📄 ইমামকে রুকুতে পেলে কি তাকবির বলে হাত বেঁধে দাঁড়াতে হয়
ইমামকে রুকুতে পেলে নিয়ম হল প্রথমে সোজা হয়ে দাঁড়ানো তারপর দুহাত তুলে তাকবীর বলবে এবং হাত ছেড়ে দিবে হাত বাঁধবে না। এরপর দাঁড়ানো থেকে তাকবীর বলে চলে যাবে কিন্তু এক্ষেত্রে অনেকেই যে ভুলটা করে থাকে তা হচ্ছেঃ প্রথমে তাকবির বলে হাত বেঁধে দাঁড়ায় এরপর তাকবীর বলে যায় এখানে হাত বাধার কোন প্রয়োজন নেই। আবার অনেকে প্রথমে তাকবীর বলে সোজা হয়ে দাঁড়ায় না, রুকুতে যেতে যেতে তাকবীর বলে, এটাও একটি ভুল ধারণা। তাকবীরে তাহরীমার জন্য দাঁড়ানো জরুরি।
📄 ইচ্ছাধীন ভাবে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করা
চেয়ারের প্রচলন বেড়ে যাওয়ায় কিছু মানুষ হয়তো মনে করেন যে চেয়ারে বসে নামায আদায় করাটা ইচ্ছাধীন বিষয়।
কোন ধরনের ওজর হলে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করা জায়েজ?
কোন ক্ষেত্রে নামাজ সহি হয় না বা মাকরুহ হয়?
কোন ক্ষেত্রে চেয়ারে না বসে জমিনে বসে নামাজ আদায় করতে হয়?
এসব বিষয়ে শরীয়তের যে বিধান রয়েছে তা মনে হয় এদের জানা নেই। যাদের আছে তাদের উচিত নিজের অবস্থা কোন বিজ্ঞ আলেমের কাছে পেশ করা এবং সঠিকভাবে মাসালা জেনে আমল করা। এ বিষয়ে মৌলিক কথা হল, যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে অক্ষম তার জন্য বিকল্প পদ্ধতি হলো জমিনে বসে তা আদায় করা। যেমন তার জন্য বিকল্প ইশারায় তা আদায় করা। নামাজ আদায় করতে অক্ষম তার জন্য বিকল্প হলো চেয়ারে বসে নামায আদায় করা। ছোটখাটো ওজরের জন্য চেয়ারে বসে নামায আদায় করা ঠিক নয়। সুতরাং আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হওয়া। অনুরূপভাবে নফল নামাজও বিনা কারণে বসে না পড়া যদিও জায়েজ; কিন্তু এতে সোয়াব কম হয় তাই বসে পড়া উত্তম নয়।
📄 সফর অবস্থায় কি সুন্নত নামায পড়া যাবে না?
কিছু কিছু মানুষের ধারণা সফর অবস্থায় সুন্নত নামায পড়া যায় না। এ ধারণা ঠিক নয়।
হাঁ, মুকীম অবস্থার চেয়ে সফর অবস্থায় সুন্নত নামাযে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে। তাই সফর অবস্থায় চলন্ত পথে, তাড়াহুড়োর সময় সুন্নত নামায ছেড়ে দেওয়া ভালো। কিন্তু সফরের শান্তিপূর্ণ অবস্থায় সুন্নত নামায পড়াই উত্তম। বিশেষত ফজরের সুন্নত সফর অবস্থায়ও অধিক গুরুত্ব রাখে। সুতরাং 'সফর অবস্থায় সুন্নত নামায পড়া যাবে না' ঢালাওভাবে এমন মনে করা ঠিক নয়।
📄 কিয়ামতের দিন প্রতিটি মসজিদ তার মুসল্লিদের নিয়ে জান্নাতে যাবে
কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায়, কিয়ামতের দিন প্রতিটি মসজিদ তার মুসল্লিদের নিয়ে জান্নাতে যাবে। এটি একটি মনগড়া কথা। এর কোনো ভিত্তি নেই। এ ধরনের নির্ভরযোগ্য কোনো বর্ণনা খুঁজে পাওয়া যায় না। মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকার বা মসজিদে নামায পড়ার ফযীলত হিসেবে উপরোক্ত কথা বলা হয়। অথচ এ বিষয়ে সহীহ হাদীস রয়েছে। যেমন সহীহ হাদীসে এসেছে, আল্লাহ সাত ব্যক্তিকে কাল কিয়ামতের দিন তাঁর ছায়ায় আশ্রয় দিবেন। তার মধ্যে একজন হল, যার অন্তর সর্বদা মসজিদের সাথে যুক্ত থাকে। মসজিদেই পড়ে থাকে যার অন্তর। (দ্র. সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৬০)
তাছাড়া জামাতে নামাযের ফযীলতের হাদীস, তেমনি মসজিদ নির্মাণের ফযীলতের হাদীস ইত্যাদি। আমরা এসকল সহীহ হাদীস বলব; বানোয়াট কোনো কথা বলব না। আর এজাতীয় বানোয়াট কথাকে রাসূলের হাদীস হিসেবে বলা তো মারাত্মক গুনাহের কাজ।