📄 বিবাহিত ব্যক্তির দু'রাকাত ৭০ রাকাত
বিবাহিত ব্যক্তির দু'রাকাত নামাজ ও অবিবাহিত ব্যক্তির ৭০ রাকাতের চেয়েও উত্তম। নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হাদীসে এর অনেক ফযীলতের কথা এসেছে। তবে বিবাহের ফজিলত সম্পর্কে উপোরোক্ত কথাটি হাদিস নয়। উক্তিটি যদিও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস হিসেবে লোকমুখে প্রসিদ্ধ।
ইমাম ইবনুল জাওযী রহঃ, মুহাদ্দিস শাওকানী রহঃ, আল্লামা কাওকাযী রহঃ সহ অন্যান্য হাদীস বিশেষজ্ঞগণও একে বানোয়াট ও জাল বলেছেন। (কিতাবুল মাওযূআত:২/১৬৪, তাযাকিরাতুল মাওযূআত:১২৫, তানযীহুশ শরীয়া:২/২০৫, আল ফাওয়ায়িদুল মাজমূআ:১/১৫৬)
📄 ইমামতি করা প্রসঙ্গে কিছু ভুল
কোন কোন এলাকায় ঈদের নামাজ এমনকি কোথাও কোথাও জুমা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ইমামতি করাকে বংশগত উত্তরাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটাও এক প্রকার ভুল প্রচলন।
এক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ইমামের যোগ্যতা আছে কি না সেদিকে লক্ষ্য করা হয় না। কোন কোন ক্ষেত্রে উক্ত ইমাম শুদ্ধ করে কোরআন পাঠ করতে অক্ষম হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় সকলের নামাযই নষ্ট হয়ে যাবে। আর ইমাম সাহেব সহীহ শুদ্ধ করে কোরআন পাঠ করতে পারলেও মুক্তাদীগণ ইমামতিতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে থাকেন কিংবা তার ইসলামবিরোধী কর্মকান্ডের কারণে কিংবা গুনাহে জড়িত থাকার কারণে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় তারা তা প্রকাশ না করেন, তাহলে এই ইমামের গুনাহ হবে। হাদিসে এসেছে এই ধরনের ইমামের নামাজ কবুল হবে না। তাই এক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হলো ইমামতি করার ক্ষেত্রে বংশগত উত্তরাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তা থেকে বেঁচে থাকা উচিত।
📄 ফাতিহা কি কিরাত নয়
কিরাত আরবী শব্দ। এর মূল অর্থ পাঠ করা। দ্বিতীয় অর্থ পঠিত বস্তু বা পঠিত অংশ। কুরআন মজীদের যে কোনো অংশ পাঠ করা হোক তা কিরাত।
নামাযের প্রতি রাকাতে নামাযীকে প্রথমে ফাতিহা পড়তে হয়। এরপর ফরয নামাযের প্রথম দুই রাকাতে এবং সুন্নত -নফল নামাযের সব রাকাতে ফাতিহার সঙ্গে কুরআন মজীদ থেকে আরও কিছু অংশ পাঠ করা জরুরি। আম মানুষের ভাষায় এই পঠিত অংশ কিরাত নামে পরিচিত। এজন্য দেখা যায়, নামাযের ওয়াজিবসমূহের বিবরণ দেওয়ার সময় তারা বলেন, ১. প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়া ২. সূরা মিলানো বা কিরাত পড়া।...
