📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 মসজিদের জিনিসপত্র ব্যবহার প্রসঙ্গে কিছু প্রথা

📄 মসজিদের জিনিসপত্র ব্যবহার প্রসঙ্গে কিছু প্রথা


মসজিদের জিনিসপত্র নিজের ব্যবহারের জন্য নিয়ে যাওয়ার একটি প্রথা। অনেকে মসজিদে বাতি দিয়ে আগুন, পানির পাত্র দিয়ে পানি, মসজিদের বদনায় রোগীর জন্য পানি পড়া, নিজের বাড়িতে মেহমানদের বসানোর জন্য মাদুর, বাড়িতে ইস্তেঞ্জা করার জন্য মসজিদের ঢিলা-কুলুখ ইত্যাদি নিয়ে গিয়ে নিজের মনকে সান্ত্বনা দেয়। আর এই বলে সান্ত্বনা দেয় যে, মসজিদে ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে সকলের উপকার লাভের অধিকার রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কথাটি নিষেধাজ্ঞার প্রমাণ। যে উদ্দেশ্যে নিয়ে, যে শর্তসাপেক্ষ করা হয় সেই শর্ত ও উদ্দেশ্য ভিন্ন অন্যত্রে এর ব্যবহার করা জায়েজ নেই। উপরোক্ত জিনিষগুলো যে উল্লেখিত কাজের জন্য ওয়াকফ করা হয়নি তা সকলেই জানেন। নামাজের সময় নামাজীদের প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য এগুলো ওয়াকফ করা হয়েছে। এই কারণেই নির্ধারিত শর্ত উদ্দেশ্যে এসব প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার হারাম হবে।

ফকীহগণ বলেছেন, যে পানি পান করার জন্য ওয়াকফ করা হয়েছে সে পানি দিয়ে ওযু করা জায়েয হবে না। অনেকে মসজিদকে বৈঠকখানা হিসাবে ব্যবহার করে থাকে। বাড়িতে বেশি মেহমান আসলে সেখানেই তাদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে থাকে। মসজিদ এসব কাজের জন্য নয়, বিধায় এ কাজ জায়েজ হবেনা। মসজিদের আদব রক্ষার্থে দুর্গন্ধযুক্ত কোন জিনিস মসজিদে নিয়ে যাওয়া বৈধ নয়। ধূমপানকারী ব্যক্তির মুখের দুর্গন্ধ দূর না হওয়া পর্যন্ত মসজিদে প্রবেশ করা উচিত নয়।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 বিবাহিত ব্যক্তির দু'রাকাত ৭০ রাকাত

📄 বিবাহিত ব্যক্তির দু'রাকাত ৭০ রাকাত


বিবাহিত ব্যক্তির দু'রাকাত নামাজ ও অবিবাহিত ব্যক্তির ৭০ রাকাতের চেয়েও উত্তম। নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হাদীসে এর অনেক ফযীলতের কথা এসেছে। তবে বিবাহের ফজিলত সম্পর্কে উপোরোক্ত কথাটি হাদিস নয়। উক্তিটি যদিও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস হিসেবে লোকমুখে প্রসিদ্ধ।

ইমাম ইবনুল জাওযী রহঃ, মুহাদ্দিস শাওকানী রহঃ, আল্লামা কাওকাযী রহঃ সহ অন্যান্য হাদীস বিশেষজ্ঞগণও একে বানোয়াট ও জাল বলেছেন। (কিতাবুল মাওযূআত:২/১৬৪, তাযাকিরাতুল মাওযূআত:১২৫, তানযীহুশ শরীয়া:২/২০৫, আল ফাওয়ায়িদুল মাজমূআ:১/১৫৬)

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 ইমামতি করা প্রসঙ্গে কিছু ভুল

📄 ইমামতি করা প্রসঙ্গে কিছু ভুল


কোন কোন এলাকায় ঈদের নামাজ এমনকি কোথাও কোথাও জুমা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ইমামতি করাকে বংশগত উত্তরাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটাও এক প্রকার ভুল প্রচলন।

এক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ইমামের যোগ্যতা আছে কি না সেদিকে লক্ষ্য করা হয় না। কোন কোন ক্ষেত্রে উক্ত ইমাম শুদ্ধ করে কোরআন পাঠ করতে অক্ষম হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় সকলের নামাযই নষ্ট হয়ে যাবে। আর ইমাম সাহেব সহীহ শুদ্ধ করে কোরআন পাঠ করতে পারলেও মুক্তাদীগণ ইমামতিতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে থাকেন কিংবা তার ইসলামবিরোধী কর্মকান্ডের কারণে কিংবা গুনাহে জড়িত থাকার কারণে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় তারা তা প্রকাশ না করেন, তাহলে এই ইমামের গুনাহ হবে। হাদিসে এসেছে এই ধরনের ইমামের নামাজ কবুল হবে না। তাই এক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হলো ইমামতি করার ক্ষেত্রে বংশগত উত্তরাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তা থেকে বেঁচে থাকা উচিত।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 ফাতিহা কি কিরাত নয়

