📄 মাসবুক মুসল্লির দিকে মুখ করে দ্রুত নামায শেষ করার তাগাদা দেওয়া
অনেক মানুষকে দেখা যায়, তার পেছনের মাসবুক মুসল্লিগণের কারণে যদি উঠে আসার সুযোগ না থাকে আর সে উঠে আসতে চায় তাহলে দাঁড়িয়ে বা বসে মাসবুক মুসল্লিদের দিকে মুখ করে থাকে বা তাকিয়ে থাকে। এটি একটি অনুচিত কাজ। এর দ্বারা মুসল্লীর নামাযের মনোযোগ নষ্ট হয়।
মাসবুক মুসল্লির নামায শেষ হতে কেবলমাত্র দুই/তিন মিনিট সময় লাগে। তা খুব বেশি সময় নয়। এটি একটি মানসিক বিষয় মাত্র- জামাত শেষ হয়ে গিয়েছে, আমাকে এখনই মসজিদ থেকে বের হতে হবে। উল্লেখ্য, নামায শেষে ওযুসহ নামাযের স্থানে বসে থাকাও তো অনেক ফযীলতের বিষয়; ফিরিশতাদের দুআ পাওয়া যায়। হাদীস শরীফে এসেছে- যে ব্যক্তি নামাযের পর যে স্থানে নামায পড়েছে ওযুসহ সেখানে বসে থাকে তার জন্য ফিরিশতা দুআ করতে থাকে; যতক্ষণ সে ওযু অবস্থায় থাকে। ফিরিশতারা বলে- হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও, তার প্রতি রহম কর। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৪৫
হাঁ, উঠে যাওয়ার বিশেষ প্রয়োজন হলে সুতরা ব্যবহার করি। তা যদি না পাই তো একটু সবর করি। বসে তাসবীহ-তাহলীল পড়তে থাকি। আর ফিরিশতাদের দুআ তো পাচ্ছিই।
📄 ফরয নামাযের পরের তাসবীহ কি দ্রুত পড়াই নিয়ম!
ফরয নামাযের শেষে তাসবীহ-তাহলীল পাঠের অনেক ফযীলত রয়েছে। একটি হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
مَنْ سَبَّحَ الله فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ ثَلاثاً وَثَلاثِينَ، وَحَمِدَ اللَّهِ ثَلاثاً وَثَلاثِينَ، وَكَبُرَ الله ثَلاثاً وَثَلاثِينَ، فَتِلْكَ تِسْعَةً وَتِسْعُونَ، وَقَالَ تَمَامَ المِائَةِ : لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ غُفِرَتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ البَحْرِ.
যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পর তেত্রিশ বার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশ বার আলহামদুলিল্লাহ, তেত্রিশবার আল্লাহু আকবার বলবে। এ মিলে হয় মোট নিরানব্বই। আর শত পূর্ণ করবে এই বলে- لا إِلَهَ إِلَّا الله وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. তার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে যদিও তা সমুদ্রের ফেনা বরাবর হয়। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৯৭
এত বড় ফযীলতের এই আমলটি আমরা অনেকেই করি। কিন্তু কিছু মানুষকে দেখা যায়, এত দ্রুত গতিতে তাসবীহগুলো পাঠ করেন, যেন মনে হয়- এ তাসবীহগুলো দ্রুত পড়াই নিয়ম। তাসবীহ দানা বা যারা আঙুলে গনে পড়েন তাদের তাসবীহ বা আঙুল এত দ্রুত নড়াচরা করে, যেন তারা তাসবীহ পড়ছেন না, বরং কারো সাথে পাল্লা দিয়ে তাসবীহের দানা গুনছেন বা আঙুল নাড়ছেন। এটি একটি ভুল পদ্ধতি।
তাসবীহ স্পষ্ট উচ্চারণে ধীরে-সুস্থে সুন্দর করে পড়া উচিত। একটু চিন্তা করে দেখি, দ্রুত উচ্চারণের কারণে যেখানে আমি বলতে চাচ্ছি- 'সুবহা-নাল্ল-হ', সেখানে হয়ে যাচ্ছে- 'সুবানাল্লা', যা অর্থহীন শব্দ।
আরো গভীরভাবে যদি চিন্তা করি- আমি কার তাসবীহ পাঠ করছি। মহান রাব্বল আলামীনের। তো এভাবে তাঁর তাসবীহ পাঠ করা এক প্রকার বেআদবী নয় কি?
এর দ্বারা ফযীলতের স্থলে গুনাহ হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। সুতরাং এ তাসবীহগুলোসহ সকল তাসবীহ-তাহলীল, তিলাওয়াত আমরা স্পষ্ট উচ্চারণে ধীরে-সুস্থে সুন্দর করে করব ইনশা আল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সকল ভালো কাজ সহীহ তরীকায় করার তাওফিক দান করুন।
📄 আসসালাতু মি‘রাজুল মু’মিনীন
'নামায মুমিনের মেরাজ' কথাটা একটা প্রসিদ্ধ উক্তি। কেউ কেউ একে হাদীস মনে করে থাকেন। কিন্তু হাদীসের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে এটা পাওয়া যায় না। তবে এ কথাটার মর্ম বিভিন্ন সহীহ হাদীস থেকে আহরণ করা যায়। এ জন্য একথাটা একটি প্রসিদ্ধ উক্তি হিসেবেই বলা উচিত, হাদীস হিসেবে নয়। হাদীস বলতে হলে নিম্নোক্ত কোনো সহীহ হাদীস উল্লেখ করা যায়- 'মুমিন যখন নামাযে দাড়ায় তখন সে তার রবের সঙ্গে একান্তে কথা বলে।' সহীহ বুখারী, হাদীস ৪১৩ 'তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাড়ায় তখন সে আল্লাহর সঙ্গে একান্তে কথা বলে, যতক্ষণ সে তার জায়নামাযে থাকে।'-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৪২৬
📄 মেহরাব কি মসজিদের অংশ নয়?
কিছু কিছু মানুষের ধারণা, মেহরাব মসজিদের অংশ নয়। ফলে তারা বলে থাকে, ইতিকাফকারী মসজিদের মেহরাবে যেতে পারবে না; গেলে এতেকাফ ভেঙে যাবে।
তাদের এ ধারণা ঠিক নয়। বর্তমান সময়ের মেহরাব মসজিদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এতেকাফকারী মেহরাবে যেতে পারবে। এ কারণে এতেকাফ নষ্ট হবে না। -শরহুল মুনইয়া ৩৬১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৬; রদ্দুল মুহতার ১/৬৪৬