📄 কাপড় পাক করার সময় বিসমিল্লাহ না বললে কি কাপড় পাক হয় না!
কিছু মানুষের ধারণা, নাপাক কাপড় পাক করার সময় যদি বিসমিল্লাহ বলা না হয়, তাহলে কাপড় যতই ধোওয়া হোক পাক হবে না। এটি একটি ভুল ধারণা, এর কোনো ভিত্তি নেই।
নাপাক কাপড় পাক করার জন্য ভালো করে তিনবার ধুতে হবে এবং প্রত্যেকবার কাপড়ের পানি নিংড়িয়ে নিতে হবে। নাপাকী যদি দৃশ্যমান হয় তাহলে কাপড় থেকে সে নাপাকী কোনোভাবে সরিয়ে ফেলতে হবে এবং তিনবার ভালোভাবে নিংড়িয়ে ধুতে হবে। এভাবে ধোওয়ার দ্বারাই কাপড় পবিত্র হয়ে যাবে। এর সাথে বিসমিল্লাহ বলা না বলার কোনো সম্পর্ক নেই।
তবে কাপড় পাক করা একটি নেক আমল। এর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা হলে তা তো ভালই। কিন্তু বিসমিল্লাহ বলা ছাড়া কাপড় পাক হবে না এটা ভুল মাসআলাহ।
📄 ইস্তিঞ্জা করার পর অবশিষ্ট পানি দ্বারা ওযু না করা
কোনো কোনো মানুষকে দেখা যায়, ইস্তিঞ্জা করার পর পাত্রে যে অবশিষ্ট পানি রয়েছে সে পানি দ্বারা আর ওযু করে না। মনে করে যে, ইস্তিঞ্জার অবশিষ্ট পানি দ্বারা ওযু করা যাবে না। আবার কেউ কেউ মনে করে, সে পানি নাপাক। তাদের এ ধারণা ভুল।
ইস্তিঞ্জা করার কারণে পাত্রের পানি নাপাক হয় না। সুতরাং তা দ্বারা ওযু করতে কোনো সমস্যা নেই। হাঁ, যদি এ বিষয়ে নিশ্চিত হয় যে, কোনো কারণে পানি নাপাক হয়ে গেছে, তাহলে তা ভিন্ন কথা। কিন্তু শুধু ইস্তিঞ্জার অবশিষ্ট পানি হওয়ার কারণে তা দ্বারা ওযু করা যাবে না- এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
তবে, ইস্তিঞ্জার পর অবশিষ্ট পানি যদি অপচয় না করে তা ইস্তিঞ্জার কাজেই লাগানো হয়, আর ওযু নতুন পানি দিয়ে করা হয়, সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ।
📄 সুন্নত অনুযায়ী বড় এস্তেঞ্জা করলে পনের পারা কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব হবে!
সুন্নত অনুযায়ী আমল করার কত বড় ফযীলত- এর উদাহরণ দিতে গিয়ে কেনো কোনো মানুষকে বলতে শোনা যায়, সুন্নত অনুযায়ী বড় এস্তেঞ্জা করলেও পনের পারা কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব হবে। এটি একটি মনগড়া কথা। এর কোনো ভিত্তি নেই।
যে কোনো কাজই সুন্নত অনুযায়ী করাটা ফযীলতের বিষয়। কিন্তু বিশেষ কোনো আমল সুন্নত অনুযায়ী করলে এর বিশেষ ফযীলত রয়েছে- এ কথা প্রমাণিত হওয়ার জন্য কুরআনে কারীমে বা হাদীস শরীফে সে ফযীলত বর্ণিত হতে হবে, যা এখানে অনুপস্থিত। সুতরাং সুন্নাত অনুযায়ী বড় এস্তেঞ্জা করলে...- একথা বলা বা বিশ্বাস করা যাবে না। এ কথা বলা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। (আল-কাউসার: সংখ্যা: ০৭: যিলকদ ১৪৩৭)
📄 কাপড় বা শরীর কি কুকুরের গায়ে লাগলে নাপাক হয়ে যায়?
অনেক মানুষের ধারণা, কুকুরের শরীর নাপাক। সুতরাং কুকুরের গায়ে যদি নিজের শরীর বা কাপড় লেগে যায় তাহলে তা নাপাক হয়ে যাবে। আর কুকুরের শরীর যদি ভেজা থাকে তাহলে নাপাকী আরো বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থায় যদি কুকুরের গায়ের সাথে নিজের শরীর বা কাপড় লাগে তাহলে আরো বেশি নাপাক হবে।
এটি একটি ভুল ধারণা। কুকুরের লালা নাপাক কিন্তু কুকুরের শরীর নাপাক নয়। সুতরাং কুকুর যদি কারো শরীর অথবা কাপড় ছুঁয়ে দেয় তাহলে তা নাপাক হবে না, যদিও কুকুরের শরীর ভেজা থাকে। আর কুকুরের গায়ের যদি নাপাকী লেগে থাকে সেটা ভিন্ন কথা।