📄 মাসবুক মুসুল্লির ইমামের সাথে স্থিরতার স্থলে শরিক হওয়া
অনেক লোকের দেমাগে এই ভুল মাসআলা স্থান করে বসে আছে যে, মাসবুক মুসল্লী ইমামের সাথে কোন একটি স্থিরতার স্থানে হওয়া উচিত এবং এমনভাবে শরিক হওয়া উচিত যেন, কোন আমল অতিরিক্ত হতে না পারে। যেমন সিজদায় শরিক না হওয়া। তাহলে সংখ্যা বেড়ে যাবে। এমনটি ধারণা করা ঠিক নয়। হাদীস শরীফে এসেছে, ইমামকে যে অবস্থাতেই পাবে সে অবস্থাতেই নামাজে শরিক হয়ে যাবে। এটাই মাসবুকের নামাজের নিয়ম। একাকী কিংবা ইমামের পিছনে পূর্ণ নামাজ আদায় কারী ইমামের নামাজের সাথে মাসবুকের নামাজের ধরনের পার্থক্য রয়েছে। কদম উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ানো, সিজদা, দুই সিজদার মাঝে বসা ও শেষ বৈঠক ইত্যাদি সাধারণ অবস্থার চেয়ে মাসবুকের নামাজে অতিরিক্ত হতে পারে। কিন্তু তার জন্য এটা অতিরিক্ত নয়। সাধারণ অবস্থা থেকে মাসবুকের নামাজের নিয়ম পরিবর্তন হয়ে যায়। তবে বাহ্যিক এ অবিন্যাসটিই তার বেলায় নিয়ম ও ব্যতিক্রমের নির্দেশ প্রদান করেছে। সুতরাং মাসবুকের নামাজ সেভাবেই পড়া উচিত যেভাবে শরীয়ত শিক্ষা দিয়েছেন। এতে হ্রাস-বৃদ্ধির প্রশ্ন উঠানোই ভুল ।
📄 নামাজের কাতার সম্বন্ধে
নামাযে কাতার ঠিক করার নিয়ম হচ্ছে ইমামের পিছনে থেকে দাঁড়ানো শুরু করা। ধীরে ধীরে ডানপাশে বামপাশে কাতার বাড়তে থাকবে। কিন্তু বহু মসজিদে দেখা যায় এক দুই রাকাত হয়ে যাওয়ার পর যারা আসেন তারা কাতারের ডান দিক থেকে দাঁড়ান। এরপর আস্তে আস্তে কখনো ইমামের পিছনে পর্যন্ত কাতার পূরণ হয়। আবার কখনো অপূর্ণ থেকে যায় । এ পদ্ধতি ঠিক নয়। সঠিক পদ্ধতি হচ্ছে কাতার শুরু হবে ইমামের পিছন থেকে। তারপর উভয়পাশে সমানভাবে কাতার বাড়তে থাকবে।
আবার দেখা যায় ইমামকে রুকুতে পাওয়ার জন্য অলসতা করে আগের কাতারে ডানে-বামে জায়গা থাকা সত্ত্বেও নতুন কাতারে দাঁড়িয়ে যায়। এরপর তাদের দেখাদেখি অন্যরাও উক্ত কাতারে দাঁড়িয়ে যায়, ফলে আগের কাতারে জায়গা খালি থেকে যায়। মনে রাখতে হবে এমনটি করা ঠিক নয়। আগের কাতারে জায়গা খালি রেখে পিছনের কাতারে দাঁড়ানোর ব্যাপারে হাদীস শরীফে নিষেধাজ্ঞা এসেছে এবং প্রথমে আগের কাতার পূরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রাখা অপরিহার্য।
📄 পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে কাতার সোজা করা
নামাজের কাতার সোজা করার সময় কেউ কেউ পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে কাতার সোজা করেন। এই নিয়মটি ভুল। কাতার সোজা করার নিয়ম হলো, কাঁধ, টাখনু কিংবা পায়ের গোড়ালি মিলিয়ে দাঁড়ানো। এছাড়া কাতার সোজা হয় না। সুতরাং এক্ষেত্রেও লক্ষ রাখা আবশ্যক।
📄 মাসবুক অবশিষ্ট নামাজের জন্য কখন দাঁড়াবে?
মাসবুক ব্যক্তি (যে ইমামের সাথে এক কিংবা একাধিক রাকাত পায়নি) ইমামের দুই দিকে সালাম ফিরানোর শেষ হওয়ার পর ছুটে যাওয়া রাকাত আদায় করার জন্য দাঁড়াবে। কিন্তু অনেককে দেখা যায় ইমাম সালাম ফিরানোর শুরু করার সাথে সাথে উঠে যায়। এটা অনুত্তম। এতে একটি সমস্যা হল যে, কখনো ইমাম একদিকে সালাম ফিরানোর পর কিংবা দুই দিকে সালাম ফিরানোর পরেও সাহু-সাজদা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ অবস্থায় দাঁড়িয়ে গেলে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। তাই ইমামের দুই দিকে সালাম ফিরানো শেষ হওয়ার পর ছুটে যাওয়া রাকাত আদায় করার জন্য দাঁড়াবে।