📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 টাখনুর উপর কাপড় পড়া শুধু কি নামাজের জন্য?

📄 টাখনুর উপর কাপড় পড়া শুধু কি নামাজের জন্য?


অনেক সময় দেখা যায় জামাত শুরু হওয়ার আগে মুসল্লিদের কেউ কেউ নিজেদের পায়ে জামা-প্যান্ট লুঙ্গি ইত্যাদি উপর তুলে নিচ্ছেন। এতে মনে হয় যেন, শুধুমাত্র নামাজের সময় কাপড় টাখনুর উপর তোলতে হয়। বিষয়টি শুধু নামাজের সাথে নির্দিষ্ট নয়। পুরুষের জন্য নামাজের ভিতরে বাহিরে সর্বাবস্থায় টাখনুর নিচে কাপড় পরা কবিরা গুনাহ। এ বিষয়ে হাদীস শরীফে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে। হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কাপড়ের যে অংশটা টাখনুর নিচে থাকবে তা জাহান্নামে যাবে। (সহীহ বুখারী শরীফ: হাদিস নং: ৫৭৮৭)

অপর হাদীসে এসেছে যে ব্যক্তি অহংকারবশত কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পড়বে আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার দিকে ফিরেও তাকাবেন না। (সহীহ বুখারী শরীফ: হাদিস নং: ৫৭৯১; সহীহ মুসলিম শরীফ: হাদিস নং: ২০৮৫)

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 মসজিদের জিনিসপত্র ব্যবহার প্রসঙ্গে কিছু প্রথা

📄 মসজিদের জিনিসপত্র ব্যবহার প্রসঙ্গে কিছু প্রথা


মসজিদের জিনিসপত্র নিজের ব্যবহারের জন্য নিয়ে যাওয়ার একটি প্রথা। অনেকে মসজিদে বাতি দিয়ে আগুন, পানির পাত্র দিয়ে পানি, মসজিদের বদনায় রোগীর জন্য পানি পড়া, নিজের বাড়িতে মেহমানদের বসানোর জন্য মাদুর, বাড়িতে ইস্তেঞ্জা করার জন্য মসজিদের ঢিলা-কুলুখ ইত্যাদি নিয়ে গিয়ে নিজের মনকে সান্ত্বনা দেয়। আর এই বলে সান্ত্বনা দেয় যে, মসজিদে ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে সকলের উপকার লাভের অধিকার রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কথাটি নিষেধাজ্ঞার প্রমাণ। যে উদ্দেশ্যে নিয়ে, যে শর্তসাপেক্ষ করা হয় সেই শর্ত ও উদ্দেশ্য ভিন্ন অন্যত্রে এর ব্যবহার করা জায়েজ নেই। উপরোক্ত জিনিষগুলো যে উল্লেখিত কাজের জন্য ওয়াকফ করা হয়নি তা সকলেই জানেন। নামাজের সময় নামাজীদের প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য এগুলো ওয়াকফ করা হয়েছে। এই কারণেই নির্ধারিত শর্ত উদ্দেশ্যে এসব প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার হারাম হবে।

ফকীহগণ বলেছেন, যে পানি পান করার জন্য ওয়াকফ করা হয়েছে সে পানি দিয়ে ওযু করা জায়েয হবে না। অনেকে মসজিদকে বৈঠকখানা হিসাবে ব্যবহার করে থাকে। বাড়িতে বেশি মেহমান আসলে সেখানেই তাদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে থাকে। মসজিদ এসব কাজের জন্য নয়, বিধায় এ কাজ জায়েজ হবেনা। মসজিদের আদব রক্ষার্থে দুর্গন্ধযুক্ত কোন জিনিস মসজিদে নিয়ে যাওয়া বৈধ নয়। ধূমপানকারী ব্যক্তির মুখের দুর্গন্ধ দূর না হওয়া পর্যন্ত মসজিদে প্রবেশ করা উচিত নয়।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 বিবাহিত ব্যক্তির দু'রাকাত ৭০ রাকাত

📄 বিবাহিত ব্যক্তির দু'রাকাত ৭০ রাকাত


বিবাহিত ব্যক্তির দু'রাকাত নামাজ ও অবিবাহিত ব্যক্তির ৭০ রাকাতের চেয়েও উত্তম। নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হাদীসে এর অনেক ফযীলতের কথা এসেছে। তবে বিবাহের ফজিলত সম্পর্কে উপোরোক্ত কথাটি হাদিস নয়। উক্তিটি যদিও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস হিসেবে লোকমুখে প্রসিদ্ধ।

ইমাম ইবনুল জাওযী রহঃ, মুহাদ্দিস শাওকানী রহঃ, আল্লামা কাওকাযী রহঃ সহ অন্যান্য হাদীস বিশেষজ্ঞগণও একে বানোয়াট ও জাল বলেছেন। (কিতাবুল মাওযূআত:২/১৬৪, তাযাকিরাতুল মাওযূআত:১২৫, তানযীহুশ শরীয়া:২/২০৫, আল ফাওয়ায়িদুল মাজমূআ:১/১৫৬)

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 ইমামতি করা প্রসঙ্গে কিছু ভুল

📄 ইমামতি করা প্রসঙ্গে কিছু ভুল


কোন কোন এলাকায় ঈদের নামাজ এমনকি কোথাও কোথাও জুমা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ইমামতি করাকে বংশগত উত্তরাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটাও এক প্রকার ভুল প্রচলন।

এক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ইমামের যোগ্যতা আছে কি না সেদিকে লক্ষ্য করা হয় না। কোন কোন ক্ষেত্রে উক্ত ইমাম শুদ্ধ করে কোরআন পাঠ করতে অক্ষম হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় সকলের নামাযই নষ্ট হয়ে যাবে। আর ইমাম সাহেব সহীহ শুদ্ধ করে কোরআন পাঠ করতে পারলেও মুক্তাদীগণ ইমামতিতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে থাকেন কিংবা তার ইসলামবিরোধী কর্মকান্ডের কারণে কিংবা গুনাহে জড়িত থাকার কারণে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় তারা তা প্রকাশ না করেন, তাহলে এই ইমামের গুনাহ হবে। হাদিসে এসেছে এই ধরনের ইমামের নামাজ কবুল হবে না। তাই এক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হলো ইমামতি করার ক্ষেত্রে বংশগত উত্তরাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তা থেকে বেঁচে থাকা উচিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00