দ্বিতীয় কথাটার অর্থ হল সূরা ফাতিহার পর কুরআন মজীদের কিছু অংশ পড়া। সেটা অন্তত সূরা কাউছার বা তার সমান বড় এক আয়াত বা আয়াতাংশ হতে হবে। যে এই বিষয়টাকে সূরা মিলানো বলছেন তার উদ্দেশ্যও এই নয় যে, পূর্ণ সূরা মিলানো ওয়াজিব। তদ্রূপ যারা 'কিরাত পড়া' বলছেন তাদেরও উদ্দেশ্য সূরা ফাতিহাকে কিরাত থেকে খারিজ করা নয়। সূরা ফাতিহা কুরআন মজীদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যাকে 'আসসাবউল মাছানী' নামে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তাহলে এটা কিরাত হবে না কেন? হাদীস শরীফে এসেছে-
وإذا قرء الإمام فأنصتوا অর্থ: 'যখন ইমাম পড়েন তো তোমরা নিশ্চুপ থাক।' (সহীহ মুসলিম হাদীস : ৪০৪; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস: ৮৪৬)
অর্থ পরিষ্কার যে, যখন ইমাম কুরআন পড়েন তো মুক্তাদীরা নিশ্চুপ থাকবেন। তরজমায় অনভিজ্ঞ কেউ কেউ এই হাদীসের তরজমা কখনও এভাবে করেন যে, 'যখন ইমাম কিরাত পড়েন তখন তোমরা চুপ থাকবে।' এই তরজমা সূক্ষ্ম নয়। তবে একে ভুলও বলা যায় না। কেননা 'কিরাত পড়ার' অর্থ কুরআন পড়া-সে ফাতিহা হোক বা কুরআন মজীদের অন্য কোনো অংশ।
এদিকে একশ্রেণীর মানুষ, যারা ইমামের পিছনে ফাতিহা পড়াকে ফরয বলেন তারা 'কিরাত' শব্দের লোক-অর্থের দ্বারা সুযোগ নিতে চান। তারা বলেন যে, 'এই হাদীসে ইমামের কিরাত পড়ার সময় মুক্তাদীদেরকে চুপ থাকতে বলা হয়েছে, ফাতিহা পড়ার সময় চুপ থাকতে বলা হয়নি!' অথচ কুরআন-হাদীসের পরিভাষায়, আরবী অভিধান ও ইলমী পরিভাষায় ফাতিহা পড়াকেও 'কিরাত' বলে। অতএব লোক-প্রচলনের সুবিধা নিয়ে উপরোক্ত কথা বলা হাদীসের অপব্যাখ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়।
কোনো কোনো কট্টর গায়রে মুকাল্লিদকে তো-নাউযুবিল্লাহ-বলতে শোনা যায় যে, ফাতিহা তো কুরআনই নয়। অতএব ইমামের ফাতিহা পাঠকালে মুকতাদীর চুপ থাকার প্রয়োজন নেই। দুঃখের বিষয় এই যে, 'মযহাব' রক্ষার জন্য এমনকি কুরআন অস্বীকার করাও তাদের জন্য সহজ!
কুরআন কাকে বলে এটা সবারই জানা আছে। কুরআনের প্রথম সূরা ফাতিহা এবং শেষ সূরা নাস। কুরআন খোলামাত্রই সূরা ফাতিহা চোখে পড়ে। অথচ তারা বলেন, ফাতিহা কুরআন নয়! একদিকে এই কুফরী ধারণা অন্যদিকে হাদীস অনুসরণের দাবি!
কত ভালো হত যদি আমাদের তাকলীদ-ত্যাগী আলেমগণ তাদের অনুসারীদের কিছু খোঁজখবর নিতেন এবং তাদেরকে এ ধরনের অন্যায় প্রান্তিকতা থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করতেন!
তাদের এটাও তদন্ত করা কর্তব্য যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এইসব কুফরী মতবাদ কাদের মাধ্যমে প্রচারিত হয়। (আল-কাউসার:সংখ্যা: ০৩:রবিউল আউয়াল ১৪৩০)
📄 রুকু-সিজদার তাসবীহ কি তিনবারের বেশি পড়া নিষেধ?
কিছু মানুষ মনে করেন, রুকু বা সিজদার তাসবীহ তিনবারের বেশি পড়া যায় না। ফলে তারা যখন ইমামের পিছনে নামায পড়েন তখন সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনবার তাসবীহ পড়েই চুপ করে থাকেন।
অনেক ইমাম সাহেবই রুকু সিজদার তাসবীহ বেশ ধীরে পড়েন। কোনো কোনো ইমাম সাহেবের ক্ষেত্রে মুসল্লিগণ তিনবারই তাসবীহ পড়ার সুযোগ পান। আবার কোনো কোনো ইমামের ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে সাতবার পর্যন্ত পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়। সুতরাং এক্ষেত্রে তিনবার পড়ে চুপ না থেকে ইমাম সাহেব রুকু বা সিজদা থেকে উঠা পর্যন্ত পড়তে থাকা।