📄 যে ঘরে সন্তান ভূমিষ্ট হয় সে ঘর কি চল্লিশ দিন নাপাক থাকে?
কিছু মানুষের ধারণা, যে ঘরে সন্তান ভূমিষ্ট হয় সে ঘর চল্লিশ দিন পর্যন্ত নাপাক থাকে। চল্লিশ দিন পর্যন্ত সে ঘরে নামায আদায় করা যাবে না। এটি একেবারেই একটি ভুল ধারণ। এর কোনো ভিত্তি নেই।
সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার সাথে পাক-নাপাকের কী সম্পর্ক? ঘরের কোথাও যদি নাপাকী লাগে তাহলে সে স্থান নাপাক। নাপাকী পরিষ্কার করে নিলেই তা সাথে সাথেই পাক হয়ে গেল। এর সাথে চল্লিশ দিনেরও কোনো সম্পর্ক নেই।
নেফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা চল্লিশ দিন। এখান থেকে হয়ত কেউ একথা আবিষ্কার করেছে। নিফাসের রক্ত নাপাক, এ থেকে এ কথা কীভাবে বুঝে আসে যে, নেফাসওয়ালী মহিলা যে ঘরে অবস্থান করেন অথবা যে ঘরে সন্তান ভূমিষ্ট হয় সে ঘরই নাপাক! নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক!! আল্লাহ আমাদের এ ধরনের কথা থেকে হেফাযত করুন।
📄 গোসল শেষে অজু করা
দেখা যায় যে, অনেক মানুষ গোসল শেষ করে আবার পুনরায় অজু করে। তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলে যে, নামাজ পড়বো তাই অজু করে নিলাম। এর মানে হলো তারা মনে করে নামাজ পড়ার জন্য গোসল করাটা যথেষ্ট নয়। তাই নামাজের জন্য নতুন করে ওযু করে থাকে। এটাও একটি মারাত্মক ভুল আমল।
গোসলের পর ওযু করার কোন বিধান নেই। ফরজ গোসল হলে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ও সমস্ত শরীর ধৌত করা ফরজ এবং পূর্ণ অজু করে নেওয়া সুন্নত, যা একটি গোসলেরই অংশ। তাই যথাযথ ভাবে গোসল করার পর নতুন করে আবার অজু করতে হবে এমনটি ধারণা করা ঠিক নয়।
📄 কাপড় পাক করার সময় বিসমিল্লাহ না বললে কি কাপড় পাক হয় না!
কিছু মানুষের ধারণা, নাপাক কাপড় পাক করার সময় যদি বিসমিল্লাহ বলা না হয়, তাহলে কাপড় যতই ধোওয়া হোক পাক হবে না। এটি একটি ভুল ধারণা, এর কোনো ভিত্তি নেই।
নাপাক কাপড় পাক করার জন্য ভালো করে তিনবার ধুতে হবে এবং প্রত্যেকবার কাপড়ের পানি নিংড়িয়ে নিতে হবে। নাপাকী যদি দৃশ্যমান হয় তাহলে কাপড় থেকে সে নাপাকী কোনোভাবে সরিয়ে ফেলতে হবে এবং তিনবার ভালোভাবে নিংড়িয়ে ধুতে হবে। এভাবে ধোওয়ার দ্বারাই কাপড় পবিত্র হয়ে যাবে। এর সাথে বিসমিল্লাহ বলা না বলার কোনো সম্পর্ক নেই।
তবে কাপড় পাক করা একটি নেক আমল। এর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা হলে তা তো ভালই। কিন্তু বিসমিল্লাহ বলা ছাড়া কাপড় পাক হবে না এটা ভুল মাসআলাহ।
📄 ইস্তিঞ্জা করার পর অবশিষ্ট পানি দ্বারা ওযু না করা
কোনো কোনো মানুষকে দেখা যায়, ইস্তিঞ্জা করার পর পাত্রে যে অবশিষ্ট পানি রয়েছে সে পানি দ্বারা আর ওযু করে না। মনে করে যে, ইস্তিঞ্জার অবশিষ্ট পানি দ্বারা ওযু করা যাবে না। আবার কেউ কেউ মনে করে, সে পানি নাপাক। তাদের এ ধারণা ভুল।
ইস্তিঞ্জা করার কারণে পাত্রের পানি নাপাক হয় না। সুতরাং তা দ্বারা ওযু করতে কোনো সমস্যা নেই। হাঁ, যদি এ বিষয়ে নিশ্চিত হয় যে, কোনো কারণে পানি নাপাক হয়ে গেছে, তাহলে তা ভিন্ন কথা। কিন্তু শুধু ইস্তিঞ্জার অবশিষ্ট পানি হওয়ার কারণে তা দ্বারা ওযু করা যাবে না- এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
তবে, ইস্তিঞ্জার পর অবশিষ্ট পানি যদি অপচয় না করে তা ইস্তিঞ্জার কাজেই লাগানো হয়, আর ওযু নতুন পানি দিয়ে করা হয়, সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ।