📄 খুতবা চলাকালীন সময়ে দান বাক্স চালানো
প্রায় মসজিদে দেখা যায় খুৎবা চলাকালীন অবস্থায় দান বাক্স চলতে থাকে। এটি একটি বড় অনর্থক কাজ। হাদীস শরীফের খুতবা চলাকালীন অবস্থায় অন্য কিছু করতে বলাকেও অনর্থক কাজ বলা হয়েছে। সেখানে দান বাক্স চালানো কিভাবে ঠিক হয়। একটি হাদীসে এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযু করে জুমার মসজিদে যায় তারপর থেকে খুতবা শ্রবণ করে তার দশ দিনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। আর যে নুড়ি স্পর্শ করল সে অনর্থক কাজ করলো। (সহীহ মুসলিম: হাদিস নং:৮৫৭)
আরেক হাদীসে এসেছে জুমার দিন খুৎবা চলা অবস্থায় যদি তোমার পাশের সাথীকে বল চুপ কর তাহলে তুমিও একটি অনর্থক কাজ করলে। (সহীহ বুখারি: হাদিস নং: ৯৩৪; সহীহ মুসলিম: হাদিস নং: ৯৩১)
গুনাহের কাজ থেকে নিষেধ করা তো ভালো; কিন্তু খুৎবা চলা অবস্থায় সেটাকে অনর্থক ও গোনাহের কাজ বলা হয়েছে। আর মসজিদের জন্য দান করা নিঃসন্দেহে সওয়াবের কাজ কিন্তু তা যদি খুতবা চলাকালীন অবস্থায় হয় তাহলে সেটাও অনর্থক ও গুনাহের কাজ হিসাবে গণ্য হবে। এজন্য সবাইকে এ বিষয়ে খুবই সতর্ক থাকতে হবে। সোয়াবের কাজ করতে গিয়ে যদি গুনাহ হয় তাহলে এটা অবশ্যই দুঃখজনক।
📄 মহিলাদের নামাজে বিলম্ব করা
কোথাও কোথাও দেখা যায় যে, ফরজ নামাজের সময় হয়ে যাওয়ার পরেও মহিলারা নামাজ আদায় করতে দেরি করে। কারণ, পুরুষেরা এখনো মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ফিরে আসেনি কিংবা মসজিদের জামাত শেষ হয়নি। তাদের ধারণা পুরুষের নামাজ শেষ হওয়ার পর মহিলাদের নামাজের সময় হয়। এটাও একটি ভুল ধারণা। পুরুষ যেমন নামাজের সময় হওয়া মাত্রই নামাজ পড়তে পারে তেমনিভাবে মহিলারাও নামাজ পড়তে পারবে। পুরুষরা মসজিদ থেকে আসুক বা না আসুক তারা বাড়িতে নামাজ পড়ে ফেলবে। এই অজুহাতে নামাজের মুস্তাহাব সময় শেষ হতে দেওয়া মোটেও উচিত নয়।
জুমার দিনের ব্যাপারেও একই কথা। অর্থাৎ সেদিন মহিলাদের জোহরের নামাজ পড়ার জন্য পুরুষদের জুমা পরে ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকতে হবে না। নামাজের সময় হলেই মহিলারা নামাজ আদায় করতে পারবে। এমনটি ধারণা করবে না যে, পুরুষের নামাজ শেষ হলে পড়বো।
📄 জায়নামাজের দোয়া
মক্তবের কাওয়ায়ীদে বাগদাদীতে জায়নামাজের দোয়া শিরোনামে নিম্নোক্ত দোয়াটি লেখা রয়েছে,
انى وجهت وجهى الذى فطر السموات والأرض حنيفا وما انا من المشركين
এ দোয়াটি সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা রয়েছে যে, জায়নামাজে দাঁড়ানোর পর তাকবীরে তাহরীমা বলার আগে এ দোয়াটি পড়তে হয় এবং তা পড়া সুন্নত বা নফল মনে করে থাকে।
