📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 নামাজের জন্য জায়গা রাখা সম্পর্কে ভুল প্রথা

📄 নামাজের জন্য জায়গা রাখা সম্পর্কে ভুল প্রথা


অধিকাংশ মানুষ দেখা যায় ঈদের নামাজ কিংবা জুমার নামাজ বা অন্যান্য নামাজে ভালো জায়গা কিংবা প্রথম কাতারে ইমামের পিছনে জায়গা সংরক্ষণ করার জন্য নিজের জায়নামাজ তজবি ইত্যাদি পূর্ব থেকেই উক্ত জায়গায় রেখে দেয়। আর নিজে সময়মতো গিয়ে সেই জায়গায় অবস্থান করে। এটি সম্পূর্ণ শরীয়ত বিরোধী।

সাহাবায়ে কেরাম একবার নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করেছিলেন আমরা কি আগে মিনায় গিয়ে আপনার জন্য তাবু প্রস্তুত করে রাখবো? প্রতি উত্তরে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন না; বরং যে প্রথমে সেখানে যাবে সেই ব্যক্তি সেই স্থানে অবস্থান করার অধিকারী।

তবে কেউ যদি কোন জায়গায় বসে এবং নামাজও সেখানেই আদায় করার ইচ্ছা পোষণ করে কিন্তু হঠাৎ কোন বিশেষ প্রয়োজনে যেমন: অজু কিংবা কফ ফেলা ইত্যাদি কাজে যদি তাকে সেই জায়গা থেকে সামসাময়িক ভাবে ত্যাগ করতে হয় তাহলে সেই ব্যক্তি উক্ত জায়গায় বসার অধিকারী। অন্য কারো জন্য সেখানে বসা জায়েজ হবে না। এ প্রসঙ্গেও হাদীস রয়েছে।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 মসজিদে গিয়ে আগে বসতে হয় তারপর নামাজ পড়তে হয়

📄 মসজিদে গিয়ে আগে বসতে হয় তারপর নামাজ পড়তে হয়


অনেক মানুষকে দেখা যায় তারা মসজিদে গিয়ে আগে প্রথমে একটু বসে তারপর নামাজ শুরু করে। এমনটিও ঠিক নয়। বরং মসজিদে গিয়ে প্রথম কাজ হবে নামাজ। হাদীস শরীফে এসেছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে তখন যেন দুই রাকাত নামাজ পড়া ছাড়া না বসে। (সহীহ বুখারি: হাদিস নং: ১১৬৭; সহীহ মুসলিম: হাদিস নং: ৭১৪)

সুতরাং মসজিদে প্রবেশ করে পর্যাপ্ত পরিমাণ সময় থাকলে প্রথমে তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করবে। সে সময় না থাকলে নির্ধারিত ওয়াক্তের সুন্নত পড়বে। সেটাই তাহিয়্যাতুল মসজিদ বলে গণ্য হবে; বরং সেটা না করে আগে বসতে হবে তারপর নামাজ পড়তে হবে এমন ধারণা করা ঠিক নয়। এটিও একটি ভিত্তিহীন কথা।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 তাকবীরে তাহরীমা সম্পর্কে ভুল ধারণা

📄 তাকবীরে তাহরীমা সম্পর্কে ভুল ধারণা


বর্তমান বড় ধরনের একটি ভুল হল তাকবীরে তাহরীমা মনে মনে বলা । ইমামের পিছনে নামাজ পড়ার সময় এই ভুলটি ব্যাপকভাবে দেখা যায়। কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে বাঁধাকেই অনেকে যথেষ্ট মনে করে। কিন্তু মনে রাখা দরকার যে, নামাযের শুরুতে তিনটি কাজ করতে হয়। প্রথমে মনে মনে কোন কোন ওয়াক্তের নামাজ পড়ছি এই সংকল্প করতে হয়। এর নাম নিয়ত, যা নামাজ সহীহ হওয়ার জন্য আবশ্যক। উল্লেখ্য মনে মনে সংকল্প করে নিলেই নিয়ত হয়ে যাবে মুখে করা আবশ্যক নয়। এক্ষেত্রে অনেক মানুষ মনে করে নিয়ত মুখে উচ্চারণ করতে হয়। তাদের বোঝা উচিত যে, যখন আমরা বাসা থেকে বের হয়েছি তখনই কিন্তু আমরা নামাযের নিয়তে বের হয়েছি। আবার বাসা থেকে বের হওয়ার সময় অনেককে বলতে শোনা যায় যে, নামাজে যাচ্ছি। বাসা থেকে নামাযের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সাথে সাথেই তার নিয়ত হয়ে গেছে। এখানে নতুন করে মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত বলা আবশ্যক নয়। এটাও একটি ভুল ধারণা যে, নিয়ত মুখে উচ্চারণ করতে হবে।

