📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 খুতবার শুরুতে কি আউযুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ পড়তে হয়

📄 খুতবার শুরুতে কি আউযুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ পড়তে হয়


এক মসজিদে দেখা গেল খুতবার শুরুতে খতিব সাহেব জোরে আউযুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ পড়লেন। হয়তো তিনি ভেবেছেন খুতবা যেহেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল তাই তা বরকতপূর্ণ করার জন্য আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করা উচিত। এটি একটি ভুল ধারণা। এ বিষয়ে সহীহ কথা হলো যে, প্রত্যেক ভালো কাজ আল্লাহ তাআলার কোনো-না-কোনো জিকিরের মাধ্যমে আরম্ভ করা উচিত। যে আমলের জন্য শরীয়ত যে জিকিরের নির্দেশ করেছেন সে আমল ও জিকিরের মাধ্যমেই শুরু করা উচিত। যেমন নামাজ শুরু হয় তাকবীরে তাহরীমার মাধ্যমে। হজ্ব শুরু হয় তালবিয়া লাব্বাইক আল্লাহুম্মা এর মাধ্যমে। কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করা শুরু হয় আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ দ্বারা।

খুতবা আলহামদুলিল্লাহ দ্বারা শুরু করা সুন্নত। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা আলহামদুলিল্লাহ দ্বারা শুরু করতেন। সাহাবায়ে কেরামের সময় থেকে আজ পর্যন্ত এভাবেই খুতবা দেওয়া হচ্ছে।

অতএব খুতবার শুরুতে আউযুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ পড়া সঠিক নয়। এমনটি ধারণা করাও ঠিক নয়।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 জুমার আগে বাংলা বয়ানকে খুতবা মনে করা

📄 জুমার আগে বাংলা বয়ানকে খুতবা মনে করা


জুমার নামাজের আগে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি খুতবা দিতেন। এই দুই খুতবার মধ্যে অল্প সময়ে বসতেন এবং উভয় খুতবা আরবী ভাষায় দিতেন। খুতবা আরবী ভাষায় হওয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা। হাদীস শরীফ দ্বারা এটাই প্রমাণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরাম তাবেয়ীন তাবে-তাবেয়ীন এবং গোটা মুসলিম উম্মাহ সর্বযুগে এ অনুযায়ী আমল করেছেন। এজন্য এ নিয়মের খুতবাকে খুতবায়ে মাসনূনাহ বলা হয়। আর জুমার দিন যেহেতু মসজিদে অনেক মানুষের সমাগম হয় তাই এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় ভাষায় কিছু দ্বীনী আলোচনা করা হয়। এটা খুতবায় মাসনূনাহ বলে গণ্য নয়। কিন্তু কিছু মানুষ খুতবার আগের এই দ্বীনী আলোচনাকেও জুমার খুতবা মনে করেন। তাদের এ ধারণা ঠিক নয়। কারণ জুমার খুতবার কিছু নির্দিষ্ট বিধি-বিধান আছে যা এই খুতবার বৈশিষ্ট্য। যেমন খুতবা আরবী ভাষায় হওয়া, খুতবা চলাকালে কোনো প্রকার কথা কিংবা কাজ নিষিদ্ধ হওয়া ইত্যাদি। লক্ষণীয় বিষয় হলো জুম'আর খুৎবা'র আগের বাংলা বয়ানকে খুতবা মনে করা ঠিক নয়।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 খুতবা চলাকালীন সময়ে দান বাক্স চালানো

📄 খুতবা চলাকালীন সময়ে দান বাক্স চালানো


প্রায় মসজিদে দেখা যায় খুৎবা চলাকালীন অবস্থায় দান বাক্স চলতে থাকে। এটি একটি বড় অনর্থক কাজ। হাদীস শরীফের খুতবা চলাকালীন অবস্থায় অন্য কিছু করতে বলাকেও অনর্থক কাজ বলা হয়েছে। সেখানে দান বাক্স চালানো কিভাবে ঠিক হয়। একটি হাদীসে এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযু করে জুমার মসজিদে যায় তারপর থেকে খুতবা শ্রবণ করে তার দশ দিনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। আর যে নুড়ি স্পর্শ করল সে অনর্থক কাজ করলো। (সহীহ মুসলিম: হাদিস নং:৮৫৭)

আরেক হাদীসে এসেছে জুমার দিন খুৎবা চলা অবস্থায় যদি তোমার পাশের সাথীকে বল চুপ কর তাহলে তুমিও একটি অনর্থক কাজ করলে। (সহীহ বুখারি: হাদিস নং: ৯৩৪; সহীহ মুসলিম: হাদিস নং: ৯৩১)

গুনাহের কাজ থেকে নিষেধ করা তো ভালো; কিন্তু খুৎবা চলা অবস্থায় সেটাকে অনর্থক ও গোনাহের কাজ বলা হয়েছে। আর মসজিদের জন্য দান করা নিঃসন্দেহে সওয়াবের কাজ কিন্তু তা যদি খুতবা চলাকালীন অবস্থায় হয় তাহলে সেটাও অনর্থক ও গুনাহের কাজ হিসাবে গণ্য হবে। এজন্য সবাইকে এ বিষয়ে খুবই সতর্ক থাকতে হবে। সোয়াবের কাজ করতে গিয়ে যদি গুনাহ হয় তাহলে এটা অবশ্যই দুঃখজনক।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 মহিলাদের নামাজে বিলম্ব করা

📄 মহিলাদের নামাজে বিলম্ব করা


কোথাও কোথাও দেখা যায় যে, ফরজ নামাজের সময় হয়ে যাওয়ার পরেও মহিলারা নামাজ আদায় করতে দেরি করে। কারণ, পুরুষেরা এখনো মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ফিরে আসেনি কিংবা মসজিদের জামাত শেষ হয়নি। তাদের ধারণা পুরুষের নামাজ শেষ হওয়ার পর মহিলাদের নামাজের সময় হয়। এটাও একটি ভুল ধারণা। পুরুষ যেমন নামাজের সময় হওয়া মাত্রই নামাজ পড়তে পারে তেমনিভাবে মহিলারাও নামাজ পড়তে পারবে। পুরুষরা মসজিদ থেকে আসুক বা না আসুক তারা বাড়িতে নামাজ পড়ে ফেলবে। এই অজুহাতে নামাজের মুস্তাহাব সময় শেষ হতে দেওয়া মোটেও উচিত নয়।

জুমার দিনের ব্যাপারেও একই কথা। অর্থাৎ সেদিন মহিলাদের জোহরের নামাজ পড়ার জন্য পুরুষদের জুমা পরে ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকতে হবে না। নামাজের সময় হলেই মহিলারা নামাজ আদায় করতে পারবে। এমনটি ধারণা করবে না যে, পুরুষের নামাজ শেষ হলে পড়বো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00