📄 সফর অবস্থায় কি সুন্নত নামায পড়া যাবে না?
কিছু কিছু মানুষের ধারণা সফর অবস্থায় সুন্নত নামায পড়া যায় না। এ ধারণা ঠিক নয়।
হাঁ, মুকীম অবস্থার চেয়ে সফর অবস্থায় সুন্নত নামাযে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে। তাই সফর অবস্থায় চলন্ত পথে, তাড়াহুড়োর সময় সুন্নত নামায ছেড়ে দেওয়া ভালো। কিন্তু সফরের শান্তিপূর্ণ অবস্থায় সুন্নত নামায পড়াই উত্তম। বিশেষত ফজরের সুন্নত সফর অবস্থায়ও অধিক গুরুত্ব রাখে। সুতরাং 'সফর অবস্থায় সুন্নত নামায পড়া যাবে না' ঢালাওভাবে এমন মনে করা ঠিক নয়।
📄 কিয়ামতের দিন প্রতিটি মসজিদ তার মুসল্লিদের নিয়ে জান্নাতে যাবে
কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায়, কিয়ামতের দিন প্রতিটি মসজিদ তার মুসল্লিদের নিয়ে জান্নাতে যাবে। এটি একটি মনগড়া কথা। এর কোনো ভিত্তি নেই। এ ধরনের নির্ভরযোগ্য কোনো বর্ণনা খুঁজে পাওয়া যায় না। মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকার বা মসজিদে নামায পড়ার ফযীলত হিসেবে উপরোক্ত কথা বলা হয়। অথচ এ বিষয়ে সহীহ হাদীস রয়েছে। যেমন সহীহ হাদীসে এসেছে, আল্লাহ সাত ব্যক্তিকে কাল কিয়ামতের দিন তাঁর ছায়ায় আশ্রয় দিবেন। তার মধ্যে একজন হল, যার অন্তর সর্বদা মসজিদের সাথে যুক্ত থাকে। মসজিদেই পড়ে থাকে যার অন্তর। (দ্র. সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৬০)
তাছাড়া জামাতে নামাযের ফযীলতের হাদীস, তেমনি মসজিদ নির্মাণের ফযীলতের হাদীস ইত্যাদি। আমরা এসকল সহীহ হাদীস বলব; বানোয়াট কোনো কথা বলব না। আর এজাতীয় বানোয়াট কথাকে রাসূলের হাদীস হিসেবে বলা তো মারাত্মক গুনাহের কাজ।
📄 পারিশ্রমিক দিয়ে ইতিকাফ করানো
কোনো কোনো এলাকায় দেখা যায়, রমযানের শেষ দশ দিনে এলাকাবাসী কেউ ইতিকাফ না করলে অন্য এলাকা থেকে বা নিজ এলাকা থেকে কোনো দরিদ্র ব্যক্তিকে খাবার ও পারিশ্রমিক দিয়ে ইতিকাফ করানো হয়।
এ কাজটি ঠিক নয়। পারিশ্রমিকের মাধ্যমে ইতিকাফ করালে ইতিকাফ সহীহ হয় না।
ইতিকাফ একটি ইবাদত, যা বিনিময়যোগ্য নয়। তাই ইতিকাফের জন্য বিনিময় নেওয়াও জায়েয নেই। ফলে কাউকে বিনিময় দিয়ে ইতিকাফ করালে ইতিকাফ সহীহ হবে না এবং এর দ্বারা এলাকাবাসী দায়মুক্ত হতে পারবে না।
আমরা জানি, রমযান মাসের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়াহ। যদি কোনো মসজিদে একজনও ইতিকাফে বসে তাহলে এলাকাবাসী সুন্নত তরকের গুনাহ থেকে বেঁচে যাবে। আর যদি একজনও ইতিকাফ না করে তাহলে ঐ এলাকার সকলেই সুন্নত তরককারী বলে গণ্য হবে।
এটি আফসোসের বিষয় যে, একটি এলাকায় বৃদ্ধ বা যুবক কাউকেই ইতিকাফ করার জন্য পাওয়া যাবে না। এমনটি হওয়া উচিত নয়। সকলেরই ব্যস্ততা রয়েছে, তাই বলে ইতিকাফের মত ফযীলতপূর্ণ আমলের জন্য পুরো এলাকায় কাউকে পাওয়া যাবে না- এটা হতে পারে না। আগে থেকেই বিষয়টি নিয়ে ফিকির করা দরকার এবং এ আমলের জন্য মুসল্লিদের উৎসাহিত করা দরকার। আল্লাহ আমাদের সকলকে সব ধরনের নেক আমলে অগ্রগামী থাকার তাওফীক দান করুন- আমীন। (দ্র. হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ২/৩০৪; রদ্দুল মুহতার ২/৪৪২,৬/৫৫)
📄 বলার ভুল : আল্লাহ সুবহানাল্লাহু তাআলা
সুবহানাল্লাহ- আল্লাহ তাআলার তাসবীহ বা পবিত্রতাজ্ঞাপক বাক্য। এ তাসবীহটি আলেম-সাধারণ সকলেরই জানা। সাথে সাথে এখানে আরেকটি বিষয় রয়েছে, যা জনসাধারণ আলেমদের মুখে শুনে থাকেন- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। কিন্তু বিষয়টি সবাই বোঝেন না। ফলে কেউ কেউ মনে করেন, সুবহানাল্লাহ বাক্যটিই এখানে বলা হচ্ছে। আর এ ধারণা থেকেই তারা 'আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা'-এর স্থলে 'আল্লাহ সুবহানাল্লাহু তাআলা' বলে থাকেন। এভাবে বলা ভুল। সঠিক হল, 'আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা'। সুবহানাল্লাহ বাক্যে 'সুবহানা'-এর সাথে সরাসরি 'আল্লাহ' এই মহান শব্দ ব্যবহৃত হয়ে (সুবহানা+আল্লাহ-এই মহান শব্দ) সুবহানাল্লাহ গঠিত হয়েছে। আর 'আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা' এ বাক্যের 'সুবহানাহু' শব্দে 'সুবাহানা'-এর সাথে সর্বনাম 'হু' ব্যবহৃত হয়ে (সুবহানা+হু) 'সুবহানাহু' হয়েছে। কারণ, এই বাক্যের শুরুতে 'আল্লাহ'- এই মহান শব্দ এসেছে। ফলে পরবর্তীতে সর্বনাম 'হু' ব্যবহার করা হয়েছে। আর তাই 'সুবহানাল্লাহ'-এর পরিবর্তে 'সুবহানাহু' হয়েছে। তাই 'আল্লাহ সুবহানাল্লাহি তাআলা' না বলে 'আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা' বলতে হয়। 'আল্লাহ'-এই মহান শব্দ উচ্চারণের পর আমরা অনেক সময়ই আল্লাহ্র বড়ত্ব বা পবিত্রতাজ্ঞাপক বাক্য বলে থাকি। যেমন, আল্লাহ তাআলা বা আল্লাহ জাল্লা শানুহু ইত্যাদি। এখানে 'তাআলা' ও 'জাল্লা শানুহু' আল্লাহ্র বড়ত্ব প্রকাশক বাক্য। এরকমই আল্লাহ্র পবিত্রতা ও বড়ত্ব প্রকাশক বাক্য হল, 'সুবহানাহু ওয়া তাআলা', যা আমরা অনেক সময়ই 'আল্লাহ'-এই মহান শব্দ উচ্চারণের সাথে সাথে বলে থাকি।