📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আযানের আগে সুন্নত পড়া বিষয়ে

📄 আযানের আগে সুন্নত পড়া বিষয়ে


যে সমস্ত নামাজের আগে সুন্নত পড়তে হয় সে সমস্ত সুন্নতের সময় শুরু হয় ওই ফরজের সময়ের শুরু থেকেই। ফরজের ওয়াক্ত হওয়ার পর আযান না দেওয়া হলেও সুন্নত নামাজ আদায় করা যাবে। অনেক মানুষ মসজিদে এসে বসে থাকে। মনে করে এখনো তো আযান হয়নি সুন্নত কিভাবে পড়বো? অথচ নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর আযান না হলেও সুন্নত আদায় করতে কোন অসুবিধা নেই। তাছাড়া নির্দিষ্ট কয়েকটি সময় ছাড়া অন্য সমস্ত সময় নফল নামাজ পড়া যায়। সুতরাং মসজিদে প্রবেশের পর হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী বসার আগে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়ে নেওয়া উচিত কিংবা সরাসরি সুন্নত নামাজ পড়ে নেওয়া উচিত । তাহলে তা তাহিয়্যাতুল মসজিদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যাবে।

মোটকথা ওয়াক্ত শুরু হয়ে যাওয়ার পর শুধুমাত্র আজান হয়নি এই ভিত্তিতে নফল কিংবা সুন্নত পড়া থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। আযানের সাথে যুক্ত হচ্ছে ফরজের জামাত। মানুষকে জামাতের দিকে আহবান করার জন্যেই আজান হলো ওয়াজ পর্যায়ের একটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা আমল। সুতরাং সুন্নত বা নফল এর সাথে তাকে সংযুক্ত করা ঠিক নয়। এমনিভাবে কোন কোন মহিলাকে দেখা যায় তারা ঘরে আযানের অপেক্ষায় বসে থাকে। যদিও তারা জানেন যে, নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয়ে গিয়েছে। তারপরও তারা মনে করে আযান না হওয়া পর্যন্ত মনে হয় নামাজ পড়া যাবে না। এটাও একটি ভুল ধারণা। কারো কারো মাঝে এমনও প্রথা রয়েছে যে, সূর্যাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরেও শুধু আজান শোনা না যাওয়ার কারণে ইফতারে বিলম্ব করে। এটাও ভুল ধারণা। লক্ষণীয় বিষয় হলো সূর্যাস্তের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পরে ইফতার করাতে কোন সমস্যা নেই। এ সমস্ত ভুল ধারণা থেকে আমাদের সংশোধন হওয়া অপরিহার্য।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 মেয়ে সন্তান হলে কানে আজান না দেওয়া

📄 মেয়ে সন্তান হলে কানে আজান না দেওয়া


নিয়ম হলো সন্তান ছেলে হোক কিংবা মেয়ে হোক ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ডান কানে আযান এবং বাম কানে ইকামত দেওয়া। কিন্তু দেখা যায় অনেকে মেয়ে সন্তান হলে আযান দেয় না কিংবা শুধু আযান দিলেও ইকামত দেয় না। মনে করে মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে আযান ইকামত নেই। এটিও একটি মারাত্মক ভুল ধারণা। এমনটি ধারণা করা ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। অনেকে আবার সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আনন্দে এ ক্ষেত্রে অবহেলা করে যা একেবারেই অনুচিত। সকলের জন্যই আবশ্যক যে, সন্তান ছেলে হোক মেয়ে হোক ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর আযান ও ইকামত দেওয়ার ক্ষেত্রে অবহেলা কিংবা অলসতা না করা। নিয়ম অনুযায়ী ডান কানে আযান এবং বাম কানে ইকামত দেওয়া উচিত ।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 নামাজী ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা

📄 নামাজী ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা


নামাজী ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা গুনাহের কাজ। সেটা আমরা সকলেই জানি। তবে অনেকেই জানিনা এটা একটি কত বড় গুনাহ। তাই অবহেলাবশত এ গুনাহটি অনেকের ক্ষেত্রেই হয়ে যায়। এক্ষেত্রে যে সমস্ত ভুল গুলো হয় তা হল নিম্নরূপ;

প্রথমত অনেকে এক হাত মাটির সাথে ঝুলিয়ে মাথা নিচু করে নামাজী ব্যক্তির সামনে দিয়ে হেঁটে চলে যায় এবং মনে করে হাতের মাধ্যমে সুতরার কাজ হয়ে যাবে কিংবা ঝুঁকে ঝুঁকে যাওয়ার মাধ্যমে গুনাহ হবে না। এমন ধারনা করাও ভুল।

দ্বিতীয়তঃ অনেকের কাঁধে রুমাল থাকে সেটা দিয়েই নামাজী ব্যক্তির সামনে ঝুলিয়ে চলে যায়। এটাও একটি ভুল পদ্ধতি। এক্ষেত্রে আমাদের সমস্ত ভুল থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক ।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 ইমামকে সিজদায় পেলে নিজে নিজে রুকু সেজদা করা

📄 ইমামকে সিজদায় পেলে নিজে নিজে রুকু সেজদা করা


কিছু মানুষকে দেখা যায় জামাত ধরার জন্য যখন তারা মসজিদে গিয়ে দেখে ইমাম সিজদা অবস্থায় আছে, তখন তারা তাকবির বলে হাত বেঁধে প্রথমত নিজে নিজে রুকু করে তারপর ইমামের সাথে সেজদায় গিয়ে শরিক হয়। তেমনিভাবে এক সিজদা ছুটে গেলে সে সিজদাও নিজে নিজে আদায় করে নেয়, দ্বিতীয় সেজদায় গিয়ে ইমামের সাথে শরিক হয়। এটি একটি ভুল আমল।

এক্ষেত্রে নিয়ম হলো ইমামকে যে অবস্থায় পাবে সরাসরি সে অবস্থাতেই শরিক হয়ে যাবে। এর আগে শুধু তাকবীরে তাহরীমা বলে উভয় হাত উঠিয়ে হাত ছেড়ে দিবে। এরপর আরেক তাকবীর বলে ইমাম যে অবস্থায় আছে সেখানেই ইমামের সাথে শরিক হয়ে যাবে। হাতও বাঁধবে না, ছুটে যাওয়া অন্য কোন আমল কিংবা রুকু-সিজদাহ করবে না। যদি সে রুকু পেয়ে যায় তাহলে সে রাকাত পেয়ে গেল। আর যদি রুকুতে না পায় তাহলে রাকাতও পেল না। এই বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখাটাও অপরিহার্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00