📄 চাশতের নামাজ ছুটে গেলে কি মানুষ অন্ধ হয়ে যায়?
হাদীস শরীফে চাশতের নামাজ তথা সালাতুদদুহা এর অনেক ফজিলত এসেছে। কেউ কেউ মনে করে থাকেন চাশতের নামায হল আট রাকাত পড়া ছাড়া চাশতের নামায হবে না। এ ধরনের কারণে তারা চাশতের নামাজ পড়ার সাহস করে না। অথচ সঠিক কথা হল যে, চাশতের নামাজের রাকাত সংখ্যা নির্ধারিত নয়। কেউ যদি দু রাকআত পড়ে তাহলেও এই নফল নামাজ আদায় হয়ে যাবে এবং এর ফজিলত পেয়ে যাবে।
আরেকটি কথা মুহাদ্দিস জাইনুদ্দিন ইরাকী রহঃ লিখেছেন যে, সাধারণ মানুষের মাঝে এ কথাটি প্রচলিত রয়েছে যে, কেউ যদি চাশতের নামাজ পড়া আরম্ভ করে পরে তা ছেড়ে দেয় তাহলে সে অন্ধ হয়ে যাবে এবং অনেক মানুষের মুখ থেকেও এটি শোনা যায়। এ জন্য অনেকে চাশতের নামাজ একেবারেই পড়ে না। অথচ সেই প্রচলিত কথাটি একটি ভিত্তিহীন কথা, তার কোন প্রমাণাদি নেই এবং কে বলেছে সেটাও খুঁজে পাওয়া যায় না।
মোল্লা আলী কারী রহঃ আরো লিখেছেন উপরোক্ত কথাটির কারণে কোন কোন মহিলা এই ধারণা পোষণ করেন যে, চাশতের নামাজ শুধু বয়স্ক মহিলারাই পড়তে পারে যাদের মাসিক আসে না। কেননা যাদের মাসিক আসে তারা যেহেতু সে সময় কোনরূপ নামাজ পড়তে পারে না তাই আল্লাহ না করুক তখন চাশতের নামায ছুটে যাওয়ার কারণে তারা অন্ধ হয়ে যেতে পারে। (জমউল ওয়াসাইল, ২/৯০)
সুতরাং এটা ভালোভাবে মনে রাখা উচিত, নফল এবাদত বন্দেগী যখন যতটুকু করা যায় ততটুকু হল সৌভাগ্য। এমন ধারণা করা উচিত নয় যে, এটা ছেড়ে দিলে অন্ধ হয়ে যাবে কিংবা অন্য কোন রোগ হবে ইত্যাদি। এগুলো ভিত্তিহীন কথা-বার্তা ।
📄 আযান ও ইকামতের ক্ষেত্রে আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ এর উত্তরে কি বলবে?
আযান ও ইকামতের উত্তর দেওয়া সুন্নত মোয়াজ্জিন যে শব্দগুলো বলবে জবাবে সে শব্দগুলোই বলতে হয়। তবে হাইয়া আলাস সালাহ এবং হাইয়া আলাল ফালাহ এর উত্তরে শ্রোতাগণ লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ বলবে এবং আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ এর উত্তরে হুবহু আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ বলতে হয়। কিন্তু কিছু মানুষকে দেখা যায় মোয়াজ্জিন যখন আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ উচ্চারণ করে তখন তারা উত্তরে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে থাকে। তারা মনে করে এটি এই বাক্যটির উত্তর। আসলে এর উত্তর এটা নয়। আজানের উত্তর হল বাক্যটি পুনরায় বলা।
📄 মাসবুক মুসুল্লির ইমামের সাথে স্থিরতার স্থলে শরিক হওয়া
অনেক লোকের দেমাগে এই ভুল মাসআলা স্থান করে বসে আছে যে, মাসবুক মুসল্লী ইমামের সাথে কোন একটি স্থিরতার স্থানে হওয়া উচিত এবং এমনভাবে শরিক হওয়া উচিত যেন, কোন আমল অতিরিক্ত হতে না পারে। যেমন সিজদায় শরিক না হওয়া। তাহলে সংখ্যা বেড়ে যাবে। এমনটি ধারণা করা ঠিক নয়। হাদীস শরীফে এসেছে, ইমামকে যে অবস্থাতেই পাবে সে অবস্থাতেই নামাজে শরিক হয়ে যাবে। এটাই মাসবুকের নামাজের নিয়ম। একাকী কিংবা ইমামের পিছনে পূর্ণ নামাজ আদায় কারী ইমামের নামাজের সাথে মাসবুকের নামাজের ধরনের পার্থক্য রয়েছে। কদম উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ানো, সিজদা, দুই সিজদার মাঝে বসা ও শেষ বৈঠক ইত্যাদি সাধারণ অবস্থার চেয়ে মাসবুকের নামাজে অতিরিক্ত হতে পারে। কিন্তু তার জন্য এটা অতিরিক্ত নয়। সাধারণ অবস্থা থেকে মাসবুকের নামাজের নিয়ম পরিবর্তন হয়ে যায়। তবে বাহ্যিক এ অবিন্যাসটিই তার বেলায় নিয়ম ও ব্যতিক্রমের নির্দেশ প্রদান করেছে। সুতরাং মাসবুকের নামাজ সেভাবেই পড়া উচিত যেভাবে শরীয়ত শিক্ষা দিয়েছেন। এতে হ্রাস-বৃদ্ধির প্রশ্ন উঠানোই ভুল ।
📄 নামাজের কাতার সম্বন্ধে
নামাযে কাতার ঠিক করার নিয়ম হচ্ছে ইমামের পিছনে থেকে দাঁড়ানো শুরু করা। ধীরে ধীরে ডানপাশে বামপাশে কাতার বাড়তে থাকবে। কিন্তু বহু মসজিদে দেখা যায় এক দুই রাকাত হয়ে যাওয়ার পর যারা আসেন তারা কাতারের ডান দিক থেকে দাঁড়ান। এরপর আস্তে আস্তে কখনো ইমামের পিছনে পর্যন্ত কাতার পূরণ হয়। আবার কখনো অপূর্ণ থেকে যায় । এ পদ্ধতি ঠিক নয়। সঠিক পদ্ধতি হচ্ছে কাতার শুরু হবে ইমামের পিছন থেকে। তারপর উভয়পাশে সমানভাবে কাতার বাড়তে থাকবে।
আবার দেখা যায় ইমামকে রুকুতে পাওয়ার জন্য অলসতা করে আগের কাতারে ডানে-বামে জায়গা থাকা সত্ত্বেও নতুন কাতারে দাঁড়িয়ে যায়। এরপর তাদের দেখাদেখি অন্যরাও উক্ত কাতারে দাঁড়িয়ে যায়, ফলে আগের কাতারে জায়গা খালি থেকে যায়। মনে রাখতে হবে এমনটি করা ঠিক নয়। আগের কাতারে জায়গা খালি রেখে পিছনের কাতারে দাঁড়ানোর ব্যাপারে হাদীস শরীফে নিষেধাজ্ঞা এসেছে এবং প্রথমে আগের কাতার পূরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রাখা অপরিহার্য।