📄 ফরজ গোসল না করে কোনো কাজ করা যাবে কি?
সহবাসের পর ফরজ গোসল না করে নামায, তাওয়াফ, কুরআন তেলাওয়াত ও স্পর্শ করা এবং মসজিদে গমণ করা ছাড়া অন্যান্য সবধরণের কাজ করা যাবে।
আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে মদিনার কোন এক পথে রাসূল -এর দেখা হল। আবু হুরায়রা রাযি. তখন জানাবাতের (গোসল ফরজ) অবস্থায় ছিলেন। তিনি বলেন, আমি নিজেকে নাপাক মনে করে সরে পড়লাম। পরে আবু হুরায়রা রাযি. গোসল করে এলেন। পুনরায় সাক্ষাৎ হলে রাসূল জিজ্ঞেস করলেন, আবু হুরায়রা! কোথায় ছিলে? আবু হুরায়রা রাযি. বললেন, আমি জানাবাতের অবস্থায় আপনার সঙ্গে বসা সমীচীন মনে করি নি। নবীজী বললেন,
سُبْحَانَ اللهِ لَا يَنْجُسُ الْمُسْلِمُ ،
সুবাহানাল্লাহ্! মু'মিন নাপাক হয়না। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৭৯)
তবে অন্যান্য কাজ একেবারে নিষেধ না হলেও কোনো কাজ করার আগে গোপনাঙ্গ ধুয়ে নেয়া ও অজু করে করে নেয়ার কথা একাধিক হাদীসে এসেছে। যেমন-
عن عائشة قالت : كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا كان جنباً فأراد أن يأكل أو ينام توضأ وضوءه للصلاة
আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ জানাবাতের (গোসল ফরজ) অবস্থায় পানাহার কিংবা ঘুমানোর ইচ্ছা করলে নামাজের অজুর মত অজু করে নিতেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩০৫)
উল্লেখ্য, ফরজ গোসল বিলম্বিত হওয়ার কারণে যদি নামাজ কাজা হয়ে যায় তাহলে আপনাকে গোনাহগার হতে হবে। আপনার তীব্র লজ্জা এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য কোনো ওজর নয়; যার কারণে নামায আদায়ে এ বিলম্ব করা যেতে পারে। সুতরাং এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি।
📄 যে ঘরে সন্তান ভূমিষ্ট হয় সে ঘর কি চল্লিশ দিন নাপাক থাকে?
কিছু মানুষের ধারণা, যে ঘরে সন্তান ভূমিষ্ট হয় সে ঘর চল্লিশ দিন পর্যন্ত নাপাক থাকে। চল্লিশ দিন পর্যন্ত সে ঘরে নামায আদায় করা যাবে না। এটি একেবারেই একটি ভুল ধারণ। এর কোনো ভিত্তি নেই।
সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার সাথে পাক-নাপাকের কী সম্পর্ক? ঘরের কোথাও যদি নাপাকী লাগে তাহলে সে স্থান নাপাক। নাপাকী পরিষ্কার করে নিলেই তা সাথে সাথেই পাক হয়ে গেল। এর সাথে চল্লিশ দিনেরও কোনো সম্পর্ক নেই।
নেফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা চল্লিশ দিন। এখান থেকে হয়ত কেউ একথা আবিষ্কার করেছে। নিফাসের রক্ত নাপাক, এ থেকে এ কথা কীভাবে বুঝে আসে যে, নেফাসওয়ালী মহিলা যে ঘরে অবস্থান করেন অথবা যে ঘরে সন্তান ভূমিষ্ট হয় সে ঘরই নাপাক! নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক!! আল্লাহ আমাদের এ ধরনের কথা থেকে হেফাযত করুন।
📄 গোসল শেষে অজু করা
দেখা যায় যে, অনেক মানুষ গোসল শেষ করে আবার পুনরায় অজু করে। তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলে যে, নামাজ পড়বো তাই অজু করে নিলাম। এর মানে হলো তারা মনে করে নামাজ পড়ার জন্য গোসল করাটা যথেষ্ট নয়। তাই নামাজের জন্য নতুন করে ওযু করে থাকে। এটাও একটি মারাত্মক ভুল আমল।
গোসলের পর ওযু করার কোন বিধান নেই। ফরজ গোসল হলে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ও সমস্ত শরীর ধৌত করা ফরজ এবং পূর্ণ অজু করে নেওয়া সুন্নত, যা একটি গোসলেরই অংশ। তাই যথাযথ ভাবে গোসল করার পর নতুন করে আবার অজু করতে হবে এমনটি ধারণা করা ঠিক নয়।
📄 কাপড় পাক করার সময় বিসমিল্লাহ না বললে কি কাপড় পাক হয় না!
কিছু মানুষের ধারণা, নাপাক কাপড় পাক করার সময় যদি বিসমিল্লাহ বলা না হয়, তাহলে কাপড় যতই ধোওয়া হোক পাক হবে না। এটি একটি ভুল ধারণা, এর কোনো ভিত্তি নেই।
নাপাক কাপড় পাক করার জন্য ভালো করে তিনবার ধুতে হবে এবং প্রত্যেকবার কাপড়ের পানি নিংড়িয়ে নিতে হবে। নাপাকী যদি দৃশ্যমান হয় তাহলে কাপড় থেকে সে নাপাকী কোনোভাবে সরিয়ে ফেলতে হবে এবং তিনবার ভালোভাবে নিংড়িয়ে ধুতে হবে। এভাবে ধোওয়ার দ্বারাই কাপড় পবিত্র হয়ে যাবে। এর সাথে বিসমিল্লাহ বলা না বলার কোনো সম্পর্ক নেই।
তবে কাপড় পাক করা একটি নেক আমল। এর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা হলে তা তো ভালই। কিন্তু বিসমিল্লাহ বলা ছাড়া কাপড় পাক হবে না এটা ভুল মাসআলাহ।