📄 ইমামকে সিজদায় পেলে নিজে নিজে রুকু সেজদা করা
কিছু মানুষকে দেখা যায় জামাত ধরার জন্য যখন তারা মসজিদে গিয়ে দেখে ইমাম সিজদা অবস্থায় আছে, তখন তারা তাকবির বলে হাত বেঁধে প্রথমত নিজে নিজে রুকু করে তারপর ইমামের সাথে সেজদায় গিয়ে শরিক হয়। তেমনিভাবে এক সিজদা ছুটে গেলে সে সিজদাও নিজে নিজে আদায় করে নেয়, দ্বিতীয় সেজদায় গিয়ে ইমামের সাথে শরিক হয়। এটি একটি ভুল আমল।
এক্ষেত্রে নিয়ম হলো ইমামকে যে অবস্থায় পাবে সরাসরি সে অবস্থাতেই শরিক হয়ে যাবে। এর আগে শুধু তাকবীরে তাহরীমা বলে উভয় হাত উঠিয়ে হাত ছেড়ে দিবে। এরপর আরেক তাকবীর বলে ইমাম যে অবস্থায় আছে সেখানেই ইমামের সাথে শরিক হয়ে যাবে। হাতও বাঁধবে না, ছুটে যাওয়া অন্য কোন আমল কিংবা রুকু-সিজদাহ করবে না। যদি সে রুকু পেয়ে যায় তাহলে সে রাকাত পেয়ে গেল। আর যদি রুকুতে না পায় তাহলে রাকাতও পেল না। এই বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখাটাও অপরিহার্য।
📄 নামাজে মনে মনে কোরআন তেলাওয়াত করা
যে সমস্ত নামাজে আস্তে আস্তে কেরাত পড়তে হয় সে সকল নামাজে অনেককে দেখা যায় ঠোঁট না নেড়ে মনে মনে সুরা-কেরাত পরে। আবার অনেক মানুষ এই ভুল ধারণা করে বসে আছে যে, আস্তে আস্তে কেরাত পড়ার অর্থ হলো মনে মনে পড়া। এমনটি ধারণা করা ভুল। কারণ যে সকল নামাজে কেরাত আস্তে আস্তে করতে বলা হয়েছে তার অর্থ হলো নিচুস্বরে তেলাওয়াত করা। আর এটা খুবই সহজ কথা যে, মনে মনে পড়া কোনক্রমেই নিচু আওয়াজে পড়া নয়।
ফতুয়ার কিতাবাদি থেকেও বুঝা যায় যে, আস্তে কেরাত পড়ার সর্ব উত্তম পদ্ধতি হলো এমন ভাবে পড়া যেন সে নিজে শুনতে পায়। আর সর্বনিম্ন এতোটুকু তো অবশ্যই জরুরি যে, শুদ্ধভাবে হরফ উচ্চারণ করতে হবে এবং ঠোঁট জিহ্বা নড়াচড়া দেখা যেতে হবে। একটি হাদীসে আছে যে, যোহর ও আসর নামাজের নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করতেন তখন কোন কোন আয়াত সাহাবায়ে কেরামও শুনতে পেতেন। হযরত আবু মা'মার (রা.) বলেন আমরা হযরত খাব্বাব (রা.) কে জিজ্ঞেস করেছিলাম নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যোহর ও আসরের নামাজে কোরআন তেলাওয়াত করতেন? তিনি বললেন হ্যাঁ, আমরা প্রশ্ন করলাম আপনারা কিভাবে বুঝলেন? তিনি উত্তরে বললেন তার দাড়ি মোবারক নড়াচড়ার দ্বারায়। (সহীহ বুখারি: ফতহুল বারী ২/২৮৪-২৮৭)
অতএব কেরাত পড়ার সময় জিহ্বা ও ঠোঁট ব্যবহার করে মাখরাজ থেকে সহীহ শুদ্ধভাবে হরফ উচ্চারণ করতে হবে। অন্যথায় শুধু মনে মনে পড়ার দ্বারা আদায় হবে না। এমন ভুল ধারণা থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।
📄 কেরাতে লোকমা হলে সাহু সেজদা করা
নামাজের কেরাতে কোথাও ইমামের সন্দেহ হলে এবং সামনে অগ্রসর হতে না পারলে মুক্তাদীর জন্য তাকে সহযোগিতা করা উত্তম। সহযোগিতার পদ্ধতি হলো মুক্তাদির উচ্চস্বরে শুদ্ধভাবে পাঠ করবে। এটাকে পরিভাষায় লোকমা দেওয়া বলা হয়। অনেক সময় কোথাও ইমামের ভুল হলে তাকে সতর্ক করাকেও লোকমা দেওয়া বলা হয়। এই লোকমা দেওয়ার বিধান রয়েছে, যেগুলো মেনে চলা অপরিহার্য। সাহু-সিজদার বিষয়টি নামাজের কোন ওয়াজিব ভুল করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেরাতের লোকমার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। কেরাতের যে সমস্ত ভুলের কারণে নামাজ ভেঙ্গে যায় এমন কোন ভুলের কারণে সাহু সিজদা দ্বারা নামাজ শুদ্ধ হবে না। পুনরায় সে নামায আদায় করতে হবে। তবে কেরাতের যদি কোন সাধারণ ভুল হয় কিংবা বড় ধরনের ভুল হলেও লোকমা দেওয়ার পর ইমাম তা শুধরে নিলে নামাজের কোন ক্ষতি হবে না। এক্ষেত্রে নামাজ নতুন করে পড়তে হবে না এবং সাহু সিজদা দিতে হবে না।
📄 খুতবার শুরুতে কি আউযুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ পড়তে হয়
এক মসজিদে দেখা গেল খুতবার শুরুতে খতিব সাহেব জোরে আউযুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ পড়লেন। হয়তো তিনি ভেবেছেন খুতবা যেহেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল তাই তা বরকতপূর্ণ করার জন্য আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করা উচিত। এটি একটি ভুল ধারণা। এ বিষয়ে সহীহ কথা হলো যে, প্রত্যেক ভালো কাজ আল্লাহ তাআলার কোনো-না-কোনো জিকিরের মাধ্যমে আরম্ভ করা উচিত। যে আমলের জন্য শরীয়ত যে জিকিরের নির্দেশ করেছেন সে আমল ও জিকিরের মাধ্যমেই শুরু করা উচিত। যেমন নামাজ শুরু হয় তাকবীরে তাহরীমার মাধ্যমে। হজ্ব শুরু হয় তালবিয়া লাব্বাইক আল্লাহুম্মা এর মাধ্যমে। কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করা শুরু হয় আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ দ্বারা।
খুতবা আলহামদুলিল্লাহ দ্বারা শুরু করা সুন্নত। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা আলহামদুলিল্লাহ দ্বারা শুরু করতেন। সাহাবায়ে কেরামের সময় থেকে আজ পর্যন্ত এভাবেই খুতবা দেওয়া হচ্ছে।
অতএব খুতবার শুরুতে আউযুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ পড়া সঠিক নয়। এমনটি ধারণা করাও ঠিক নয়।