস্থান করার প্রতি উদ্বুদ্ধকারী উপরোক্ত বর্ণনার কোনো ভিত্তি নেই। নামাযের পর পবিত্র অবস্থায় নামাযের স্থানে বসে থাকলে ফিরিশতা মাগফিরাতের দুআ করে - হে আল্লাহ তাকে মাফ করে দিন, তার প্রতি রহম করুন। (সহীহ বুখারী, হাদীস:৬৫৯) এক নামাযের পর আরেক নামাযের অপেক্ষায় থাকলে গুনাহ মাফ হয়। (সহীহ মুসলিম, হাদীস:২৫১) কিন্তু ফিরিশতারা গুনাহ মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন আর দেরি করে বের হলে কষ্টের কারণে তা সমুদ্রে ফেলে দেন- গুনাহ মাফ হওয়ার এই আজগুবি কাহিনীর কোনোই ভিত্তি নেই। এ ধরনের কল্পিত বিষয় বলা আবার হাদীস হিসেবে বলা অনেক বড় অন্যায়।