📄 মেয়ে সন্তান হলে কানে আজান না দেওয়া
নিয়ম হলো সন্তান ছেলে হোক কিংবা মেয়ে হোক ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ডান কানে আযান এবং বাম কানে ইকামত দেওয়া। কিন্তু দেখা যায় অনেকে মেয়ে সন্তান হলে আযান দেয় না কিংবা শুধু আযান দিলেও ইকামত দেয় না। মনে করে মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে আযান ইকামত নেই। এটিও একটি মারাত্মক ভুল ধারণা। এমনটি ধারণা করা ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। অনেকে আবার সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আনন্দে এ ক্ষেত্রে অবহেলা করে যা একেবারেই অনুচিত। সকলের জন্যই আবশ্যক যে, সন্তান ছেলে হোক মেয়ে হোক ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর আযান ও ইকামত দেওয়ার ক্ষেত্রে অবহেলা কিংবা অলসতা না করা। নিয়ম অনুযায়ী ডান কানে আযান এবং বাম কানে ইকামত দেওয়া উচিত ।
📄 নামাজী ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা
নামাজী ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা গুনাহের কাজ। সেটা আমরা সকলেই জানি। তবে অনেকেই জানিনা এটা একটি কত বড় গুনাহ। তাই অবহেলাবশত এ গুনাহটি অনেকের ক্ষেত্রেই হয়ে যায়। এক্ষেত্রে যে সমস্ত ভুল গুলো হয় তা হল নিম্নরূপ;
প্রথমত অনেকে এক হাত মাটির সাথে ঝুলিয়ে মাথা নিচু করে নামাজী ব্যক্তির সামনে দিয়ে হেঁটে চলে যায় এবং মনে করে হাতের মাধ্যমে সুতরার কাজ হয়ে যাবে কিংবা ঝুঁকে ঝুঁকে যাওয়ার মাধ্যমে গুনাহ হবে না। এমন ধারনা করাও ভুল।
দ্বিতীয়তঃ অনেকের কাঁধে রুমাল থাকে সেটা দিয়েই নামাজী ব্যক্তির সামনে ঝুলিয়ে চলে যায়। এটাও একটি ভুল পদ্ধতি। এক্ষেত্রে আমাদের সমস্ত ভুল থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক ।
📄 ইমামকে সিজদায় পেলে নিজে নিজে রুকু সেজদা করা
কিছু মানুষকে দেখা যায় জামাত ধরার জন্য যখন তারা মসজিদে গিয়ে দেখে ইমাম সিজদা অবস্থায় আছে, তখন তারা তাকবির বলে হাত বেঁধে প্রথমত নিজে নিজে রুকু করে তারপর ইমামের সাথে সেজদায় গিয়ে শরিক হয়। তেমনিভাবে এক সিজদা ছুটে গেলে সে সিজদাও নিজে নিজে আদায় করে নেয়, দ্বিতীয় সেজদায় গিয়ে ইমামের সাথে শরিক হয়। এটি একটি ভুল আমল।
এক্ষেত্রে নিয়ম হলো ইমামকে যে অবস্থায় পাবে সরাসরি সে অবস্থাতেই শরিক হয়ে যাবে। এর আগে শুধু তাকবীরে তাহরীমা বলে উভয় হাত উঠিয়ে হাত ছেড়ে দিবে। এরপর আরেক তাকবীর বলে ইমাম যে অবস্থায় আছে সেখানেই ইমামের সাথে শরিক হয়ে যাবে। হাতও বাঁধবে না, ছুটে যাওয়া অন্য কোন আমল কিংবা রুকু-সিজদাহ করবে না। যদি সে রুকু পেয়ে যায় তাহলে সে রাকাত পেয়ে গেল। আর যদি রুকুতে না পায় তাহলে রাকাতও পেল না। এই বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখাটাও অপরিহার্য।
📄 নামাজে মনে মনে কোরআন তেলাওয়াত করা
যে সমস্ত নামাজে আস্তে আস্তে কেরাত পড়তে হয় সে সকল নামাজে অনেককে দেখা যায় ঠোঁট না নেড়ে মনে মনে সুরা-কেরাত পরে। আবার অনেক মানুষ এই ভুল ধারণা করে বসে আছে যে, আস্তে আস্তে কেরাত পড়ার অর্থ হলো মনে মনে পড়া। এমনটি ধারণা করা ভুল। কারণ যে সকল নামাজে কেরাত আস্তে আস্তে করতে বলা হয়েছে তার অর্থ হলো নিচুস্বরে তেলাওয়াত করা। আর এটা খুবই সহজ কথা যে, মনে মনে পড়া কোনক্রমেই নিচু আওয়াজে পড়া নয়।
ফতুয়ার কিতাবাদি থেকেও বুঝা যায় যে, আস্তে কেরাত পড়ার সর্ব উত্তম পদ্ধতি হলো এমন ভাবে পড়া যেন সে নিজে শুনতে পায়। আর সর্বনিম্ন এতোটুকু তো অবশ্যই জরুরি যে, শুদ্ধভাবে হরফ উচ্চারণ করতে হবে এবং ঠোঁট জিহ্বা নড়াচড়া দেখা যেতে হবে। একটি হাদীসে আছে যে, যোহর ও আসর নামাজের নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করতেন তখন কোন কোন আয়াত সাহাবায়ে কেরামও শুনতে পেতেন। হযরত আবু মা'মার (রা.) বলেন আমরা হযরত খাব্বাব (রা.) কে জিজ্ঞেস করেছিলাম নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যোহর ও আসরের নামাজে কোরআন তেলাওয়াত করতেন? তিনি বললেন হ্যাঁ, আমরা প্রশ্ন করলাম আপনারা কিভাবে বুঝলেন? তিনি উত্তরে বললেন তার দাড়ি মোবারক নড়াচড়ার দ্বারায়। (সহীহ বুখারি: ফতহুল বারী ২/২৮৪-২৮৭)
অতএব কেরাত পড়ার সময় জিহ্বা ও ঠোঁট ব্যবহার করে মাখরাজ থেকে সহীহ শুদ্ধভাবে হরফ উচ্চারণ করতে হবে। অন্যথায় শুধু মনে মনে পড়ার দ্বারা আদায় হবে না। এমন ভুল ধারণা থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।