📄 ফাতিহা কি কিরাত নয়


কিরাত আরবী শব্দ। এর মূল অর্থ পাঠ করা। দ্বিতীয় অর্থ পঠিত বস্তু বা পঠিত অংশ। কুরআন মজীদের যে কোনো অংশ পাঠ করা হোক তা কিরাত।

নামাযের প্রতি রাকাতে নামাযীকে প্রথমে ফাতিহা পড়তে হয়। এরপর ফরয নামাযের প্রথম দুই রাকাতে এবং সুন্নত -নফল নামাযের সব রাকাতে ফাতিহার সঙ্গে কুরআন মজীদ থেকে আরও কিছু অংশ পাঠ করা জরুরি। আম মানুষের ভাষায় এই পঠিত অংশ কিরাত নামে পরিচিত। এজন্য দেখা যায়, নামাযের ওয়াজিবসমূহের বিবরণ দেওয়ার সময় তারা বলেন, ১. প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়া ২. সূরা মিলানো বা কিরাত পড়া।...

দ্বিতীয় কথাটার অর্থ হল সূরা ফাতিহার পর কুরআন মজীদের কিছু অংশ পড়া। সেটা অন্তত সূরা কাউছার বা তার সমান বড় এক আয়াত বা আয়াতাংশ হতে হবে। যে এই বিষয়টাকে সূরা মিলানো বলছেন তার উদ্দেশ্যও এই নয় যে, পূর্ণ সূরা মিলানো ওয়াজিব। তদ্রূপ যারা 'কিরাত পড়া' বলছেন তাদেরও উদ্দেশ্য সূরা ফাতিহাকে কিরাত থেকে খারিজ করা নয়। সূরা ফাতিহা কুরআন মজীদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যাকে 'আসসাবউল মাছানী' নামে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তাহলে এটা কিরাত হবে না কেন? হাদীস শরীফে এসেছে-
وإذا قرء الإمام فأنصتوا অর্থ: 'যখন ইমাম পড়েন তো তোমরা নিশ্চুপ থাক।' (সহীহ মুসলিম হাদীস : ৪০৪; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস: ৮৪৬)
অর্থ পরিষ্কার যে, যখন ইমাম কুরআন পড়েন তো মুক্তাদীরা নিশ্চুপ থাকবেন। তরজমায় অনভিজ্ঞ কেউ কেউ এই হাদীসের তরজমা কখনও এভাবে করেন যে, 'যখন ইমাম কিরাত পড়েন তখন তোমরা চুপ থাকবে।' এই তরজমা সূক্ষ্ম নয়। তবে একে ভুলও বলা যায় না। কেননা 'কিরাত পড়ার' অর্থ কুরআন পড়া-সে ফাতিহা হোক বা কুরআন মজীদের অন্য কোনো অংশ।

এদিকে একশ্রেণীর মানুষ, যারা ইমামের পিছনে ফাতিহা পড়াকে ফরয বলেন তারা 'কিরাত' শব্দের লোক-অর্থের দ্বারা সুযোগ নিতে চান। তারা বলেন যে, 'এই হাদীসে ইমামের কিরাত পড়ার সময় মুক্তাদীদেরকে চুপ থাকতে বলা হয়েছে, ফাতিহা পড়ার সময় চুপ থাকতে বলা হয়নি!' অথচ কুরআন-হাদীসের পরিভাষায়, আরবী অভিধান ও ইলমী পরিভাষায় ফাতিহা পড়াকেও 'কিরাত' বলে। অতএব লোক-প্রচলনের সুবিধা নিয়ে উপরোক্ত কথা বলা হাদীসের অপব্যাখ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়।

কোনো কোনো কট্টর গায়রে মুকাল্লিদকে তো-নাউযুবিল্লাহ-বলতে শোনা যায় যে, ফাতিহা তো কুরআনই নয়। অতএব ইমামের ফাতিহা পাঠকালে মুকতাদীর চুপ থাকার প্রয়োজন নেই। দুঃখের বিষয় এই যে, 'মযহাব' রক্ষার জন্য এমনকি কুরআন অস্বীকার করাও তাদের জন্য সহজ!

কুরআন কাকে বলে এটা সবারই জানা আছে। কুরআনের প্রথম সূরা ফাতিহা এবং শেষ সূরা নাস। কুরআন খোলামাত্রই সূরা ফাতিহা চোখে পড়ে। অথচ তারা বলেন, ফাতিহা কুরআন নয়! একদিকে এই কুফরী ধারণা অন্যদিকে হাদীস অনুসরণের দাবি!

কত ভালো হত যদি আমাদের তাকলীদ-ত্যাগী আলেমগণ তাদের অনুসারীদের কিছু খোঁজখবর নিতেন এবং তাদেরকে এ ধরনের অন্যায় প্রান্তিকতা থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করতেন!
তাদের এটাও তদন্ত করা কর্তব্য যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এইসব কুফরী মতবাদ কাদের মাধ্যমে প্রচারিত হয়। (আল-কাউসার:সংখ্যা: ০৩:রবিউল আউয়াল ১৪৩০)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00