দ্বিতীয় কাজটি হলো তাকবীরে তাহরীমা স্পষ্ট উচ্চারণে আল্লাহু আকবার বলা। যেহেতু এই তাকবীর এর মাধ্যমে নামাজ বহির্ভূত সকল কাজ হারাম হয়ে যায় তাই একে তাকবীরে তাহরীমা বলে। এই তাকবীর বলা ফরজ। যা স্পষ্ট ভাবে মুখে উচ্চারণ করতে হবে।

অতএব একটি পরিতাপের বিষয় হলো যে, যেটা মুখে উচ্চারণ করা দরকার সেটা মনে মনে করে। আর যেটা মনে মনে বললেই হয়ে যায় সেটা মুখে উচ্চারণ করে। অর্থাৎ আবশ্যক হল তাকবীরে তাহরীমা স্পষ্ট উচ্চারণ করে বলা। আর নিয়ত মনে মনে বলা।

তৃতীয় কাজ হল কান পর্যন্ত দুই হাত উঠিয়ে ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরে নাভির নিচে হাত বাধা। এই কাজটি সুন্নত।

এখন কেউ যদি শুধু হাত উঠিয়ে নিলো কিন্তু আল্লাহু আকবার বলল না কিংবা মনে মনে বলল তাহলে নামাজের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ আদায় হলো না। ফলে তার নামায আদায় হবে না।

অতএব তাকবীর স্পষ্টভাবে মুখে উচ্চারণ করা অপরিহার্য। আমাদের সকলকে এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার তৌফিক দান করুন।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আযানের আগে সুন্নত পড়া বিষয়ে

📄 আযানের আগে সুন্নত পড়া বিষয়ে


যে সমস্ত নামাজের আগে সুন্নত পড়তে হয় সে সমস্ত সুন্নতের সময় শুরু হয় ওই ফরজের সময়ের শুরু থেকেই। ফরজের ওয়াক্ত হওয়ার পর আযান না দেওয়া হলেও সুন্নত নামাজ আদায় করা যাবে। অনেক মানুষ মসজিদে এসে বসে থাকে। মনে করে এখনো তো আযান হয়নি সুন্নত কিভাবে পড়বো? অথচ নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর আযান না হলেও সুন্নত আদায় করতে কোন অসুবিধা নেই। তাছাড়া নির্দিষ্ট কয়েকটি সময় ছাড়া অন্য সমস্ত সময় নফল নামাজ পড়া যায়। সুতরাং মসজিদে প্রবেশের পর হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী বসার আগে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়ে নেওয়া উচিত কিংবা সরাসরি সুন্নত নামাজ পড়ে নেওয়া উচিত । তাহলে তা তাহিয়্যাতুল মসজিদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যাবে।

মোটকথা ওয়াক্ত শুরু হয়ে যাওয়ার পর শুধুমাত্র আজান হয়নি এই ভিত্তিতে নফল কিংবা সুন্নত পড়া থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। আযানের সাথে যুক্ত হচ্ছে ফরজের জামাত। মানুষকে জামাতের দিকে আহবান করার জন্যেই আজান হলো ওয়াজ পর্যায়ের একটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা আমল। সুতরাং সুন্নত বা নফল এর সাথে তাকে সংযুক্ত করা ঠিক নয়। এমনিভাবে কোন কোন মহিলাকে দেখা যায় তারা ঘরে আযানের অপেক্ষায় বসে থাকে। যদিও তারা জানেন যে, নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয়ে গিয়েছে। তারপরও তারা মনে করে আযান না হওয়া পর্যন্ত মনে হয় নামাজ পড়া যাবে না। এটাও একটি ভুল ধারণা। কারো কারো মাঝে এমনও প্রথা রয়েছে যে, সূর্যাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরেও শুধু আজান শোনা না যাওয়ার কারণে ইফতারে বিলম্ব করে। এটাও ভুল ধারণা। লক্ষণীয় বিষয় হলো সূর্যাস্তের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পরে ইফতার করাতে কোন সমস্যা নেই। এ সমস্ত ভুল ধারণা থেকে আমাদের সংশোধন হওয়া অপরিহার্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00