📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 জায়নামাজের দোয়া

📄 জায়নামাজের দোয়া


মক্তবের কাওয়ায়ীদে বাগদাদীতে জায়নামাজের দোয়া শিরোনামে নিম্নোক্ত দোয়াটি লেখা রয়েছে,
انى وجهت وجهى الذى فطر السموات والأرض حنيفا وما انا من المشركين
এ দোয়াটি সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা রয়েছে যে, জায়নামাজে দাঁড়ানোর পর তাকবীরে তাহরীমা বলার আগে এ দোয়াটি পড়তে হয় এবং তা পড়া সুন্নত বা নফল মনে করে থাকে।

এটাও একটি প্রসিদ্ধ ভুল মাসআলা। হাদীস শরীফে নামাজের দোয়া নামে কোন দোয়া নেই। কোনো নির্ভরযোগ্য ফতোয়ার কিতাব এই মাসালা লেখা নেই যে, তাকবীরে তাহরীমার আগে এই দোয়া পড়তে হবে; বরং ফিকহে হানাফীর প্রসিদ্ধ কিতাব হিদায়া গ্রন্থে লেখা আছে যে, তাকবীরে তাহরীমার পূর্বে এই দোয়া পড়বে না।

তাকবিরে তাহরিমার পর এ প্রথম কাজ হলো ছানা পড়া। হাদীস শরীফে বিভিন্ন ছানা এসেছে। এগুলোর মধ্যে সুবহানাকাল্লাহুম্মা অধিক প্রসিদ্ধ এবং একাধিক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তবে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো তাহাজ্জুদ নামাজের সানা হিসাবে উপরোক্ত দোয়া পড়তেন। (সহীহ মুসলিম: হাদীস নং: ৭৭১)

অতএব বুঝা গেল উল্লেখিত দোয়াটি তাকবিরে তাহরিমার আগে জায়নামাজের দোয়া নয়। এমনটি ধারণা করা ভুল এবং হাদীস শরীফেও জায়নামাজের দোয়া নামে কোন দোয়া বর্ণিত নেই। এ সমস্ত বিষয় থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 চাশতের নামাজ ছুটে গেলে কি মানুষ অন্ধ হয়ে যায়?

📄 চাশতের নামাজ ছুটে গেলে কি মানুষ অন্ধ হয়ে যায়?


হাদীস শরীফে চাশতের নামাজ তথা সালাতুদদুহা এর অনেক ফজিলত এসেছে। কেউ কেউ মনে করে থাকেন চাশতের নামায হল আট রাকাত পড়া ছাড়া চাশতের নামায হবে না। এ ধরনের কারণে তারা চাশতের নামাজ পড়ার সাহস করে না। অথচ সঠিক কথা হল যে, চাশতের নামাজের রাকাত সংখ্যা নির্ধারিত নয়। কেউ যদি দু রাকআত পড়ে তাহলেও এই নফল নামাজ আদায় হয়ে যাবে এবং এর ফজিলত পেয়ে যাবে।

আরেকটি কথা মুহাদ্দিস জাইনুদ্দিন ইরাকী রহঃ লিখেছেন যে, সাধারণ মানুষের মাঝে এ কথাটি প্রচলিত রয়েছে যে, কেউ যদি চাশতের নামাজ পড়া আরম্ভ করে পরে তা ছেড়ে দেয় তাহলে সে অন্ধ হয়ে যাবে এবং অনেক মানুষের মুখ থেকেও এটি শোনা যায়। এ জন্য অনেকে চাশতের নামাজ একেবারেই পড়ে না। অথচ সেই প্রচলিত কথাটি একটি ভিত্তিহীন কথা, তার কোন প্রমাণাদি নেই এবং কে বলেছে সেটাও খুঁজে পাওয়া যায় না।

