📄 নামাযের সময় মহিলাদের একটি চুল বেরিয়ে থাকলেও কি নামায হবে না
কিছু কিছু মানুষের ধারণা, নামায অবস্থায় যদি কোনো মহিলার একটি চুল বের হয়ে থাকে তাহলেও নামায হবে না। তাদের এ ধারণা ঠিক নয়। নামাযে একটি দুইটি চুল বের হয়ে গেলে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে না। কেননা সতরের ক্ষেত্রে মহিলাদের মাথার সমস্ত চুল এক অঙ্গ হিসেবে গণ্য। সুতরাং মাথার সমস্ত চুলের এক চতুর্থাংশ বা তার বেশি যদি তিনবার সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম’ বলা পরিমাণ বের হয়ে থাকে তাহলে নামায ফাসেদ হবে; অন্যথায় নয়। উল্লেখ্য, নামায পড়তে হবে সমস্ত মাথা ঢেকে পূর্ণ সতর্কতার সাথে; যেন চুলের কোনো অংশ বের না হয়ে যায়। -ফাতাওয়া শামী ১/৪০৯; ফাতহুল কাদীর ১/২২৬
📄 মাসবুক ব্যক্তি ভুলে দুই দিকে সালাম ফিরিয়ে ফেললে কি নামায বাতিল হয়ে যায়?
অনেক মানুষকে দেখা যায়, মাসবুক অবস্থায় যদি ইমামের সাথে দুই দিকে সালাম ফিরিয়ে ফেলে তাহলে মনে করে যে তার নামায বাতিল হয়ে গিয়েছে। ফলে আবার নতুন করে শুরু থেকে নামায পড়ে। এ আমলটি ভুল। মাসআলা না জানার কারণেই হয়তো তারা এমনটি করেন। এক্ষেত্রে নিয়ম হল, দুই দিকে সালাম ফিরিয়ে ফেললেও, যদি নামায ভেঙে যায় এমন কোনো কাজ না করা হয় তাহলে উঠে যাবে এবং বাকী রাকাত আদায় করবে। শেষে সাহু সিজদা আদায় করবে। আর একথা তো সবারই জানা যে, মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাম ফেরাবে না। বরং ইমামের দুই দিকে সালাম ফেরানো হলে উঠে বাকী রাকাত আদায় করবে। আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে মাসআলা জেনে আমল করার তাওফীক দান করুন।
📄 মাকরুহ ওয়াক্তে কি যিকির-তিলাওয়াত মাকরুহ
যে তিন ওয়াক্তে যেকোনো ধরনের নামায পড়া মাকরূহ সে ওয়াক্তের ব্যাপারে কারো কারো ধারণা এই যে, সে সময় যিকির-তিলাওয়াত, দুআ-দরূদ পড়াও মাকরূহ। এটা সঠিক নয়। ওই ওয়াক্তগুলোতে যিকির-তিলাওয়াত, দুআ-দরূদ সবই পড়া যায়। এটা মাকরূহ নয়।
📄 ইমামকে রুকুতে পেলে সানা পড়া
সানা পড়া সুন্নত। নামাজের নিয়ত বাঁধার পর প্রথম কাজ হলো ছানা পড়া। একা নামাজ পরুক অথবা জামাতে পুরুষ উভয় অবস্থায় ছানা পড়তে হয়। কিন্তু ইমামকে যখন রুকুতে পায় তখন অনেকে ছানা পড়ে থাকে যার কারণে ইমামের রুকু শেষ হয়ে যায়, ফলে ঐ রাকাত ছুটে যায়। এমনটি করা ঠিক নয়। এ অবস্থায় সানা পড়তে হবে না। হাতও বাঁধতে হবেনা; বরং নিয়ম হল প্রথমে দাঁড়ানো অবস্থায় দুই হাত তুলে তাকবীরে তাহরীমা বলে হাত ছেড়ে দিবে এরপর দাঁড়িয়ে থেকে তাকবীর বলে রুকুতে চলে যাবে। এক্ষেত্রে অনেকে আরও একটি ভুল ধারণা করে থাকে যে, ইমাম রুকুতে চলে গেছে এখন তাড়াতাড়ি রুকুতে শরিক হয়ে রাকাত ধরা দরকার, তা না করে এ সময় আরবীতে নিয়ত উচ্চারণ করতে থাকে যার ফলে ওই রাকাত ছুটে যায়। এটাও একটি বড় ভুল ধারণা। নিয়ত অর্থ সংকল্প করা যা অন্তরের কাজ। মুখে উচ্চারণ করার কোনো প্রয়োজন নেই।