📄 সুন্নত অনুযায়ী বড় এস্তেঞ্জা করলে পনের পারা কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব হবে!
সুন্নত অনুযায়ী আমল করার কত বড় ফযীলত- এর উদাহরণ দিতে গিয়ে কেনো কোনো মানুষকে বলতে শোনা যায়, সুন্নত অনুযায়ী বড় এস্তেঞ্জা করলেও পনের পারা কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব হবে। এটি একটি মনগড়া কথা। এর কোনো ভিত্তি নেই।
যে কোনো কাজই সুন্নত অনুযায়ী করাটা ফযীলতের বিষয়। কিন্তু বিশেষ কোনো আমল সুন্নত অনুযায়ী করলে এর বিশেষ ফযীলত রয়েছে- এ কথা প্রমাণিত হওয়ার জন্য কুরআনে কারীমে বা হাদীস শরীফে সে ফযীলত বর্ণিত হতে হবে, যা এখানে অনুপস্থিত। সুতরাং সুন্নাত অনুযায়ী বড় এস্তেঞ্জা করলে...- একথা বলা বা বিশ্বাস করা যাবে না। এ কথা বলা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। (আল-কাউসার: সংখ্যা: ০৭: যিলকদ ১৪৩৭)
📄 কাপড় বা শরীর কি কুকুরের গায়ে লাগলে নাপাক হয়ে যায়?
অনেক মানুষের ধারণা, কুকুরের শরীর নাপাক। সুতরাং কুকুরের গায়ে যদি নিজের শরীর বা কাপড় লেগে যায় তাহলে তা নাপাক হয়ে যাবে। আর কুকুরের শরীর যদি ভেজা থাকে তাহলে নাপাকী আরো বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থায় যদি কুকুরের গায়ের সাথে নিজের শরীর বা কাপড় লাগে তাহলে আরো বেশি নাপাক হবে।
এটি একটি ভুল ধারণা। কুকুরের লালা নাপাক কিন্তু কুকুরের শরীর নাপাক নয়। সুতরাং কুকুর যদি কারো শরীর অথবা কাপড় ছুঁয়ে দেয় তাহলে তা নাপাক হবে না, যদিও কুকুরের শরীর ভেজা থাকে। আর কুকুরের গায়ের যদি নাপাকী লেগে থাকে সেটা ভিন্ন কথা।
📄 শিশুদের প্রশাব নিয়ে ভুল ধারণা
অনেকেই মনে করে যে, শিশু যতদিন দুধ পান করবে ততদিন তার প্রশাব নাপাক নয়। কারণ যতদিন শুধু দুধ পান করে ততদিন বাচ্চার প্রশাব বেশি দুর্গন্ধ হয় না। এ ধারণা ভুল। হাদীস শরীফে এ ধরনের শিশুর প্রশাবও যে নাপাক তার বর্ণনা রয়েছে। আর প্রশাব দুর্গন্ধযুক্ত হোক বা না হোক সর্বাবস্থায় তা নাপাক। দুর্গন্ধযুক্ত না হলে নাপাক হবে না এমনটি ধারণা করা ভুল। (সহীহ বুখারী শরীফ:১/৩৫; তিরমিজি শরীফ:১/২১)
📄 ছেলে-মেয়ের প্রসাবের মাঝে পার্থক্য করা
অনেকে মনে করে ছেলেদের প্রশাব পবিত্র এবং মেয়েদের প্রস্রাব নাপাক। এ ধারণা মোটেই ঠিক নয় এবং এই পার্থক্যটাও সঠিক নয়; বরং ছেলে হোক বা মেয়ে হোক উভয়ের প্রশাব নাপাক এবং পবিত্র করার নিয়মও একই। (ইলাউস হুনান: ১/৪০৯; রদ্দুল মুহতার:১/৩১৮)