মোল্লা আলী কারী রহঃ আরো লিখেছেন উপরোক্ত কথাটির কারণে কোন কোন মহিলা এই ধারণা পোষণ করেন যে, চাশতের নামাজ শুধু বয়স্ক মহিলারাই পড়তে পারে যাদের মাসিক আসে না। কেননা যাদের মাসিক আসে তারা যেহেতু সে সময় কোনরূপ নামাজ পড়তে পারে না তাই আল্লাহ না করুক তখন চাশতের নামায ছুটে যাওয়ার কারণে তারা অন্ধ হয়ে যেতে পারে। (জমউল ওয়াসাইল, ২/৯০)

সুতরাং এটা ভালোভাবে মনে রাখা উচিত, নফল এবাদত বন্দেগী যখন যতটুকু করা যায় ততটুকু হল সৌভাগ্য। এমন ধারণা করা উচিত নয় যে, এটা ছেড়ে দিলে অন্ধ হয়ে যাবে কিংবা অন্য কোন রোগ হবে ইত্যাদি। এগুলো ভিত্তিহীন কথা-বার্তা ।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আযান ও ইকামতের ক্ষেত্রে আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ এর উত্তরে কি বলবে?

📄 আযান ও ইকামতের ক্ষেত্রে আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ এর উত্তরে কি বলবে?


আযান ও ইকামতের উত্তর দেওয়া সুন্নত মোয়াজ্জিন যে শব্দগুলো বলবে জবাবে সে শব্দগুলোই বলতে হয়। তবে হাইয়া আলাস সালাহ এবং হাইয়া আলাল ফালাহ এর উত্তরে শ্রোতাগণ লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ বলবে এবং আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ এর উত্তরে হুবহু আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ বলতে হয়। কিন্তু কিছু মানুষকে দেখা যায় মোয়াজ্জিন যখন আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ উচ্চারণ করে তখন তারা উত্তরে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে থাকে। তারা মনে করে এটি এই বাক্যটির উত্তর। আসলে এর উত্তর এটা নয়। আজানের উত্তর হল বাক্যটি পুনরায় বলা।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 মাসবুক মুসুল্লির ইমামের সাথে স্থিরতার স্থলে শরিক হওয়া

📄 মাসবুক মুসুল্লির ইমামের সাথে স্থিরতার স্থলে শরিক হওয়া


অনেক লোকের দেমাগে এই ভুল মাসআলা স্থান করে বসে আছে যে, মাসবুক মুসল্লী ইমামের সাথে কোন একটি স্থিরতার স্থানে হওয়া উচিত এবং এমনভাবে শরিক হওয়া উচিত যেন, কোন আমল অতিরিক্ত হতে না পারে। যেমন সিজদায় শরিক না হওয়া। তাহলে সংখ্যা বেড়ে যাবে। এমনটি ধারণা করা ঠিক নয়। হাদীস শরীফে এসেছে, ইমামকে যে অবস্থাতেই পাবে সে অবস্থাতেই নামাজে শরিক হয়ে যাবে। এটাই মাসবুকের নামাজের নিয়ম। একাকী কিংবা ইমামের পিছনে পূর্ণ নামাজ আদায় কারী ইমামের নামাজের সাথে মাসবুকের নামাজের ধরনের পার্থক্য রয়েছে। কদম উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ানো, সিজদা, দুই সিজদার মাঝে বসা ও শেষ বৈঠক ইত্যাদি সাধারণ অবস্থার চেয়ে মাসবুকের নামাজে অতিরিক্ত হতে পারে। কিন্তু তার জন্য এটা অতিরিক্ত নয়। সাধারণ অবস্থা থেকে মাসবুকের নামাজের নিয়ম পরিবর্তন হয়ে যায়। তবে বাহ্যিক এ অবিন্যাসটিই তার বেলায় নিয়ম ও ব্যতিক্রমের নির্দেশ প্রদান করেছে। সুতরাং মাসবুকের নামাজ সেভাবেই পড়া উচিত যেভাবে শরীয়ত শিক্ষা দিয়েছেন। এতে হ্রাস-বৃদ্ধির প্রশ্ন উঠানোই ভুল ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00