📄 মনগড়াভাবে কোন মসজিদকে বিশেষ ফজিলত এর মসজিদ মনে করা
কোন কোন মানুষের মধ্যে বিশেষত মহিলাদের মধ্যে এই প্রবণতাটা অধিক লক্ষ করা যায় যে, কোন মসজিদ অনেক পুরানো হলে অথবা কোন মসজিদের সাথে মাজার থাকলে অথবা অন্য কোন দিক দিয়ে তাতে কোন বৈশিষ্ট্য থাকলে এই মসজিদকে বিশেষ ফজিলত মনে করা হয়। ধারণা করা হয় যে, এই মসজিদে নামাজ পড়ায় অন্য কোন মসজিদে নামাজ পড়ার চেয়ে বেশি সওয়াব। কোন মানুষ তো এই উদ্দেশ্যে সফর পর্যন্ত করে থাকে। মহিলাদের দেখা যায়-তারা এ জাতীয় মসজিদের জন্য মানত করে এবং বাচ্চাদের বরকতের জন্য কিংবা অসুস্থদেরকে সুস্থতার জন্য সে সমস্ত মসজিদ স্পর্শ করে নিয়ে আসে।
মনে রাখতে হবে যে, এগুলো হলো ইসলাম-বিরোধী কাজকর্ম।
উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলো কিংবা এ জাতীয় অন্য কোন বৈশিষ্ট্য কোন মসজিদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে না। সকল মসজিদ আল্লাহর ঘর এবং ফজিলত এর দিক থেকে সকল গুলোর মর্যাদা এক সমান। কোন ঐতিহাসিক বিশেষত্বের কারণে কিংবা অন্য কোন কারনে কোন মসজিদ বিশেষ স্বতন্ত্রের হতেই পারে। কিন্তু এতে করে আল্লাহর ঘর হওয়ার দিক থেকে এবং সওয়াব ও ফজিলত এর দিক থেকে কোন ব্যবধান সৃষ্টি হয় না। সকল মসজিদ মর্যাদার বিষয়টি শুধুমাত্র তিনটি মসজিদের ক্ষেত্রে হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণিত। যা নিম্নরূপ;
প্রথমতঃ মসজিদে হারাম।
দ্বিতীয়তঃ মসজিদে নববী।
তৃতীয়তঃ মসজিদে আকসা।
হাদীস শরীফে এসেছে শুধুমাত্র তিনটি মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে। মসজিদে হারাম, আমার মসজিদ (তথা মসজিদে নববী) এবং মসজিদে আকসা (সহীহ বুখারী শরীফ: হাদিস নং: ১১৮৯: সহীহ মুসলিম শরীফ: হাদিস নং: ১৩৯৭)
কোন মসজিদকে জাতীয় মসজিদ আখ্যায়িত করা একটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এর কারণে ওই মসজিদের বিশেষ ফজিলত কিভাবে সৃষ্টি হতে পারে? তেমনি ভাবে মসজিদের মধ্যে মাজার হওয়া জায়েজ নেই। মসজিদের আশেপাশেও মাজার থাকা উচিত নয়, তাহলে মাজার থাকার কারণে মসজিদের ফজিলত বৃদ্ধি পায় কিভাবে?
উপরোক্ত আলোচনার উদ্দেশ্য এটা নয় যে, মহল্লার মসজিদে ছেড়ে অন্য কোন মসজিদে নামাজ পড়া যাবে না; বরং উদ্দেশ্য হলো আমাদের উপরোক্ত ভুল ধারণা থেকে সংশোধন হওয়া।
📄 নামাযের সময় মহিলাদের একটি চুল বেরিয়ে থাকলেও কি নামায হবে না
কিছু কিছু মানুষের ধারণা, নামায অবস্থায় যদি কোনো মহিলার একটি চুল বের হয়ে থাকে তাহলেও নামায হবে না। তাদের এ ধারণা ঠিক নয়। নামাযে একটি দুইটি চুল বের হয়ে গেলে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে না। কেননা সতরের ক্ষেত্রে মহিলাদের মাথার সমস্ত চুল এক অঙ্গ হিসেবে গণ্য। সুতরাং মাথার সমস্ত চুলের এক চতুর্থাংশ বা তার বেশি যদি তিনবার সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম’ বলা পরিমাণ বের হয়ে থাকে তাহলে নামায ফাসেদ হবে; অন্যথায় নয়। উল্লেখ্য, নামায পড়তে হবে সমস্ত মাথা ঢেকে পূর্ণ সতর্কতার সাথে; যেন চুলের কোনো অংশ বের না হয়ে যায়। -ফাতাওয়া শামী ১/৪০৯; ফাতহুল কাদীর ১/২২৬
📄 মাসবুক ব্যক্তি ভুলে দুই দিকে সালাম ফিরিয়ে ফেললে কি নামায বাতিল হয়ে যায়?
অনেক মানুষকে দেখা যায়, মাসবুক অবস্থায় যদি ইমামের সাথে দুই দিকে সালাম ফিরিয়ে ফেলে তাহলে মনে করে যে তার নামায বাতিল হয়ে গিয়েছে। ফলে আবার নতুন করে শুরু থেকে নামায পড়ে। এ আমলটি ভুল। মাসআলা না জানার কারণেই হয়তো তারা এমনটি করেন। এক্ষেত্রে নিয়ম হল, দুই দিকে সালাম ফিরিয়ে ফেললেও, যদি নামায ভেঙে যায় এমন কোনো কাজ না করা হয় তাহলে উঠে যাবে এবং বাকী রাকাত আদায় করবে। শেষে সাহু সিজদা আদায় করবে। আর একথা তো সবারই জানা যে, মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাম ফেরাবে না। বরং ইমামের দুই দিকে সালাম ফেরানো হলে উঠে বাকী রাকাত আদায় করবে। আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে মাসআলা জেনে আমল করার তাওফীক দান করুন।
📄 মাকরুহ ওয়াক্তে কি যিকির-তিলাওয়াত মাকরুহ
যে তিন ওয়াক্তে যেকোনো ধরনের নামায পড়া মাকরূহ সে ওয়াক্তের ব্যাপারে কারো কারো ধারণা এই যে, সে সময় যিকির-তিলাওয়াত, দুআ-দরূদ পড়াও মাকরূহ। এটা সঠিক নয়। ওই ওয়াক্তগুলোতে যিকির-তিলাওয়াত, দুআ-দরূদ সবই পড়া যায়। এটা মাকরূহ নয়।