এটাও একটি প্রসিদ্ধ ভুল মাসআলা। হাদীস শরীফে নামাজের দোয়া নামে কোন দোয়া নেই। কোনো নির্ভরযোগ্য ফতোয়ার কিতাব এই মাসালা লেখা নেই যে, তাকবীরে তাহরীমার আগে এই দোয়া পড়তে হবে; বরং ফিকহে হানাফীর প্রসিদ্ধ কিতাব হিদায়া গ্রন্থে লেখা আছে যে, তাকবীরে তাহরীমার পূর্বে এই দোয়া পড়বে না।
তাকবিরে তাহরিমার পর এ প্রথম কাজ হলো ছানা পড়া। হাদীস শরীফে বিভিন্ন ছানা এসেছে। এগুলোর মধ্যে সুবহানাকাল্লাহুম্মা অধিক প্রসিদ্ধ এবং একাধিক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তবে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো তাহাজ্জুদ নামাজের সানা হিসাবে উপরোক্ত দোয়া পড়তেন। (সহীহ মুসলিম: হাদীস নং: ৭৭১)
অতএব বুঝা গেল উল্লেখিত দোয়াটি তাকবিরে তাহরিমার আগে জায়নামাজের দোয়া নয়। এমনটি ধারণা করা ভুল এবং হাদীস শরীফেও জায়নামাজের দোয়া নামে কোন দোয়া বর্ণিত নেই। এ সমস্ত বিষয় থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।
📄 চাশতের নামাজ ছুটে গেলে কি মানুষ অন্ধ হয়ে যায়?
হাদীস শরীফে চাশতের নামাজ তথা সালাতুদদুহা এর অনেক ফজিলত এসেছে। কেউ কেউ মনে করে থাকেন চাশতের নামায হল আট রাকাত পড়া ছাড়া চাশতের নামায হবে না। এ ধরনের কারণে তারা চাশতের নামাজ পড়ার সাহস করে না। অথচ সঠিক কথা হল যে, চাশতের নামাজের রাকাত সংখ্যা নির্ধারিত নয়। কেউ যদি দু রাকআত পড়ে তাহলেও এই নফল নামাজ আদায় হয়ে যাবে এবং এর ফজিলত পেয়ে যাবে।
আরেকটি কথা মুহাদ্দিস জাইনুদ্দিন ইরাকী রহঃ লিখেছেন যে, সাধারণ মানুষের মাঝে এ কথাটি প্রচলিত রয়েছে যে, কেউ যদি চাশতের নামাজ পড়া আরম্ভ করে পরে তা ছেড়ে দেয় তাহলে সে অন্ধ হয়ে যাবে এবং অনেক মানুষের মুখ থেকেও এটি শোনা যায়। এ জন্য অনেকে চাশতের নামাজ একেবারেই পড়ে না। অথচ সেই প্রচলিত কথাটি একটি ভিত্তিহীন কথা, তার কোন প্রমাণাদি নেই এবং কে বলেছে সেটাও খুঁজে পাওয়া যায় না।
মোল্লা আলী কারী রহঃ আরো লিখেছেন উপরোক্ত কথাটির কারণে কোন কোন মহিলা এই ধারণা পোষণ করেন যে, চাশতের নামাজ শুধু বয়স্ক মহিলারাই পড়তে পারে যাদের মাসিক আসে না। কেননা যাদের মাসিক আসে তারা যেহেতু সে সময় কোনরূপ নামাজ পড়তে পারে না তাই আল্লাহ না করুক তখন চাশতের নামায ছুটে যাওয়ার কারণে তারা অন্ধ হয়ে যেতে পারে। (জমউল ওয়াসাইল, ২/৯০)
সুতরাং এটা ভালোভাবে মনে রাখা উচিত, নফল এবাদত বন্দেগী যখন যতটুকু করা যায় ততটুকু হল সৌভাগ্য। এমন ধারণা করা উচিত নয় যে, এটা ছেড়ে দিলে অন্ধ হয়ে যাবে কিংবা অন্য কোন রোগ হবে ইত্যাদি। এগুলো ভিত্তিহীন কথা-বার্তা ।